ইয়াহিয়া খান
নেতৃত্বব্যক্তি
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক শাসক
তিনি জনসংখ্যাভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের কাঠামোয় ১৯৭০-এর নির্বাচন তত্ত্বাবধান করেন, কিন্তু পরে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সংকট আরও গভীর করেন।
১৯৬৯-১৯৭১: যুদ্ধপূর্ব পাকিস্তানের সামরিক রাষ্ট্রব্যবস্থা।
তার শাসন নির্বাচনী উন্মুক্ততা, সাংবিধানিক অচলাবস্থা এবং শেষ পর্যন্ত সামরিক দমনাভিযানকে এক সূত্রে বেঁধে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীনতার পথে ঠেলে দেয়।
১৯৭১মুক্তিযুদ্ধসামরিক নেতৃত্ব
বিস্তারিত→শেখ মুজিবুর রহমান
নেতৃত্বব্যক্তি
ছাত্রসংগঠক ও জাতীয় নেতা
“ছয় দফা, ১৯৭০-এর ম্যান্ডেট ও ৭ মার্চের ভাষণ তাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কণ্ঠে পরিণত করে।”
ছয় দফা স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনী ম্যান্ডেট এবং ১৯৭১ সালের মার্চের গণমোবিলাইজেশনের মাধ্যমে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের সাংবিধানিক সংকটকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে রূপ দেন।
পূর্ববঙ্গ ও পূর্ব পাকিস্তান, ১৯৪৮-১৯৭১; ভাষা-রাজনীতির শুরু থেকে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার সংগ্রাম।
ভাষার অধিকার, নির্বাচনী প্রতিনিধিত্ব ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে তিনি বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রগঠনের গণদাবিতে পরিণত করেন।
ভাষা অধিকারস্বায়ত্তশাসনজাতীয়তাবাদ
বিস্তারিত→এ. এ. কে. নিয়াজি
নেতৃত্বব্যক্তি
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ. এ. কে. নিয়াজি ১৯৭১ সালের সংকটময় মাসগুলোতে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানের ইস্টার্ন কমান্ডের নেতৃত্ব দেন। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় আত্মসমর্পণপত্রে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে তিনি ওই ভূখণ্ডে পাকিস্তানি সামরিক শাসনের অবসান এবং বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সঙ্গে যুক্ত হন।
সামরিক দমন-পীড়ন শুরু হওয়ার পর ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে নিয়াজি ইস্টার্ন কমান্ডের দায়িত্ব নেন। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর অভিযান, ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপ, ভূখণ্ড ও যোগাযোগ হারানো এবং ঢাকাকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা পাকিস্তানি কমান্ডকে দুর্বল করে। তাঁর থিয়েটার-পর্যায়ের দায়িত্বকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামরিক কমান্ড কাঠামো এবং নির্যাতনে জড়িত বিভিন্ন ইউনিট ও সহযোগী বাহিনীর ভূমিকা থেকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ ঢাকার রমনা রেসকোর্সে নিয়াজি যৌথ বাংলাদেশ–ভারত কমান্ডের প্রতিনিধিত্বকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণপত্রে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানে যুদ্ধের অবসান ঘটে; নিয়াজি ও অন্যান্য পাকিস্তানি সামরিক সদস্যকে ১৯৭৩ সালে প্রত্যাবাসনের আগে যুদ্ধবন্দি হিসেবে রাখা হয়।
১৯৭১মুক্তিযুদ্ধসামরিক নেতৃত্ব
বিস্তারিত→টিক্কা খান
নেতৃত্বব্যক্তি
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেল
১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের গভর্নর ও কমান্ডার হিসেবে টিক্কা খান পূর্ব পাকিস্তানে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনাকারী সামরিক নেতৃত্বের অংশ ছিলেন।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত নেতৃত্বের সাংবিধানিক সংকটের মধ্যে ২৫ মার্চ ১৯৭১ অপারেশন সার্চলাইট শুরু হয়; কমান্ডের ধারাবাহিকতা ও সহিংসতার পরিসর নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে।
১৯৭১ সালের দমন অভিযানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামো, বাংলাদেশের স্মৃতিতে থাকা সহিংসতা এবং মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক পটভূমি বোঝার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
১৯৭১মুক্তিযুদ্ধসামরিক নেতৃত্ব
বিস্তারিত→রাও ফরমান আলী
নেতৃত্বব্যক্তি
অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল
“অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা ও বুদ্ধিজীবী হত্যার স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানি কমান্ড ব্যক্তিত্ব।”
রাও ফরমান আলী বাংলাদেশি স্মৃতি ও প্রতিবেদনে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা এবং যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত।
১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও সামরিক আইন কাঠামো, বিশেষত ঢাকা-কেন্দ্রিক পরিকল্পনা এবং যুদ্ধশেষের বুদ্ধিজীবী হত্যার বিবরণ।
তার নাম মুক্তিযুদ্ধের গণসহিংসতার পরিকল্পনা, কমান্ড দায় এবং দলিলভিত্তিক স্মৃতি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকে।
১৯৭১অপারেশন সার্চলাইটপাকিস্তান সেনাবাহিনীবুদ্ধিজীবী হত্যা
বিস্তারিত→