শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
নেতৃত্বব্যক্তি
বাংলার সুলতান
“শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রধান সুলতানি অঞ্চলগুলো একত্র করে ইলিয়াস শাহী রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।”
চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ বাংলা সুলতানাত গঠনের সঙ্গে তার নাম ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠার আগে বাংলার রাজনৈতিক বিভাজনের প্রেক্ষাপট।
তার ঐক্যপ্রক্রিয়া বাংলাকে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।
১৩৫২বাংলা সুলতানাতরাষ্ট্রগঠন
বিস্তারিত→ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
নেতৃত্বব্যক্তি
স্বাধীন সোনারগাঁ সুলতানাতের প্রতিষ্ঠাতা
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সোনারগাঁয়ের তুঘলক গভর্নর বাহরাম খানের অস্ত্রাগার-তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। বাহরাম খানের মৃত্যুর পর তিনি ক্ষমতা দখল করে ১৩৩৮ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং সোনারগাঁকে কেন্দ্র করে বাংলার প্রাচীনতম স্বাধীন মুসলিম সুলতানি রাজ্যগুলোর একটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তিনি চট্টগ্রামসহ পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলার কয়েকটি অঞ্চলে কর্তৃত্ব বিস্তার করেন।
বাংলায় দিল্লির সরাসরি কর্তৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ার পরের রাজনৈতিক বিভাজন। ফখরুদ্দিনের সোনারগাঁ রাজ্য লখনৌতি ও সাতগাঁয়ের শাসকদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত এবং নদী, বন্দর ও নৌবাহিনী ব্যবহার করে নিজের ক্ষমতা বিস্তার করত।
তাঁর শাসনে রাষ্ট্রগঠন বাণিজ্য ও নগরসমৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হয়। ১৩৪৬ সালে বাংলায় আসা ইবন বতুতা বিপুল পণ্য, সক্রিয় বাণিজ্য এবং চীন ও জাভার সঙ্গে সোনারগাঁয়ের যোগাযোগের কথা লিখেছেন। মুদ্রা, প্রাদেশিক প্রশাসন ও চট্টগ্রাম বিজয় তাঁর সুলতানাতের প্রাতিষ্ঠানিক বিস্তারের সাক্ষ্য দেয়; ১৩৫২ সালে ইলিয়াস শাহ বাংলা একত্রিত করেন।
সোনারগাঁবাংলা-সুলতানাতচট্টগ্রামইবন-বতুতা
বিস্তারিত→সিকান্দার শাহ
নেতৃত্বব্যক্তি
বাংলার ইলিয়াস শাহী সুলতান
সিকান্দার শাহ ১৩৫৮ সালে তাঁর পিতা শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের উত্তরসূরি হন এবং প্রায় ৩৩ বছর বাংলা শাসন করেন। ১৩৫৯–১৩৬০ সালে দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক বাংলা আক্রমণ করলে তিনি একডালা দুর্গকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতা রক্ষা করেন এবং শেষ পর্যন্ত এমন সন্ধি করেন যা দিল্লি ভঙ্গ করতে পারেনি।
চতুর্দশ শতকে ঐক্যবদ্ধ বাংলা সুলতানাতের সংহতির সময়, যখন ইলিয়াস শাহী শাসকেরা বাংলায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করছিলেন এবং দিল্লি সাম্রাজ্যিক নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছিল। সিকান্দারের শাসনে সীমান্ত প্রতিরক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসন ও রাজকীয় স্থাপত্যপৃষ্ঠপোষকতা একসঙ্গে চলেছিল।
সিকান্দার শাহ ১৩৭৩ সালে পান্ডুয়ায় আদিনা মসজিদ নির্মাণ করান, যা মধ্যযুগীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম ও উচ্চাভিলাষী মসজিদগুলোর একটি। এর ঘেরা প্রাঙ্গণ, ভল্টযুক্ত কেন্দ্রীয় নেভ, রাজকীয় গ্যালারি ও বিশাল পরিসর স্বাধীন বাংলা দরবারের ক্ষমতা প্রকাশ করে এবং পরবর্তী সুলতানি স্থাপত্যকে প্রভাবিত করে। প্রায় ১৩৯০ সালে পুত্রের সঙ্গে সংঘর্ষে তাঁর মৃত্যু হয়; তাঁর উত্তরসূরি হন গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ।
ইলিয়াস-শাহীবাংলা-সুলতানাতআদিনা-মসজিদপান্ডুয়া
বিস্তারিত→