Battle of Plassey, 1757
1757 · Plassey
Language Movement, 1952
1952 · Language
Liberation War, 1971
1971 · Liberation
Partition of Bengal and Swadeshi movement, 1905
1905 · Partition

Discover Bengal · Unfolded

লরেন্স জিরিং

স্রষ্টা/অবদানকারী

এই নামের সাথে যুক্ত সব রিসোর্স একসাথে দেখুন।

Est. 1947 · BengalA Bilingual Archive

সম্পর্কিত ইভেন্ট

১২

১৯৫৪

পূর্ববঙ্গের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পূর্ববঙ্গে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিপুল বিজয় অর্জন করে। প্রতিনিধিত্ব, ভাষার অধিকার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের জনঅসন্তোষ এই ফলাফলে প্রতিফলিত হয় এবং আঞ্চলিক গণতান্ত্রিক দাবির রাজনীতি নতুন গতি পায়।

১৯৫৬

পাকিস্তান সংবিধান ও পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব

১৯৫৬ সালে পাকিস্তান প্রথম প্রজাতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করে এবং উপনিবেশিক আইনি কাঠামোর পরিবর্তে নতুন সংসদীয় ব্যবস্থা চালু হয়। তবে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য প্রতিনিধিত্ব, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন এবং দুই অংশের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি।

১৯৫৮

পাকিস্তানে সামরিক আইন

১৯৫৮ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয়; সংসদীয় রাজনীতি স্থগিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ববাদী কাঠামোয় চলে যায়। পূর্ব পাকিস্তানে এই সামরিক আইন প্রাদেশিক গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করে, আমলাতান্ত্রিক-সামরিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে, এবং প্রতিনিধিত্ব ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষকে আরও গভীর করে।

১৯৬৪

পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা

১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে নগরকেন্দ্রিক অঞ্চলে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে; এতে প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র অনিরাপত্তা তৈরি হয়। এই দাঙ্গা প্রশাসনিক দুর্বলতা উন্মোচন করে এবং নাগরিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সমান সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে জনমনে গভীর প্রশ্ন তোলে।

১৯৬৫

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা-অনিশ্চয়তা

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে প্রধান সামরিক সংঘর্ষ পশ্চিম ফ্রন্টে কেন্দ্রীভূত থাকলেও পূর্ব পাকিস্তান তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে অনিরাপদ অবস্থায় ছিল। পূর্ব পাকিস্তানে এই বৈষম্য নিরাপত্তা, প্রতিনিধিত্ব ও পাকিস্তানের ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে জনআতঙ্ক ও অসন্তোষ বাড়ায়।

১৯৬৬

ছয়-দফা কর্মসূচি ঘোষণা

১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয়-দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন, যা পাকিস্তানের কাঠামোর ভেতরে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের সুস্পষ্ট সাংবিধানিক দাবি হিসেবে সামনে আসে। প্রতিনিধিত্ব, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি দ্রুত বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।

১৯৬৯

গণঅভ্যুত্থান

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ সামরিক-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র, শ্রমিক, বিরোধী রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের যুগপৎ প্রতিবাদের শীর্ষ পর্ব। এই আন্দোলন আইয়ুব শাসনের ভিত্তি নড়বড়ে করে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নকে মূলধারায় আনে, এবং ১৯৭০-এর নির্বাচন ও পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের জন্য রাজনৈতিক জমিন তৈরি করে।

১৯৭১

মুক্তিযুদ্ধ

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ জন্ম নেয় ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় অস্বীকার, মার্চের অসহযোগ আন্দোলন, এবং ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের প্রেক্ষাপটে। পরবর্তী অধ্যায়টি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের সংঘর্ষ নয়; এখানে ছিল অস্থায়ী সরকার, সেক্টরভিত্তিক সশস্ত্র প্রতিরোধ, ভারতে গণশরণার্থী প্রবাহ, এবং ডিসেম্বরের সামরিক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম।

১৯৭৫

বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও পতন

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়ায়: বাকশাল কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়া, রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড, এবং ৩ নভেম্বর জেলহত্যা। এই ধারাবাহিক ঘটনা রাষ্ট্র, দলীয় রাজনীতি ও সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে বদলে দেয়।

১৯৮২

এরশাদের অভ্যুত্থান ও সামরিক শাসনের প্রত্যাবর্তন

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন, প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে অপসারণ করেন, সংবিধানের অংশবিশেষ স্থগিত করেন এবং সামরিক আইন জারি করেন। এই অভ্যুত্থান দেরি-সত্তরের অস্থিরতার পর গড়ে ওঠা ভঙ্গুর বেসামরিক পরীক্ষার ইতি টানে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে সামরিক বাহিনীকে আবার সরাসরি ফিরিয়ে আনে। এর পরের সময়টি শুধু শাসকবদল নয়; এটি ছিল নতুন এক কর্তৃত্ববাদী পর্বের সূচনা, যা প্রতিষ্ঠান, দলীয় রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের ভাষাকে নতুনভাবে গড়ে তোলে।

১,৯৮১

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক বিদ্রোহের সময় নিহত হন। পরবর্তী সময়ে দায় নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক, মেজর জেনারেল এম. এ. মঞ্জুরের মৃত্যু এবং আবদুস সাত্তারের অধীনে বেসামরিক উত্তরাধিকার দেখা যায়; এরপর ১৯৮২ সালে এরশাদের অভ্যুত্থান ঘটে।

১৯৯০

গণঅভ্যুত্থান

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশে সামরিক-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে বহু বছরের প্রতিরোধের চূড়ান্ত পর্ব। ছাত্ররাজনীতি, ১৯৮৭-তে নূর হোসেনের শহীদ হওয়া, বিরোধী জোটগুলোর সমন্বয়, এবং পেশাজীবী-নাগরিক চাপ মিলিয়ে এমন এক শেষ ধাক্কা তৈরি হয়, যা এরশাদের পদত্যাগ ঘটায় এবং শাহাবুদ্দীন নেতৃত্বাধীন রূপান্তর ও ১৯৯১-এর সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেয়।