Battle of Plassey, 1757
1757 · Plassey
Language Movement, 1952
1952 · Language
Liberation War, 1971
1971 · Liberation
Partition of Bengal and Swadeshi movement, 1905
1905 · Partition

Discover Bengal · Unfolded

বিভিন্ন লেখক

স্রষ্টা/অবদানকারী

এই নামের সাথে যুক্ত সব রিসোর্স একসাথে দেখুন।

Est. 1947 · BengalA Bilingual Archive

সম্পর্কিত ইভেন্ট

১৫

১৯০৬

ঢাকায় অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা

১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় মুহাম্মদান এডুকেশনাল কনফারেন্সের প্রেক্ষাপটে অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সংগঠন ব্রিটিশ ভারতের সাংবিধানিক রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে রূপ দেয় এবং পরবর্তী দেশভাগ-পর্বের আলোচনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা নেয়।

১৯১১

বাংলা বিভাজন রদ

১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ সিদ্ধান্ত বাতিল করে বাংলা পুনরায় একীভূত প্রদেশে রূপ দেয়। ধারাবাহিক প্রতিবাদ, বয়কট ও রাজনৈতিক সংগঠনের চাপে এই সিদ্ধান্ত আসে; একই সাথে ক্যালকাটা থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তরের মাধ্যমে ঔপনিবেশিক প্রশাসন নতুন কৌশলগত বিন্যাসও তৈরি করে।

১৯৩০

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল সূর্য সেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা চট্টগ্রামে ব্রিটিশ অস্ত্রাগার ও যোগাযোগব্যবস্থার ওপর সমন্বিত আক্রমণ পরিচালনা করে। সামরিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হলেও এটি বঙ্গের ঔপনিবেশিক-বিরোধী সংগ্রামের অন্যতম প্রতীকী অধ্যায়ে পরিণত হয়।

১৯৪৩

বাংলার দুর্ভিক্ষ

১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষে ভয়াবহ অনাহার ও মৃত্যুর ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধকালীন অস্থিরতা, চালের বাজারে মূল্যস্ফীতি, পরিবহন-সংকট, ত্রাণব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের নীতিগত ভাঙন সংকটকে আরও তীব্র করে, যার প্রধান আঘাত পড়ে গ্রামীণ পরিবার, শ্রমজীবী মানুষ এবং শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর।

১৯৪৯

আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা

১৯৪৯ সালে ঢাকায় আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে একটি সংগঠিত বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। পরবর্তীতে দলটি আওয়ামী লীগে রূপান্তরিত হয়ে স্বায়ত্তশাসন-সংগ্রাম ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার রাজনৈতিক ধারায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে।

১৯৫৪

পূর্ববঙ্গের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পূর্ববঙ্গে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিপুল বিজয় অর্জন করে। প্রতিনিধিত্ব, ভাষার অধিকার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের জনঅসন্তোষ এই ফলাফলে প্রতিফলিত হয় এবং আঞ্চলিক গণতান্ত্রিক দাবির রাজনীতি নতুন গতি পায়।

১৯৫৬

পাকিস্তান সংবিধান ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব

১৯৫৬ সালে পাকিস্তান প্রথম প্রজাতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করে এবং উপনিবেশিক আইনি কাঠামোর পরিবর্তে নতুন সংসদীয় ব্যবস্থা চালু হয়। তবে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য প্রতিনিধিত্ব, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন এবং দুই অংশের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি।

১৯৫৮

পাকিস্তানে সামরিক আইন

১৯৫৮ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয়; সংসদীয় রাজনীতি স্থগিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ববাদী কাঠামোয় চলে যায়। পূর্ব পাকিস্তানে এই সামরিক আইন প্রাদেশিক গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করে, আমলাতান্ত্রিক-সামরিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে, এবং প্রতিনিধিত্ব ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষকে আরও গভীর করে।

১৯৬২

পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা আন্দোলন

১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রসমাজ শরীফ কমিশন-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা নীতি ও সামরিক শাসনের বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে বড় আকারের আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলন ক্যাম্পাসভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে নতুন গতি দেয় এবং শিক্ষাগত দাবি ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে।

১৯৬৪

পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা

১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে নগরকেন্দ্রিক অঞ্চলে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে; এতে প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র অনিরাপত্তা তৈরি হয়। এই দাঙ্গা প্রশাসনিক দুর্বলতা উন্মোচন করে এবং নাগরিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সমান সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে জনমনে গভীর প্রশ্ন তোলে।

১৯৬৫

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা-অনিশ্চয়তা

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে প্রধান সামরিক সংঘর্ষ পশ্চিম ফ্রন্টে কেন্দ্রীভূত থাকলেও পূর্ব পাকিস্তান তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে অনিরাপদ অবস্থায় ছিল। পূর্ব পাকিস্তানে এই বৈষম্য নিরাপত্তা, প্রতিনিধিত্ব ও পাকিস্তানের ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে জনআতঙ্ক ও অসন্তোষ বাড়ায়।

১৯৬৬

ছয়-দফা কর্মসূচি ঘোষণা

১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয়-দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন, যা পাকিস্তানের কাঠামোর ভেতরে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের সুস্পষ্ট সাংবিধানিক দাবি হিসেবে সামনে আসে। প্রতিনিধিত্ব, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি দ্রুত বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।

১৯৬৯

গণঅভ্যুত্থান

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ সামরিক-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র, শ্রমিক, বিরোধী রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের যুগপৎ প্রতিবাদের শীর্ষ পর্ব। এই আন্দোলন আইয়ুব শাসনের ভিত্তি নড়বড়ে করে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নকে মূলধারায় আনে, এবং ১৯৭০-এর নির্বাচন ও পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের জন্য রাজনৈতিক জমিন তৈরি করে।

২০১৩

শাহবাগ আন্দোলন

২০১৩ সালের শুরুতে ঢাকার শাহবাগে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কঠোর জবাবদিহির দাবিতে ব্যাপক গণসমাবেশ গড়ে ওঠে। শিক্ষার্থী, ব্লগার, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে শাহবাগ একটি ধারাবাহিক প্রতিবাদমঞ্চে পরিণত হয় এবং স্মৃতি-রাজনীতি ও ন্যায়বিচার জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে আসে।

২০২৪

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন

২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন শুরু হয় সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থার পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনে নামে। এই আন্দোলন দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তা বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।