Battle of Plassey, 1757
1757 · Plassey
Language Movement, 1952
1952 · Language
Liberation War, 1971
1971 · Liberation
Partition of Bengal and Swadeshi movement, 1905
1905 · Partition

Discover Bengal · Unfolded

কামাল হোসেন

স্রষ্টা/অবদানকারী

এই নামের সাথে যুক্ত সব রিসোর্স একসাথে দেখুন।

Est. 1947 · BengalA Bilingual Archive

সম্পর্কিত ইভেন্ট

১২

১৯৪৭

দেশভাগ ও পূর্ববঙ্গ

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভারত ও পাকিস্তানে বিভক্ত হয়, আর বাংলা ভাগ হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গে পরিণত হয়। কিন্তু এই অধ্যায় শুধু সাংবিধানিক বিভাজনের নয়; বিলম্বিত র‍্যাডক্লিফ সীমারেখা, সংখ্যালঘু অনিরাপত্তা, উদ্বাস্তু স্রোত, এবং প্রশাসনিক ভাঙন বাংলার দৈনন্দিন জীবনকে আমূল বদলে দেয় এবং পূর্ববঙ্গে ভাষা, স্বায়ত্তশাসন ও রাষ্ট্রীয় বৈধতার পরবর্তী সংকটের ভিত্তি তৈরি করে।

১৯৫৪

পূর্ববঙ্গের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়

১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পূর্ববঙ্গে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিপুল বিজয় অর্জন করে। প্রতিনিধিত্ব, ভাষার অধিকার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের জনঅসন্তোষ এই ফলাফলে প্রতিফলিত হয় এবং আঞ্চলিক গণতান্ত্রিক দাবির রাজনীতি নতুন গতি পায়।

১৯৬৬

ছয়-দফা কর্মসূচি ঘোষণা

১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয়-দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন, যা পাকিস্তানের কাঠামোর ভেতরে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের সুস্পষ্ট সাংবিধানিক দাবি হিসেবে সামনে আসে। প্রতিনিধিত্ব, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি দ্রুত বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।

১৯৬৯

গণঅভ্যুত্থান

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ সামরিক-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র, শ্রমিক, বিরোধী রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের যুগপৎ প্রতিবাদের শীর্ষ পর্ব। এই আন্দোলন আইয়ুব শাসনের ভিত্তি নড়বড়ে করে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নকে মূলধারায় আনে, এবং ১৯৭০-এর নির্বাচন ও পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের জন্য রাজনৈতিক জমিন তৈরি করে।

১৯৭০

ভোলা ঘূর্ণিঝড় ও ১৯৭০-এর নির্বাচন

১৯৭০ সালের শেষভাগে পূর্ব পাকিস্তান প্রথমে ১২ নভেম্বরের ভয়াবহ ভোলা ঘূর্ণিঝড়ে এবং তারপর ৭ ডিসেম্বরের সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারভিত্তিক পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে গভীরভাবে কেঁপে ওঠে। ঘূর্ণিঝড় প্রশাসনিক অবহেলা, ত্রাণ ব্যর্থতা ও আঞ্চলিক বৈষম্যের নির্মমতা উন্মোচন করে, আর নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ বিপুল গণরায় পায়। পরিবেশগত বিপর্যয় ও অস্বীকৃত গণরায় - এই দুই মিলেই স্বায়ত্তশাসনের রাজনীতিকে মুক্তিযুদ্ধের পূর্বমুহূর্তে এক তাৎক্ষণিক সাংবিধানিক সংকটে রূপ দেয়।

১৯৭১

মুক্তিযুদ্ধ

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ জন্ম নেয় ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় অস্বীকার, মার্চের অসহযোগ আন্দোলন, এবং ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের প্রেক্ষাপটে। পরবর্তী অধ্যায়টি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের সংঘর্ষ নয়; এখানে ছিল অস্থায়ী সরকার, সেক্টরভিত্তিক সশস্ত্র প্রতিরোধ, ভারতে গণশরণার্থী প্রবাহ, এবং ডিসেম্বরের সামরিক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম।

১৯৭২

রাষ্ট্রগঠন ও ১৯৭২-এর সংবিধান

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধজয়ের পর রাষ্ট্রগঠনের কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করে। জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে এসে নতুন সরকারকে নেতৃত্ব দেন, এপ্রিলে গণপরিষদ কাজ শুরু করে, এবং ৪ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়ে ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। এই বছর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সংসদীয় সরকার, মৌলিক অধিকার, এবং জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।

১৯৭৫

বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও পতন

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়ায়: বাকশাল কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়া, রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড, এবং ৩ নভেম্বর জেলহত্যা। এই ধারাবাহিক ঘটনা রাষ্ট্র, দলীয় রাজনীতি ও সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে বদলে দেয়।

২০০৬-২০০৮

তত্ত্বাবধায়ক সংকট ও জরুরি শাসন

২০০৬ সালের শেষভাগ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বাংলাদেশ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে ঘিরে তীব্র সংকট অতিক্রম করে। বিতর্কিত নির্বাচন-প্রস্তুতি, রাজপথের সংঘাত, ১১ জানুয়ারির জরুরি অবস্থা এবং দীর্ঘ অনির্বাচিত প্রশাসনের পর দেশ আবার নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরে আসে।

২০০৭-২০০৮

জরুরি আমলের তত্ত্বাবধায়ক শাসন

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির জরুরি ঘোষণার পর বাংলাদেশ দীর্ঘ তত্ত্বাবধায়ক শাসনপর্বে প্রবেশ করে, যা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় সমর্থনে পরিচালিত হয়। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, রাজনৈতিক আটক এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস একটি অনির্বাচিত কাঠামোর মধ্যে চলতে থাকে; পরে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারে প্রত্যাবর্তন ঘটে। সমসাময়িক বাংলাদেশের সবচেয়ে বিতর্কিত রূপান্তরগুলোর একটি হিসেবে এই সময়কাল এখনও আলোচিত।

২০১০

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু

২০১০ সালে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালের আইনের অধীনে ১৯৭১-সংক্রান্ত অপরাধ বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম সক্রিয় করে। বহুদিনের অমীমাংসিত ন্যায়বিচারের দাবি আদালতে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে জবাবদিহি, জনস্মৃতি, প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতা এবং রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্ন নতুনভাবে সামনে আসে, যা দ্রুতই গণমোবিলাইজেশন ও পাল্টা-মবিলাইজেশনের রূপ নেয়।

২০১৩

শাহবাগ আন্দোলন

২০১৩ সালের শুরুতে ঢাকার শাহবাগে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কঠোর জবাবদিহির দাবিতে ব্যাপক গণসমাবেশ গড়ে ওঠে। শিক্ষার্থী, ব্লগার, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে শাহবাগ একটি ধারাবাহিক প্রতিবাদমঞ্চে পরিণত হয় এবং স্মৃতি-রাজনীতি ও ন্যায়বিচার জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে আসে।