মঙ্গল পান্ডে
শহীদব্যক্তি
ব্যারাকপুর বিদ্রোহের সূচনাকারী সিপাহী
“ব্যারাকপুরে ২৯ মার্চ ১৮৫৭-এর মঙ্গল পান্ডের পদক্ষেপ বিদ্রোহের পরিচিত প্রাথমিক স্ফুলিঙ্গগুলোর একটি।”
২৯ মার্চ ১৮৫৭ ব্যারাকপুরে সিপাহী মঙ্গল পান্ডে ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের আক্রমণ করেন; পরবর্তী ইতিহাসে ঘটনাটি বিদ্রোহের প্রাথমিক স্ফুলিঙ্গ হিসেবে স্মরণীয়।
১৮৫৭-১৮৫৯ সময়কালে উত্তর ও মধ্য ভারতের ঔপনিবেশিকবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান।
তাঁর পদক্ষেপ ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পরবর্তী স্মৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়; বৃহত্তর বিদ্রোহটি অবশ্য বহু আঞ্চলিক কারণ ও অংশগ্রহণকারীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে।
১৮৫৭বিদ্রোহবিরোধী ঔপনিবেশিক
বিস্তারিত→বাহাদুর শাহ দ্বিতীয়
নেতৃত্বব্যক্তি
শেষ মুঘল সম্রাট ও ১৮৫৭ বিদ্রোহের প্রতীকী নেতা
“দিল্লিতে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের প্রতীকী সম্রাট ঘোষিত শেষ মুঘল সম্রাট।”
বাহাদুর শাহ দ্বিতীয় ছিলেন শেষ মুঘল সম্রাট; ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে দিল্লিতে বিদ্রোহী বাহিনী তাঁকে প্রতীকী সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করে।
তাঁর দরবার বিদ্রোহকে মুঘল বৈধতার প্রতীক দেয়, কিন্তু সামরিক কমান্ড বখত খানের মতো আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে বিভক্ত ছিল। দিল্লি পুনর্দখলের পর তাঁকে বিচার করে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।
বিদ্রোহী প্রতীক হিসেবে তাঁর স্বল্পস্থায়ী পুনঃপ্রতিষ্ঠা ১৮৫৭ সালের আন্দোলনকে মুঘল সাম্রাজ্যের স্মৃতি ও বৈধতার সঙ্গে যুক্ত করে। এটি প্রতীকী কর্তৃত্ব ও সমন্বিত সামরিক শক্তির পার্থক্যও দেখায়।
১৮৫৭বিদ্রোহবিরোধী ঔপনিবেশিক
বিস্তারিত→বখত খান
নেতৃত্বব্যক্তি
দিল্লির বিদ্রোহী কমান্ডার
“১৮৫৭ সালে দিল্লির বিদ্রোহী বাহিনীর প্রধান সামরিক কমান্ডার।”
বখত খান বেরেলির অভিজ্ঞ গোলন্দাজ কর্মকর্তা ছিলেন; ১৮৫৭ সালের জুলাইয়ে রোহিলা সিপাহিদের নিয়ে দিল্লিতে এসে তিনি বিদ্রোহী বাহিনীর প্রধান সামরিক কমান্ডার হন।
তিনি বাহাদুর শাহ দ্বিতীয়ের প্রতীকী কর্তৃত্বের অধীনে কাজ করলেও দরবারি স্বার্থ, বিভক্ত কমান্ড ও দিল্লি রক্ষার রসদসংকটের মুখোমুখি হন। দিল্লি পতনের পরও তিনি উত্তর ভারতের অন্যত্র প্রতিরোধে যুক্ত ছিলেন।
বখত খান ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে সামরিক সমন্বয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং আঞ্চলিক ও দরবারি স্বার্থের কারণে তার সীমাবদ্ধতার উদাহরণ।
১৮৫৭বিদ্রোহবিরোধী ঔপনিবেশিক
বিস্তারিত→মির্জা মুঘল
সমন্বয়কব্যক্তি
মুঘল যুবরাজ ও দিল্লির বিদ্রোহী সংগঠক
দিল্লির বিদ্রোহী বাহিনীর সিপাহসালার — প্রধান সেনাপতি — হিসেবে নিযুক্ত হয়ে মির্জা মুঘল ১৮৫৭ সালের চার মাসের অবরোধকালে শহরের সামরিক প্রতিরক্ষা সংগঠিত করেন। মিরাট থেকে দিল্লিতে অগ্রসর হয়ে আসা বেঙ্গল আর্মির সিপাহিরা বাহাদুর শাহ জাফরকে সম্রাট ঘোষণা করলে তিনি তাঁদের সমন্বয় সাধন করেন। ব্রিটিশ বাহিনী ১৮৫৭ সালের সেপ্টেম্বরে দিল্লি পুনর্দখল করলে তিনি রাজপরিবারের সাথে পালিয়ে যান। ব্রিটিশ অফিসার উইলিয়াম হডসন তাঁকে বন্দি করেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর ১৮৫৭ সালে খুনি দরওয়াজায় মির্জা খিজর সুলতান ও মির্জা আবু বকরসহ সমবেত জনতার সামনে গুলি করে হত্যা করেন।
দিল্লি, ১৮৫৭। মিরাটে বেঙ্গল আর্মির সিপাহিরা বিদ্রোহ করে দিল্লিতে আসেন এবং বাহাদুর শাহ জাফরকে ঔপনিবেশিকবিরোধী প্রতিরোধের প্রতীক সম্রাট হিসেবে ঘোষণা করেন। বিদ্রোহী বাহিনী চার মাস দিল্লি ধরে রাখে। ব্রিটিশ অবরোধকারী বাহিনী ১৮৫৭ সালের সেপ্টেম্বরে শহর পুনর্দখল করে দিল্লিতে মুঘল আমলের সংগঠিত প্রতিরোধের অবসান ঘটায়।
খুনি দরওয়াজায় মির্জা মুঘল, মির্জা খিজর সুলতান ও মির্জা আবু বকরের হত্যাকাণ্ড ১৮৫৭ সালের ইতিহাসে ব্রিটিশ প্রতিশোধের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে। পুরনো দিল্লির এই মুঘল আমলের ফটক পরবর্তীকালে বিদ্রোহের নিষ্ঠুর দমনের স্মৃতিস্থলে পরিণত হয়। বিদ্রোহী সামরিক জোটের সিপাহসালার হিসেবে মির্জা মুঘল দিল্লিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধের ইতিহাসে একটি নির্দিষ্ট স্থান অধিকার করেন।
১৮৫৭বিদ্রোহবিরোধী ঔপনিবেশিক
বিস্তারিত→মির্জা খিজর সুলতান
সমন্বয়কব্যক্তি
১৮৫৭-র বিদ্রোহের দিল্লি অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত মুঘল যুবরাজ
বাহাদুর শাহ জাফরের পুত্র মির্জা খিজর সুলতান ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকালে দিল্লির মুঘল রাজপরিবারের যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের অংশ ছিলেন। চার মাসের অবরোধজুড়ে তিনি শহরেই থাকেন। ব্রিটিশ বাহিনী ১৮৫৭ সালের সেপ্টেম্বরে দিল্লি পুনর্দখল করার পর তিনি মির্জা মুঘল ও মির্জা আবু বকরসহ উইলিয়াম হডসনের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ২২ সেপ্টেম্বর ১৮৫৭ সালে হডসন তিনজনকেই খুনি দরওয়াজায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেন — আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের পরেও। এই হত্যাকাণ্ড সমসাময়িক ব্রিটিশ পত্রাচারেও সমালোচিত হয়েছিল।
১৮৫৭-১৮৫৮ সময়কালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের বিরুদ্ধে দিল্লি ও আশপাশের উত্তর ভারতীয় অঞ্চলের বিদ্রোহী পর্যায়।
দিল্লি পতনের পর ব্রিটিশ প্রতিশোধের ইতিহাসে খুনি দরওয়াজায় মির্জা খিজর সুলতানসহ তিন যুবরাজের হত্যাকাণ্ড একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। আত্মসমর্পণ করা যুবরাজদের হত্যার এই সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ সামরিক মহলেও সমালোচনা তৈরি করেছিল। ১৮৫৭ সালের ইতিহাসে মির্জা খিজর সুলতান দিল্লিতে সংগঠিত রাজকীয় প্রতিরোধের অবসান ঘটানো মুঘল যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের অংশ হিসেবে স্মরণীয়।
১৮৫৭বিদ্রোহদিল্লিবিরোধী ঔপনিবেশিক
বিস্তারিত→