Discover Bengal · Unfolded
❦হাবিবুল খন্দকার, ওলাভ মুলারলিঙ্ক, আসিফ বিন আলি
স্রষ্টা/অবদানকারী
এই নামের সাথে যুক্ত সব রিসোর্স একসাথে দেখুন।
সম্পর্কিত ইভেন্ট
১১
১৯৫২
ভাষা আন্দোলন
১৯৪৭-এর পর প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়, ভাষা আন্দোলন তারই ধারাবাহিকতা। গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবি, শিক্ষা ও প্রশাসনে বাংলার মর্যাদা, এবং পাকিস্তানি রাষ্ট্রের উর্দু-একক নীতির সংঘর্ষ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-তে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়; ছাত্র-জনতার ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ও পুলিশি গুলিবর্ষণ ভাষাকে বাঙালির রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের নৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করে।
১৯৫৪
পূর্ববঙ্গের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পূর্ববঙ্গে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিপুল বিজয় অর্জন করে। প্রতিনিধিত্ব, ভাষার অধিকার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের জনঅসন্তোষ এই ফলাফলে প্রতিফলিত হয় এবং আঞ্চলিক গণতান্ত্রিক দাবির রাজনীতি নতুন গতি পায়।
১৯৫৮
পাকিস্তানে সামরিক আইন
১৯৫৮ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয়; সংসদীয় রাজনীতি স্থগিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ববাদী কাঠামোয় চলে যায়। পূর্ব পাকিস্তানে এই সামরিক আইন প্রাদেশিক গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করে, আমলাতান্ত্রিক-সামরিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে, এবং প্রতিনিধিত্ব ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষকে আরও গভীর করে।
১৯৬২
পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা আন্দোলন
১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রসমাজ শরীফ কমিশন-সংশ্লিষ্ট শিক্ষা নীতি ও সামরিক শাসনের বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে বড় আকারের আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলন ক্যাম্পাসভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে নতুন গতি দেয় এবং শিক্ষাগত দাবি ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করে।
১৯৬৪
পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা
১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে নগরকেন্দ্রিক অঞ্চলে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে; এতে প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র অনিরাপত্তা তৈরি হয়। এই দাঙ্গা প্রশাসনিক দুর্বলতা উন্মোচন করে এবং নাগরিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সমান সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে জনমনে গভীর প্রশ্ন তোলে।
১৯৬৫
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ও পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা-অনিশ্চয়তা
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে প্রধান সামরিক সংঘর্ষ পশ্চিম ফ্রন্টে কেন্দ্রীভূত থাকলেও পূর্ব পাকিস্তান তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে অনিরাপদ অবস্থায় ছিল। পূর্ব পাকিস্তানে এই বৈষম্য নিরাপত্তা, প্রতিনিধিত্ব ও পাকিস্তানের ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে জনআতঙ্ক ও অসন্তোষ বাড়ায়।
১৯৬৬
ছয়-দফা কর্মসূচি ঘোষণা
১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয়-দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন, যা পাকিস্তানের কাঠামোর ভেতরে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের সুস্পষ্ট সাংবিধানিক দাবি হিসেবে সামনে আসে। প্রতিনিধিত্ব, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি দ্রুত বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
১৯৬৯
গণঅভ্যুত্থান
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ সামরিক-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র, শ্রমিক, বিরোধী রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের যুগপৎ প্রতিবাদের শীর্ষ পর্ব। এই আন্দোলন আইয়ুব শাসনের ভিত্তি নড়বড়ে করে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নকে মূলধারায় আনে, এবং ১৯৭০-এর নির্বাচন ও পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের জন্য রাজনৈতিক জমিন তৈরি করে।
১৯৭০
ভোলা ঘূর্ণিঝড় ও ১৯৭০-এর নির্বাচন
১৯৭০ সালের শেষভাগে পূর্ব পাকিস্তান প্রথমে ১২ নভেম্বরের ভয়াবহ ভোলা ঘূর্ণিঝড়ে এবং তারপর ৭ ডিসেম্বরের সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারভিত্তিক পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে গভীরভাবে কেঁপে ওঠে। ঘূর্ণিঝড় প্রশাসনিক অবহেলা, ত্রাণ ব্যর্থতা ও আঞ্চলিক বৈষম্যের নির্মমতা উন্মোচন করে, আর নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ বিপুল গণরায় পায়। পরিবেশগত বিপর্যয় ও অস্বীকৃত গণরায় - এই দুই মিলেই স্বায়ত্তশাসনের রাজনীতিকে মুক্তিযুদ্ধের পূর্বমুহূর্তে এক তাৎক্ষণিক সাংবিধানিক সংকটে রূপ দেয়।
১৯৭১
মুক্তিযুদ্ধ
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ জন্ম নেয় ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় অস্বীকার, মার্চের অসহযোগ আন্দোলন, এবং ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের প্রেক্ষাপটে। পরবর্তী অধ্যায়টি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের সংঘর্ষ নয়; এখানে ছিল অস্থায়ী সরকার, সেক্টরভিত্তিক সশস্ত্র প্রতিরোধ, ভারতে গণশরণার্থী প্রবাহ, এবং ডিসেম্বরের সামরিক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম।
১৯৭২
রাষ্ট্রগঠন ও ১৯৭২-এর সংবিধান
১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধজয়ের পর রাষ্ট্রগঠনের কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করে। জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে এসে নতুন সরকারকে নেতৃত্ব দেন, এপ্রিলে গণপরিষদ কাজ শুরু করে, এবং ৪ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়ে ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। এই বছর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সংসদীয় সরকার, মৌলিক অধিকার, এবং জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।