সি. আর. দাস
নেতৃত্বব্যক্তি
বাংলার জাতীয়তাবাদী নেতা, ব্যারিস্টার ও স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা
অরবিন্দ ঘোষের ১৯০৮ সালের আলিপুর বোমা মামলায় আইনজীবী হিসেবে সাফল্যের পর চিত্তরঞ্জন দাস জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম নেতা হয়ে ওঠেন। অসহযোগ আন্দোলনের সময় তিনি আইন পেশা ত্যাগ করেন, আইনসভা বর্জনের কংগ্রেস নীতির বিরোধিতা করেন এবং ১৯২৩ সালে মতিলাল নেহরু ও অন্য নেতাদের সঙ্গে স্বরাজ পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।
বিংশ শতকের শুরুর বাংলায় উপনিবেশবিরোধী গণআন্দোলন, আইনসভায় বাধাদান, পৌর সরকার এবং হিন্দু-মুসলিম প্রতিনিধিত্বের বিতর্ক পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছিল। দাসের মত ছিল, নির্বাচিত আইনসভায় প্রবেশ করে ধারাবাহিক বিরোধিতার মাধ্যমে ঔপনিবেশিক শাসনকে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
স্বরাজবাদী নেতা হিসেবে দাস ১৯২৩ সালের বাংলা আইনসভা নির্বাচনে বড় সাফল্য এনে দেন এবং ১৯২৪ সালে কলকাতার প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন। তাঁর বেঙ্গল প্যাক্ট হিন্দু-মুসলিম রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা ছিল; তাঁর নেতৃত্ব সুভাষচন্দ্র বসুসহ বহু নেতাকে প্রভাবিত করে এবং বাংলার জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে।
স্বদেশি-আন্দোলনস্বরাজ-পার্টিবেঙ্গল-প্যাক্টকলকাতা-কর্পোরেশন
বিস্তারিত→ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস
সংগঠনদল
ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক দল
কংগ্রেস ছিল উপনিবেশবিরোধী রাজনীতির অন্যতম প্রধান দল; বাংলা ও সর্বভারতীয় পরিসরে সাংবিধানিক দরকষাকষি, গণআন্দোলন ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে দলটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে।
স্বদেশি যুগের আন্দোলন, শেষ ঔপনিবেশিক প্রাদেশিক রাজনীতি, এবং ক্ষমতা হস্তান্তর আলোচনা।
বাংলা ও সর্বভারতীয় পর্যায়ে দলটির কৌশল বিভাজন-বিরোধী অবস্থান ও ১৯৪৭-এর সাংবিধানিক নিষ্পত্তির গতিপথে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকারকংগ্রেস রাজনীতি
বিস্তারিত→আবুল কালাম আজাদ
নেতৃত্বব্যক্তি
ঔপনিবেশিকবিরোধী ভারতীয় মুসলিম আলেম-রাজনীতিক
“ঔপনিবেশিকবিরোধী সাংবিধানিক রাজনীতিতে প্রভাবশালী মুসলিম কণ্ঠ।”
ঔপনিবেশিকবিরোধী রাজনীতি, শিক্ষা ও বহুত্ববাদী জাতীয়তার প্রশ্নে তিনি শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান নির্মাণ করেন।
উপনিবেশের শেষপর্বের রাজনীতিতে তাঁর ভাবনা বাংলার পরিচয় ও প্রতিনিধিত্ব বিতর্কের সাথে আন্তঃসম্পর্কিত ছিল।
মুসলিম রাজনৈতিক চিন্তা ও আধুনিক শিক্ষাবিষয়ক আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক রেফারেন্স।
ঔপনিবেশিকবিরোধীশিক্ষাবহুত্ববাদমুসলিম-ইতিহাস
বিস্তারিত→কল্পনা দত্ত
নেতৃত্বব্যক্তি
ঔপনিবেশিক-বিরোধী বিপ্লবী
“কল্পনা দত্ত চট্টগ্রামের বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নারী কর্মী ছিলেন।”
কল্পনা দত্ত চট্টগ্রামের বিপ্লবী আন্দোলনে যুক্ত হন, প্রতিরোধের পরিকল্পনায় অংশ নেন এবং ১৯৩০ সালের অস্ত্রাগার আক্রমণ-পর্বের পর দণ্ডিত হন।
১৯২০-এর দশকের শেষ থেকে ১৯৩০-এর দশকের শুরুতে চট্টগ্রামের বিপ্লবী ঔপনিবেশিকবিরোধী রাজনীতি।
তাঁর কর্মজীবন সশস্ত্র বিপ্লবী নেটওয়ার্কে নারীদের অংশগ্রহণ এবং ঔপনিবেশিক বিচারের মূল্য তুলে ধরে।
বিস্তারিত→কাজী নজরুল ইসলাম
নেতৃত্বব্যক্তি
কবি, সুরকার ও ঔপনিবেশিকবিরোধী কণ্ঠ
“বিদ্রোহী কণ্ঠে জনচেতনা জাগানো এক অমর কবি।”
কবিতা, গান ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি ঔপনিবেশিক শাসন ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
ব্রিটিশ-শাসিত বাংলার রাজনৈতিক টানাপোড়েনে তাঁর সাহিত্য জনআন্দোলনের ভাষায় পরিণত হয়।
বাংলাদেশে নাগরিক চেতনা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ও প্রতিবাদী সংস্কৃতিতে তাঁর প্রভাব আজও গভীর।
সাহিত্যঔপনিবেশিকবিরোধীসংস্কৃতিজনচেতনা
বিস্তারিত→ক্ষুদিরাম বসু
নেতৃত্বব্যক্তি
যুগান্তর-সংশ্লিষ্ট ঔপনিবেশিকবিরোধী বিপ্লবী
“এক কিশোর বিপ্লবী, যার ফাঁসি বাংলায় সশস্ত্র ঔপনিবেশিকবিরোধী প্রতিরোধের দীর্ঘস্থায়ী প্রতীক হয়ে ওঠে।”
স্বদেশি-পর্বে তিনি বাংলার গোপন বিপ্লবী নেটওয়ার্কে যুক্ত হন এবং ১৯০৮ সালের মুজাফ্ফরপুর হামলায় ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করা অভিযানে অংশ নেন।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর যুগান্তরের মতো গোপন সংগঠনগুলো ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে গোপন অভিযান ও বোমা হামলাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।
আঠারো বছর বয়সে তাঁর ফাঁসি তাঁকে বাংলার বিপ্লবী জাতীয়তাবাদের প্রারম্ভিক শহীদ-প্রতীকগুলোর একটিতে পরিণত করে।
ঔপনিবেশিকবিরোধীবিপ্লবীস্বদেশি-পর্বশহীদ-স্মৃতি
বিস্তারিত→খাজা সলিমুল্লাহ
নেতৃত্বব্যক্তি
ঢাকার নবাব ও মুসলিম রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক
“ঢাকা-কেন্দ্রিক পৃষ্ঠপোষক, যার নেটওয়ার্ক ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকে মুসলিম লীগের প্রাথমিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে।”
খাজা সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করেন, ঢাকা নবাব পরিবারের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মুসলিম রাজনৈতিক মত সংগঠনে ভূমিকা রাখেন এবং ১৯০৬ সালে ঢাকায় অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন।
বিশ শতকের শুরুর বাংলা, যখন মুসলিম অভিজাত রাজনীতি, শিক্ষা-পৃষ্ঠপোষকতা, পৃথক প্রতিনিধিত্বের বিতর্ক এবং বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলন ঔপনিবেশিক জনজীবনকে বদলে দিচ্ছিল।
তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা ঢাকাকে মুসলিম রাজনৈতিক সংগঠনের বড় কেন্দ্র করে তোলে এবং মুসলিম লীগ, পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী ও পরবর্তী বিভাজন-রাজনীতির আলোচনায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রাখে।
ঢাকামুসলিম লীগবঙ্গভঙ্গঔপনিবেশিক রাজনীতি
বিস্তারিত→দীনেশচন্দ্র সেন
নেতৃত্বব্যক্তি
বাংলা সাহিত্য-গবেষক
“দীনেশচন্দ্র সেন বাংলা লোকসাহিত্য ও সাহিত্য-ইতিহাসের পথিকৃৎ গবেষক ছিলেন।”
দীনেশচন্দ্র সেন বাংলা লোককথা ও সাহিত্য সংগ্রহ, সম্পাদনা ও ব্যাখ্যা করেন এবং ময়মনসিংহ গীতিকাকে বৃহত্তর পণ্ডিতসমাজের নজরে আনেন।
ঔপনিবেশিক যুগের শেষভাগে বাংলা সাহিত্য-গবেষণা ও মৌখিক লোকঐতিহ্যের অধ্যয়ন।
তাঁর কাজ বাংলা সংস্কৃতি বোঝার ক্ষেত্রে লোকসাহিত্য ও আঞ্চলিক সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করে।
বিস্তারিত→নবাব সলিমুল্লাহ
নেতৃত্বব্যক্তি
ঢাকার নবাব ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক
“নবাব সলিমুল্লাহ পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশকে সমর্থন করেন এবং ১৯০৫-এর পর ঢাকায় মুসলিম রাজনৈতিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।”
সলিমুল্লাহ পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠনের পক্ষে অবস্থান নেন এবং বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকাকেন্দ্রিক মুসলিম রাজনৈতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠেন।
১৯০৫-পরবর্তী ঢাকা ও প্রাদেশিক রাজনীতি।
তার অবস্থান দেখায় যে বঙ্গভঙ্গ বাংলার মুসলিম অভিজাতদের একাংশের জন্য নতুন রাজনৈতিক সুযোগও তৈরি করেছিল এবং প্রতিনিধিত্বের পরবর্তী বিতর্ককে প্রভাবিত করেছিল।
বিস্তারিত→নিহাররঞ্জন রায়
নেতৃত্বব্যক্তি
বাংলা সভ্যতার ইতিহাসবিদ
নিহাররঞ্জন রায় বাংলা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক ধারায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বাংলা অঞ্চলে দক্ষিণ এশীয় রাজনৈতিক ও বৌদ্ধিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট।
তাঁর উত্তরাধিকার বাংলা/বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সমাজ ও স্মৃতির ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।
১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকারবুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস
বিস্তারিত→পুলিনবিহারী দাস
বিপ্লবীব্যক্তি
পূর্ববঙ্গের বিপ্লবী সংগঠক
“ঢাকা অনুশীলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি এবং পূর্ববঙ্গের বিপ্লবী রাজনীতির প্রধান সংগঠক।”
পুলিনবিহারী দাস ছিলেন ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা অনুশীলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি ও প্রধান সংগঠক। পূর্ববঙ্গের স্বদেশি যুগের রাজনীতিতে এই সংগঠন সশস্ত্র ঔপনিবেশিকতাবিরোধী ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর দাস শারীরিক প্রশিক্ষণ, গোপন সংগঠন ও বিপ্লবী শৃঙ্খলার মাধ্যমে তরুণদের সংগঠিত করেন। ঢাকা শাখা পূর্ববঙ্গে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে; ফলে এটি ঔপনিবেশিক নজরদারি, সাংবিধানিক রাজনীতি, বয়কট ও সশস্ত্র প্রতিরোধের বৃহত্তর দ্বন্দ্বের অংশ হয়ে ওঠে।
দাস ঢাকাকে বিপ্লবী সংগঠনের একটি বড় কেন্দ্রে পরিণত করতে সাহায্য করেন; তবে এই বিস্তারের সঙ্গে দমন, গ্রেপ্তার, আটক ও সাংগঠনিক বিভাজনও আসে। তাঁর উত্তরাধিকার পূর্ববঙ্গের সশস্ত্র ঔপনিবেশিকতাবিরোধী রাজনীতির অংশ; ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনকে তাঁর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বের ঘটনা নয়, বরং বিপ্লবী ধারাবাহিকতা ও স্মৃতির প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা উচিত।
অনুশীলনস্বদেশিঔপনিবেশিকতাবিরোধীপূর্ববঙ্গ
বিস্তারিত→প্রফুল্লচন্দ্র রায়
নেতৃত্বব্যক্তি
রসায়নবিদ ও শিক্ষা-সংস্কারক
“প্রফুল্লচন্দ্র রায় বাংলায় রসায়ন, শিক্ষকতা ও শিল্পোদ্যোগকে একত্র করেছিলেন।”
প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন পথিকৃৎ রসায়নবিদ, শিক্ষক ও শিল্পোদ্যোক্তা; তিনি বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস প্রতিষ্ঠা এবং বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসারে কাজ করেন।
ঔপনিবেশিক বাংলায় বিজ্ঞানশিক্ষা, দেশীয় শিল্প ও বৌদ্ধিক জীবনের বিকাশ।
তাঁর কাজ পরীক্ষাগারের বিজ্ঞানকে শিল্পোন্নয়ন ও দেশীয় বৈজ্ঞানিক উদ্যোগের জনআলোচনার সঙ্গে যুক্ত করে।
বিস্তারিত→বেগম রোকেয়া
নেতৃত্বব্যক্তি
বাংলায় নারীশিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের অগ্রদূত
“নারীশিক্ষাকে তিনি ন্যায়বিচারের দাবিতে রূপ দিয়েছিলেন।”
প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ ও লেখালেখির মাধ্যমে তিনি নারীশিক্ষাকে মুক্তি ও মর্যাদার কেন্দ্রীয় শর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
ঔপনিবেশিক যুগের রক্ষণশীল সামাজিক কাঠামোর মধ্যে তিনি সাহিত্য ও শিক্ষাপ্রচেষ্টাকে একসঙ্গে ব্যবহার করেন।
বাংলাদেশে নারী অধিকার, শিক্ষার প্রসার এবং প্রগতিশীল নাগরিক চিন্তায় তাঁর উত্তরাধিকার আজও কার্যকর।
নারীশিক্ষাসংস্কারনারীবাদ
বিস্তারিত→মেঘনাদ সাহা
নেতৃত্বব্যক্তি
পদার্থবিজ্ঞানী ও জনবুদ্ধিজীবী
মেঘনাদ সাহা বাংলা ও বাংলাদেশের বৌদ্ধিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছেন।
বাংলা অঞ্চলে দক্ষিণ এশিয়ার বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপট।
আধুনিক বাঙালি পরিচয়, জ্ঞানচর্চা ও জনজীবন বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর কাজ এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকারবুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস
বিস্তারিত→যতীন দাস
নেতৃত্বব্যক্তি
ঔপনিবেশিক-বিরোধী কর্মী
“লাহোর জেলে ১৯২৯ সালের অনশনের মাধ্যমে যতীন দাস ঔপনিবেশিকবিরোধী প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হন।”
যতীন দাস বিপ্লবী ঔপনিবেশিকবিরোধী রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯২৯ সালে লাহোর জেলে দীর্ঘ অনশনের পর মারা যান।
ঔপনিবেশিক ভারতের শেষপর্বে বিপ্লবী রাজনীতি, কারাবন্দিত্ব ও রাজনৈতিক অনশন।
তাঁর মৃত্যু ঔপনিবেশিক কারাবন্দিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তিশালী প্রতীকে রাজনৈতিক অনশনকে পরিণত করে।
বিস্তারিত→রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
নেতৃত্বব্যক্তি
কবি ও জনবুদ্ধিজীবী
“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গান ও জনআচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে যৌথ বাঙালি সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ভাষা দেন।”
রবীন্দ্রনাথ গান, প্রতীকী কর্মসূচি এবং জনআহ্বানের মাধ্যমে বঙ্গভঙ্গবিরোধী আবেগকে সাংস্কৃতিক ভাষা দেন এবং প্রতিবাদকে যৌথ বাঙালি পরিচয়ের সাথে যুক্ত করেন।
বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের সময় বাংলার সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক জনপরিসর।
তার ভূমিকা এই আন্দোলনকে কেবল প্রশাসনিক আপত্তি নয়, বৃহত্তর নৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধে রূপ দিতে সাহায্য করে।
বিস্তারিত→লর্ড কার্জন
নেতৃত্বব্যক্তি
ভারতের ভাইসরয়
“লর্ড কার্জনের ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ সিদ্ধান্ত বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর মোড় তৈরি করে।”
ভাইসরয় হিসেবে কার্জন বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনাকে এগিয়ে নেন এবং বড় প্রদেশ শাসনের প্রশাসনিক সমাধান হিসেবে তা তুলে ধরেন।
বিশ শতকের শুরুর ব্রিটিশ ভারত, বিশেষত বাংলা।
তার বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনা অন্তিম ঔপনিবেশিক বাংলার অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করে এবং স্বদেশী আন্দোলনের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
বিস্তারিত→অজানা প্রতিবাদী
সম্মিলিত কণ্ঠসংস্থা
সমষ্টিগত নাগরিক প্রতীক
“অভ্যুত্থান-পর্বের বৃহত্তর নাগরিক-তথ্য পরিবেশের অংশ।”
২০২৪ সালের আন্দোলন-পর্বে এই ব্যক্তিত্ব জনআলোচনা, অধিকারভিত্তিক অবস্থান, প্রতিবেদন, বা নাগরিক সমর্থনের মাধ্যমে আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট পরিসরে দৃশ্যমান ছিলেন।
জবাবদিহি, অধিকার ও শাসন-রূপান্তর নিয়ে ২০২৪ সালের জনপরিসর।
আন্দোলনকে ঘিরে জনমত, তথ্যপ্রবাহ বা নাগরিক আলোচনার গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলেন।
জন আলোচনানাগরিক সমর্থন২০২৪বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন
বিস্তারিত→আবুল হাশিম
নেতৃত্বব্যক্তি
বাংলা মুসলিম লীগের সংগঠক
বাংলা মুসলিম লীগের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও মতাদর্শিক নেতা হিসেবে তিনি পরে যুক্ত বাংলা ধারণাকেও সমর্থন করেন।
১৯৪০-এর দশকের বাংলা মুসলিম রাজনীতি।
দেশভাগের সংকটে তিনি বাঙালি মুসলিম রাজনীতির একটি স্বতন্ত্র ভাষা নির্মাণে ভূমিকা রাখেন।
১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকারযুক্ত বাংলা
বিস্তারিত→খাজা নাজিমুদ্দীন
নেতৃত্বব্যক্তি
মুসলিম লীগ নেতা
বাংলায় মুসলিম লীগের অভিজাত ধারার প্রতিনিধিত্ব করে তিনি দেশভাগের আগে ও পরে পূর্ববঙ্গকে পাকিস্তানের নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে নেতৃত্ব দেন।
ঔপনিবেশিক আমলের শেষভাগের বাংলা এবং পাকিস্তানের সূচনাপর্ব।
তার রাজনৈতিক ভূমিকা বাংলার দেশভাগ ও পূর্ববঙ্গের প্রারম্ভিক রাষ্ট্রীয় অবস্থানকে একসূত্রে যুক্ত করে।
১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকারপাকিস্তান আন্দোলন
বিস্তারিত→