Battle of Plassey, 1757
1757 · Plassey
Language Movement, 1952
1952 · Language
Liberation War, 1971
1971 · Liberation
Partition of Bengal and Swadeshi movement, 1905
1905 · Partition

Discover Bengal · Unfolded

উইলেম ভ্যান শেনডেল

স্রষ্টা/অবদানকারী

এই নামের সাথে যুক্ত সব রিসোর্স একসাথে দেখুন।

Est. 1947 · BengalA Bilingual Archive

সম্পর্কিত ইভেন্ট

৫৭

১৯০৫

বঙ্গভঙ্গ

১৯০৫ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার বাংলা প্রদেশকে বিভক্ত করে ঢাকাকে রাজধানী করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ গঠন করে। সরকারি ব্যাখ্যায় এটি ছিল প্রশাসনিক সংস্কার, কিন্তু বহু সমালোচকের কাছে এটি ছিল বাঙালির রাজনৈতিক প্রভাব দুর্বল করার বিভাজননীতি। এই সিদ্ধান্ত বয়কট, স্বদেশী আন্দোলন, নতুন সাংস্কৃতিক প্রতিবাদরূপ, এবং হিন্দু ও মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ভিন্নতর বিন্যাসকে সামনে আনে।

১৯৩৫

গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯৩৫

গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯৩৫ দেরি-ঔপনিবেশিক ভারতে সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক পুনর্গঠনের একটি, যেখানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন সম্প্রসারণ এবং নির্বাচনী কাঠামো বিস্তৃত করা হয়। বাংলায় এই নতুন বিধান জোট-রাজনীতি, আইনসভা প্রতিযোগিতা এবং প্রতিনিধিত্বের রূপ পাল্টে দেয়; ১৯৩৭-এর প্রাদেশিক নির্বাচন ও পরবর্তী বিভাজন-পর্বের সাংবিধানিক সংঘাতের ভিত এখানেই তৈরি হয়।

১৯৪৭

দেশভাগ ও পূর্ববঙ্গ

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভারত ও পাকিস্তানে বিভক্ত হয়, আর বাংলা ভাগ হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গে পরিণত হয়। কিন্তু এই অধ্যায় শুধু সাংবিধানিক বিভাজনের নয়; বিলম্বিত র‍্যাডক্লিফ সীমারেখা, সংখ্যালঘু অনিরাপত্তা, উদ্বাস্তু স্রোত, এবং প্রশাসনিক ভাঙন বাংলার দৈনন্দিন জীবনকে আমূল বদলে দেয় এবং পূর্ববঙ্গে ভাষা, স্বায়ত্তশাসন ও রাষ্ট্রীয় বৈধতার পরবর্তী সংকটের ভিত্তি তৈরি করে।

১৯৫২

ভাষা আন্দোলন

১৯৪৭-এর পর প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়, ভাষা আন্দোলন তারই ধারাবাহিকতা। গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবি, শিক্ষা ও প্রশাসনে বাংলার মর্যাদা, এবং পাকিস্তানি রাষ্ট্রের উর্দু-একক নীতির সংঘর্ষ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-তে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়; ছাত্র-জনতার ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ও পুলিশি গুলিবর্ষণ ভাষাকে বাঙালির রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের নৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করে।

১৯৫৪

পূর্ববঙ্গের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পূর্ববঙ্গে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিপুল বিজয় অর্জন করে। প্রতিনিধিত্ব, ভাষার অধিকার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের জনঅসন্তোষ এই ফলাফলে প্রতিফলিত হয় এবং আঞ্চলিক গণতান্ত্রিক দাবির রাজনীতি নতুন গতি পায়।

১৯৫৬

পাকিস্তান সংবিধান ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব

১৯৫৬ সালে পাকিস্তান প্রথম প্রজাতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করে এবং উপনিবেশিক আইনি কাঠামোর পরিবর্তে নতুন সংসদীয় ব্যবস্থা চালু হয়। তবে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য প্রতিনিধিত্ব, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন এবং দুই অংশের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি।

১৯৫৮

পাকিস্তানে সামরিক আইন

১৯৫৮ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয়; সংসদীয় রাজনীতি স্থগিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ববাদী কাঠামোয় চলে যায়। পূর্ব পাকিস্তানে এই সামরিক আইন প্রাদেশিক গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করে, আমলাতান্ত্রিক-সামরিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে, এবং প্রতিনিধিত্ব ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষকে আরও গভীর করে।

১৯৬২

পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা আন্দোলন

১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রসমাজ শরীফ কমিশন-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা নীতি ও সামরিক শাসনের বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে বড় আকারের আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলন ক্যাম্পাসভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে নতুন গতি দেয় এবং শিক্ষাগত দাবি ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে।

১৯৬৪

পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা

১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে নগরকেন্দ্রিক অঞ্চলে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে; এতে প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র অনিরাপত্তা তৈরি হয়। এই দাঙ্গা প্রশাসনিক দুর্বলতা উন্মোচন করে এবং নাগরিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সমান সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে জনমনে গভীর প্রশ্ন তোলে।

১৯৬৫

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা-অনিশ্চয়তা

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে প্রধান সামরিক সংঘর্ষ পশ্চিম ফ্রন্টে কেন্দ্রীভূত থাকলেও পূর্ব পাকিস্তান তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে অনিরাপদ অবস্থায় ছিল। পূর্ব পাকিস্তানে এই বৈষম্য নিরাপত্তা, প্রতিনিধিত্ব ও পাকিস্তানের ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে জনআতঙ্ক ও অসন্তোষ বাড়ায়।

১৯৬৬

ছয়-দফা কর্মসূচি ঘোষণা

১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয়-দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন, যা পাকিস্তানের কাঠামোর ভেতরে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের সুস্পষ্ট সাংবিধানিক দাবি হিসেবে সামনে আসে। প্রতিনিধিত্ব, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি দ্রুত বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।

১৯৬৯

গণঅভ্যুত্থান

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ সামরিক-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র, শ্রমিক, বিরোধী রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের যুগপৎ প্রতিবাদের শীর্ষ পর্ব। এই আন্দোলন আইয়ুব শাসনের ভিত্তি নড়বড়ে করে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নকে মূলধারায় আনে, এবং ১৯৭০-এর নির্বাচন ও পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের জন্য রাজনৈতিক জমিন তৈরি করে।

১৯৭০

ভোলা ঘূর্ণিঝড় ও ১৯৭০-এর নির্বাচন

১৯৭০ সালের শেষভাগে পূর্ব পাকিস্তান প্রথমে ১২ নভেম্বরের ভয়াবহ ভোলা ঘূর্ণিঝড়ে এবং তারপর ৭ ডিসেম্বরের সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারভিত্তিক পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে গভীরভাবে কেঁপে ওঠে। ঘূর্ণিঝড় প্রশাসনিক অবহেলা, ত্রাণ ব্যর্থতা ও আঞ্চলিক বৈষম্যের নির্মমতা উন্মোচন করে, আর নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ বিপুল গণরায় পায়। পরিবেশগত বিপর্যয় ও অস্বীকৃত গণরায় - এই দুই মিলেই স্বায়ত্তশাসনের রাজনীতিকে মুক্তিযুদ্ধের পূর্বমুহূর্তে এক তাৎক্ষণিক সাংবিধানিক সংকটে রূপ দেয়।

১৯৭১

মুক্তিযুদ্ধ

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ জন্ম নেয় ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় অস্বীকার, মার্চের অসহযোগ আন্দোলন, এবং ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের প্রেক্ষাপটে। পরবর্তী অধ্যায়টি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের সংঘর্ষ নয়; এখানে ছিল অস্থায়ী সরকার, সেক্টরভিত্তিক সশস্ত্র প্রতিরোধ, ভারতে গণশরণার্থী প্রবাহ, এবং ডিসেম্বরের সামরিক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম।

১৯৭২

রাষ্ট্রগঠন ও ১৯৭২-এর সংবিধান

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধজয়ের পর রাষ্ট্রগঠনের কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করে। জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে এসে নতুন সরকারকে নেতৃত্ব দেন, এপ্রিলে গণপরিষদ কাজ শুরু করে, এবং ৪ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়ে ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। এই বছর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সংসদীয় সরকার, মৌলিক অধিকার, এবং জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।

১৯৭৫

বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও পতন

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়ায়: বাকশাল কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়া, রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড, এবং ৩ নভেম্বর জেলহত্যা। এই ধারাবাহিক ঘটনা রাষ্ট্র, দলীয় রাজনীতি ও সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে বদলে দেয়।

১৯৮২

এরশাদের অভ্যুত্থান ও সামরিক শাসনের প্রত্যাবর্তন

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন, প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে অপসারণ করেন, সংবিধানের অংশবিশেষ স্থগিত করেন এবং সামরিক আইন জারি করেন। এই অভ্যুত্থান দেরি-সত্তরের অস্থিরতার পর গড়ে ওঠা ভঙ্গুর বেসামরিক পরীক্ষার ইতি টানে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে সামরিক বাহিনীকে আবার সরাসরি ফিরিয়ে আনে। এর পরের সময়টি শুধু শাসকবদল নয়; এটি ছিল নতুন এক কর্তৃত্ববাদী পর্বের সূচনা, যা প্রতিষ্ঠান, দলীয় রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের ভাষাকে নতুনভাবে গড়ে তোলে।

১৯৯০

গণঅভ্যুত্থান

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশে সামরিক-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে বহু বছরের প্রতিরোধের চূড়ান্ত পর্ব। ছাত্ররাজনীতি, ১৯৮৭-তে নূর হোসেনের শহীদ হওয়া, বিরোধী জোটগুলোর সমন্বয়, এবং পেশাজীবী-নাগরিক চাপ মিলিয়ে এমন এক শেষ ধাক্কা তৈরি হয়, যা এরশাদের পদত্যাগ ঘটায় এবং শাহাবুদ্দীন নেতৃত্বাধীন রূপান্তর ও ১৯৯১-এর সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেয়।

২০০৬-২০০৮

তত্ত্বাবধায়ক সংকট ও জরুরি শাসন

২০০৬ সালের শেষভাগ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বাংলাদেশ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে ঘিরে তীব্র সংকট অতিক্রম করে। বিতর্কিত নির্বাচন-প্রস্তুতি, রাজপথের সংঘাত, ১১ জানুয়ারির জরুরি অবস্থা এবং দীর্ঘ অনির্বাচিত প্রশাসনের পর দেশ আবার নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরে আসে।

২০০৭-২০০৮

জরুরি আমলের তত্ত্বাবধায়ক শাসন

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির জরুরি ঘোষণার পর বাংলাদেশ দীর্ঘ তত্ত্বাবধায়ক শাসনপর্বে প্রবেশ করে, যা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় সমর্থনে পরিচালিত হয়। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, রাজনৈতিক আটক এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস একটি অনির্বাচিত কাঠামোর মধ্যে চলতে থাকে; পরে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারে প্রত্যাবর্তন ঘটে। সমসাময়িক বাংলাদেশের সবচেয়ে বিতর্কিত রূপান্তরগুলোর একটি হিসেবে এই সময়কাল এখনও আলোচিত।

২০১০

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু

২০১০ সালে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালের আইনের অধীনে ১৯৭১-সংক্রান্ত অপরাধ বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম সক্রিয় করে। বহুদিনের অমীমাংসিত ন্যায়বিচারের দাবি আদালতে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে জবাবদিহি, জনস্মৃতি, প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতা এবং রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্ন নতুনভাবে সামনে আসে, যা দ্রুতই গণমোবিলাইজেশন ও পাল্টা-মবিলাইজেশনের রূপ নেয়।

২০১৩

শাহবাগ আন্দোলন

২০১৩ সালের শুরুতে ঢাকার শাহবাগে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কঠোর জবাবদিহির দাবিতে ব্যাপক গণসমাবেশ গড়ে ওঠে। শিক্ষার্থী, ব্লগার, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে শাহবাগ একটি ধারাবাহিক প্রতিবাদমঞ্চে পরিণত হয় এবং স্মৃতি-রাজনীতি ও ন্যায়বিচার জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে আসে।

২০১৮

প্রতিবাদ, নিয়ন্ত্রণ ও বিতর্কিত বৈধতার বছর

২০১৮ সালে বাংলাদেশে শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদ, আইনি নিয়ন্ত্রণের বিস্তার এবং নির্বাচনী সংঘাত দ্রুত ধারাবাহিকতায় দেখা যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন দেখায় যে শিক্ষার্থীরা ন্যায়, জবাবদিহি ও দৈনন্দিন শাসন-সংক্রান্ত প্রশ্নে দ্রুত সংগঠিত হতে পারে। পরে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট মতপ্রকাশ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়, আর বছরের শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণ, বৈধতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ককে আরও গভীর করে।

২০২৪

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন

২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন শুরু হয় সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থার পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনে নামে। এই আন্দোলন দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তা বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।

১৬৬৬ (২৭ জানুয়ারি)

চট্টগ্রামে মুঘল বিজয়

১৬৬৬ সালে স্থল-নৌ সমন্বিত অভিযানে বাংলার মুঘল প্রশাসনের অধীনে বাহিনী চট্টগ্রাম দখল করে আরাকানি নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটায়। এর মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-সীমান্ত মুঘল বাংলায় যুক্ত হয়।

১,৩০৩

সিলেট বিজয়

সিলেট বিজয় সাধারণত ১৩০৩ সালের কাছাকাছি সিলেট অঞ্চলে মুসলিম রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক নেটওয়ার্কের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত; পরবর্তী স্মৃতিতে শাহ জালাল কেন্দ্রীয়। ঘটনাটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তবে কালানুক্রম ও সামরিক ঘটনার বিস্তারিত পরবর্তী ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক ইতিহাসের ওপর নির্ভরশীল।

c. ৭০০-৭৫০

পাল উত্থানের আগে মৎস্যন্যায় পর্ব

পাল বংশের উত্থানের আগে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা দেখা যায়, যাকে প্রায়ই মৎস্যন্যায় পর্ব বলা হয়; খণ্ডিত ক্ষমতা, স্থানীয় সংঘাত এবং দুর্বল কেন্দ্রীয় শাসন সামাজিক শৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করে।

c. ১০৯৫-১২০৫

সেন উত্থান ও লক্ষ্মণ সেনের দরবারি সংস্কৃতি

সেন যুগে রাজবংশীয় সম্প্রসারণ, উচ্চবর্ণকেন্দ্রিক দরবারি সংস্কৃতির সংহতি এবং বিশেষত লক্ষ্মণ সেনের সময়ে সংস্কৃত ও বাংলা সাহিত্য-বৌদ্ধিক চর্চার উল্লেখযোগ্য পৃষ্ঠপোষকতা দেখা যায়।

১৩৩৮-১৩৫২

ইলিয়াস শাহ-পূর্ব আঞ্চলিক বাংলা সুলতানাত

শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের একীকরণের আগে লখনৌতি, সোনারগাঁ ও সাতগাঁকে ঘিরে একাধিক আঞ্চলিক সুলতানি কেন্দ্র কার্যকর ছিল; এতে খণ্ডিত হলেও গতিশীল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

১৩৫৩-১৩৫৯

ইলিয়াস শাহ ও দিল্লি সুলতানাতের সংঘাত

বাংলা একীকরণের পর সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৫৩-৫৪ সালে ফিরোজ শাহ তুঘলকের বঙ্গ অভিযানের মুখে একডালা দুর্গে আশ্রয় নেন। ইলিয়াস শাহের মৃত্যুর পর ১৩৫৯-৬০ সালের দ্বিতীয় দিল্লি অভিযানও বাংলার ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়।

১৪১৫-১৪৩৩

রাজা গণেশ-জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ রূপান্তর পর্ব

রাজা গণেশের ক্ষমতা দখলের পর জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহে রূপান্তর বাংলায় রাজকীয় বৈধতা, ধর্মীয় সম্পর্ক এবং দরবারি শাসনের এক সমঝোতাভিত্তিক পুনর্গঠনকে নির্দেশ করে।

১৫১৯-১৫৩৩

নুসরাত শাহের শাসনকাল

নুসরাত শাহের শাসনে বাংলা দরবারি শাসন, কূটনীতি ও হুসাইন শাহী রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক অবস্থান ধরে রাখে।

১৬৬৪-১৬৮৮

শায়েস্তা খানের বাংলার সুবাদারি

শায়েস্তা খানের দীর্ঘ সুবাদারি শাসনে সামরিক অভিযান, নগর-বাণিজ্যিক বিস্তার এবং মুঘল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায়; চট্টগ্রাম প্রশ্নও এই পর্বে গুরুত্বপূর্ণ।

১৬৯০

কলকাতায় ইংরেজ বসতি স্থাপন

১৬৯০ সালে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতায় বসতি সুসংহত করে; এটি বাংলায় পরবর্তী ঔপনিবেশিক বিস্তারের প্রাতিষ্ঠানিক-বাণিজ্যিক ভিত্তি তৈরি করে।

১৭৫৬

সিরাজউদ্দৌলার কলকাতা দখল

১৭৫৬ সালে কোম্পানির দুর্গায়ন ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করেন; এতে উত্তেজনা বেড়ে অচিরেই পলাশীর দিকে পরিস্থিতি গড়ায়।

১৮৫৯-১৮৬০

নীল বিদ্রোহ

নীল বিদ্রোহে বাংলার কৃষকরা শোষণমূলক নীলকর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগঠিত হন; স্থানীয় প্রতিরোধ, আইনি লড়াই ও জনআলোচনা একসঙ্গে ঔপনিবেশিক সমাজে বড় প্রশ্ন তোলে।

১৯২১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পূর্ব বাংলায় এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও বৌদ্ধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক সংগঠন, ভাষা-আন্দোলন ও জননেতৃত্ব গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে।

১৯২৩

বেঙ্গল প্যাক্ট

বেঙ্গল প্যাক্ট সাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক সহযোগিতার এক সমঝোতাভিত্তিক কাঠামো প্রস্তাব করে; ঔপনিবেশিক বাংলায় আন্তঃসম্প্রদায়িক ক্ষমতা-ভাগাভাগির সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা—দুটিই এতে ফুটে ওঠে।

১৯৪৭

যুক্ত বাংলা প্রস্তাব

১৯৪৭ সালে কিছু রাজনৈতিক নেতা বাংলাকে অবিভক্ত রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে রাখার জন্য যুক্ত বাংলা প্রস্তাব উত্থাপন করেন; কিন্তু সর্বভারতীয় বিভাজন আলোচনার চাপ ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের মধ্যে পরিকল্পনাটি ব্যর্থ হয়।

১৯৪৭

সিলেট গণভোট

১৯৪৭ সালের সিলেট গণভোটে সিলেটের বড় অংশ আসাম থেকে পূর্ব বাংলা (পাকিস্তান)-এ যুক্ত হয়; ফলে জনসংখ্যা, জেলা-ভিত্তিক ভোট এবং সীমান্ত নির্ধারণের সম্পর্ক কেন্দ্রীয় হয়ে ওঠে।

৭ মার্চ ১৯৭১

৭ মার্চের ভাষণ

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ রাজনৈতিক প্রতিরোধকে ঐক্যবদ্ধ করে, অসহযোগকে সমন্বিত করে এবং জনসমাজকে সিদ্ধান্তমূলক সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত করে।

এপ্রিল ১৯৭১

মুজিবনগর সরকার

১৯৭১ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতারা মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার গঠন করেন, যা যুদ্ধকালীন রাষ্ট্রগঠনের সাংবিধানিক ও কূটনৈতিক কাঠামো নিশ্চিত করে।

৩ নভেম্বর ১৯৭৫

জেল হত্যা

১৯৭৫-পরবর্তী শাসন-সংকটের মধ্যে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বাংলাদেশের চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়; এতে প্রাতিষ্ঠানিক ভাঙন ও রাজনৈতিক আতঙ্ক আরও তীব্র হয়।

১৯৯১

সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন

১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচন ও সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ১৯৯১ সালে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন করে; এতে নির্বাহী-আইনসভার ভারসাম্য নতুনভাবে নির্ধারিত হয়।

১৯৯৬

ত্রয়োদশ সংশোধন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ত্রয়োদশ সংশোধন গ্রহণ করে, যার মাধ্যমে সংসদীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। বিরোধী দলের বয়কট, বিতর্কিত ফেব্রুয়ারি নির্বাচন, এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন প্রশাসনের দাবির প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী বিশ্বাসযোগ্যতা এক সাংবিধানিক প্রশ্নে পরিণত হয়।

প্রাচীন বদ্বীপ রাষ্ট্রসমূহ (গঙ্গারিডাই প্রেক্ষিত)

প্রাচীন বদ্বীপ রাষ্ট্রসমূহ (গঙ্গারিডাই প্রেক্ষিত) বাংলা/বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড়।

1230s

দিল্লি শাসনাধীনে বাংলা ও খণ্ডীকরণ

দিল্লি শাসনাধীনে বাংলা ও খণ্ডীকরণ বাংলা/বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড়।

১,৭৮১

রংপুর ধিং বিদ্রোহ

রংপুর ধিং বিদ্রোহ বাংলা/বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড়।

১,৮২৮

ব্রাহ্ম সমাজ ও বাংলার সামাজিক সংস্কার

১৮২৮ সালে কলকাতায় রাজা রামমোহন রায় ও তাঁর সহযোগীরা ব্রাহ্ম সভা/ব্রাহ্ম সমাজ গড়ে তোলেন। এটি উনিশ শতকের বাংলায় ধর্মীয় সংস্কার, একেশ্বরবাদী উপাসনা, সামাজিক সমালোচনা ও আধুনিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিসর হয়ে ওঠে।

১,৮৩৫

ম্যাকলে শিক্ষা নীতির বাংলায় প্রভাব

ম্যাকলে শিক্ষা নীতির বাংলায় প্রভাব বাংলা/বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড়।

১,৮৬১

ইন্ডিয়ান কাউন্সিলস অ্যাক্ট ও বাংলায় সীমিত প্রতিনিধিত্ব

ইন্ডিয়ান কাউন্সিলস অ্যাক্ট ও বাংলায় সীমিত প্রতিনিধিত্ব বাংলা/বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড়।

১,৮৭৬

ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ও কলকাতা রাজনৈতিক সংগঠন

ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ও কলকাতা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলা/বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড়।

১,৮৮৫

ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠন ও বাংলার প্রতিক্রিয়া

ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস গঠন ও বাংলার প্রতিক্রিয়া বাংলা/বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড়।

১,৯০৯

মিন্টো-মরলে সংস্কার ও বাংলায় পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী

মিন্টো-মরলে সংস্কার ও বাংলায় পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী বাংলা/বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড়।

১,৯১৬

লখনৌ চুক্তি ও বাংলার প্রভাব

লখনৌ চুক্তি ও বাংলার প্রভাব বাংলা/বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড়।

১,৯৬৩

হজরতবল সংকট ও পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা

হজরতবল সংকট ও পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাংলা/বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড়।

১,৯৬৭

নকশালবাড়ি বিদ্রোহ ও বাংলায় বামপন্থী র‌্যাডিকালাইজেশন

নকশালবাড়ি বিদ্রোহ ও বাংলায় বামপন্থী র‌্যাডিকালাইজেশন বাংলা/বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিপথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মোড়।