কাজী মোতাহার হোসেন
নেতৃত্বব্যক্তিশিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক বুদ্ধিজীবী
পূর্ববঙ্গে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পক্ষে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান নেন।
পাকিস্তানের প্রারম্ভিক সময়ে একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক।
তার অবস্থান বাঙালি সাংস্কৃতিক আত্মপ্রত্যয়ের পক্ষে শিক্ষিত সমাজের সমর্থনকে শক্তিশালী করে।
বিস্তারিতইলা মিত্র
নেতৃত্বব্যক্তিকৃষক আন্দোলনের কর্মী
বাংলার কৃষকসংগ্রামে তার ভূমিকা দেখায় দেশভাগ-ঘনিষ্ঠ সময়ের সামাজিক অস্থিরতা ও কৃষিভিত্তিক বঞ্চনা কত গভীর ছিল।
১৯৪০-এর দশক ও ১৯৫০-এর শুরুর গ্রামীণ বাংলা।
তার উপস্থিতি স্মরণ করিয়ে দেয় যে দেশভাগ-পর্বের বাংলা কেবল সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে নয়, শ্রেণি-সংগ্রামেও গঠিত হয়েছিল।
বিস্তারিতমওলানা আকরম খান
নেতৃত্বব্যক্তিসাংবাদিক ও মুসলিম জননেতা
বাংলার মুসলিম জনজীবনে তিনি প্রভাবশালী সম্পাদক ও জননেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ঔপনিবেশিক শাসনের শেষভাগে বাংলা মুসলিম জনমত ও রাজনীতি।
তিনি বাঙালি মুসলিম পাঠকসমাজের কাছে প্রতিনিধিত্ব, সম্প্রদায় ও রাষ্ট্র প্রশ্নকে প্রভাবিতভাবে তুলে ধরেন।
বিস্তারিতমানিক মিয়া
নেতৃত্বব্যক্তিসাংবাদিক ও জনমত নির্মাতা
সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি পূর্ববঙ্গের বৈষম্য, অধিকার ও আঞ্চলিক মর্যাদার প্রশ্নকে জনপরিসরে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।
পাকিস্তানের শুরুর জনপরিসর ও সংবাদমাধ্যম।
তার কাজ ভাষার প্রশ্নকে পূর্ববঙ্গের বৃহত্তর রাজনৈতিক চেতনার অংশ করে তোলে।
বিস্তারিতআবদুর রশীদ তর্কবাগীশ
নেতৃত্বব্যক্তিবিরোধী বক্তা ও রাজনীতিক
কেন্দ্রীয় আধিপত্য ও বঞ্চনামূলক শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ববঙ্গে তিনি এক তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক কণ্ঠ হয়ে ওঠেন।
পূর্ব পাকিস্তানের প্রাথমিক প্রাদেশিক রাজনীতি।
পূর্ববঙ্গের মর্যাদা ও অধিকারের জনভাষা গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
বিস্তারিতখাজা শাহাবুদ্দীন
নেতৃত্বব্যক্তিমুসলিম লীগ রাজনীতিক
ঢাকার নবাব পরিবার-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরিমণ্ডল থেকে উঠে এসে তিনি পাকিস্তানে উত্তরণের সময় মুসলিম লীগ রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
বাংলা ও পাকিস্তানের অভিজাত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক।
তার রাজনৈতিক পথ দেখায় দেশভাগের পর পুরোনো জমিদার-প্রভাবিত অভিজাত শক্তি কীভাবে নতুন রাষ্ট্রে নিজেদের মানিয়ে নেয়।
বিস্তারিতহুমায়ুন কবির
নেতৃত্বব্যক্তিবুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক
সাংবিধানিক ও শিক্ষাবিষয়ক বিতর্কে তিনি বাঙালি উদারবুদ্ধিজীবী ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন।
ঔপনিবেশিক শাসনের শেষভাগ ও স্বাধীনতাত্তোর জনজীবন।
তার চিন্তাধারা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বাইরে বহুত্ববাদী, নাগরিক ও শিক্ষাভিত্তিক ভবিষ্যতের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি ধারা তুলে ধরে।
বিস্তারিতমুজাফফর আহমদ
নেতৃত্বব্যক্তিবামপন্থী রাজনৈতিক চিন্তক
বাংলার এক প্রভাবশালী বামপন্থী চিন্তক হিসেবে তিনি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বাইরে শ্রেণি ও শ্রমের প্রশ্নকে সামনে আনেন।
দেশভাগের আগে ও পরে বাংলার বাম রাজনীতি।
তার উপস্থিতি দেখায় দেশভাগকে শ্রম, শ্রেণি ও ঔপনিবেশিকতাবিরোধী সংগ্রামের বড় ইতিহাসের মধ্যেও পড়তে হয়।
বিস্তারিতসোমনাথ লাহিড়ী
নেতৃত্বব্যক্তিকমিউনিস্ট আইনপ্রণেতা
স্বাধীনতা-উত্তর রূপান্তরকালে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, অধিকার ও সাংবিধানিক কর্তৃত্বের বিষয়ে বামপন্থী সমালোচনা সামনে আনেন।
বাংলা ও ভারতের সাংবিধানিক ও বাম রাজনীতি।
তার রাজনীতি দেখায় সাম্প্রদায়িকতা ও কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রগঠনের সমান্তরাল সমালোচনাও বাংলায় শক্তিশালী ছিল।
বিস্তারিতজসীমউদ্দীন
নেতৃত্বব্যক্তিপল্লীকবি
তার কবিতা সেই ভাষা, স্মৃতি ও গ্রামীণ সামাজিক জগতকে ধারণ করে, যাকে দেশভাগ নির্মমভাবে ভেঙে দেয়।
দেশভাগের আগে-পরে বাংলার সাংস্কৃতিক স্মৃতি।
তার সাহিত্য মনে করিয়ে দেয় রাজনৈতিক সীমারেখা টানলেও বাংলার সাংস্কৃতিক আবেগকে সম্পূর্ণ ভাগ করা যায়নি।
বিস্তারিতআবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
নেতৃত্বব্যক্তিসাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসংরক্ষক
বাংলা সাহিত্য-ঐতিহ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে তার জীবনব্যাপী কাজ রাজনৈতিক ভাঙনের সময়েও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার ভিত্তি রক্ষা করে।
দেশভাগ-পর্বে স্মরণযোগ্য বৃহত্তর বাংলা সাহিত্যঐতিহ্য।
তার উত্তরাধিকার দেখায় বাঙালি পরিচয়ের ভিত গভীর এক যৌথ সাংস্কৃতিক সংগ্রহশালার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
বিস্তারিতআবু সালেহ মোহাম্মদ আকরাম
সমন্বয়কব্যক্তিবাউন্ডারি কমিশনের সদস্য
চূড়ান্ত দেশভাগ প্রক্রিয়ায় তিনি বঙ্গ বাউন্ডারি কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪৭ সালে বাংলার সীমারেখা নির্ধারণের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।
তার ভূমিকা সেই প্রশাসনিক-আইনি যন্ত্রের অংশ, যার মাধ্যমে বাংলাকে চূড়ান্তভাবে ভাগ করা হয়।
বিস্তারিতবিজন কুমার মুখার্জি
সমন্বয়কব্যক্তিবাউন্ডারি কমিশনের সদস্য
বাংলা বিভাজনের সময় তিনি বঙ্গ বাউন্ডারি কমিশনের সদস্য ছিলেন।
দেশভাগকালে সীমারেখা নির্ধারণ বিষয়ক আনুষ্ঠানিক আলোচনা।
তার ভূমিকা দেখায় কীভাবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত একটি নতুন মানচিত্রে রূপ নেয়।
বিস্তারিতএস. এ. রহমান
সমন্বয়কব্যক্তিবাউন্ডারি কমিশনের সদস্য
বাংলার চূড়ান্ত বিভাজন নিয়ে কাজ করা বঙ্গ বাউন্ডারি কমিশনে তিনি অংশ নেন।
দেশভাগের সময় সীমারেখা নির্ধারণের প্রক্রিয়া।
তিনি সেই অল্পসংখ্যক আইনগত ব্যক্তিত্বের একজন, যারা বাংলাকে বিভক্ত করা রেখা নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন।
বিস্তারিতসি. সি. বিশ্বাস
সমন্বয়কব্যক্তিবাউন্ডারি কমিশনের সদস্য
দেশভাগ পুরস্কার ঘোষণার আগে শেষ সপ্তাহগুলোতে তিনি বঙ্গ বাউন্ডারি কমিশনের সদস্য হিসেবে কাজ করেন।
১৯৪৭ সালে বাংলার দেশভাগের আইনগত ও কারিগরি প্রক্রিয়া।
তার ভূমিকা মনে করিয়ে দেয় দেশভাগ শুধু গণরাজনীতি নয়, দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলা এক আইনি-প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও ছিল।
বিস্তারিতআবুল বরকত
শহীদব্যক্তি১৯৫২-র ভাষা শহীদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এমএ শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-এর মিছিলে অংশ নেন এবং পুলিশের গুলিতে মরণাহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২।
তার আত্মদান ভাষার দাবিকে আত্মত্যাগ, স্মৃতি এবং জাতীয় পরিচয়ের এক পবিত্র প্রতীকে পরিণত করে।
বিস্তারিতরফিক উদ্দিন আহমেদ
শহীদব্যক্তিভাষা শহীদ
১৪৪ ধারা ভেঙে ২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণ, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২।
একুশের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করার অন্যতম প্রধান নাম হয়ে ওঠেন তিনি।
বিস্তারিতআবদুস সালাম
শহীদব্যক্তিভাষা শহীদ
ঢাকায় কর্মরত এক সরকারি কর্মচারী হিসেবে তিনি ২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে যোগ দেন এবং পরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ।
তার মৃত্যু দেখায় যে আন্দোলন তখন শুধু ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ইতিমধ্যে জনতার আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল।
বিস্তারিতআবদুল জব্বার
শহীদব্যক্তিভাষা শহীদ
আত্মীয়ের চিকিৎসার কাজে ঢাকায় এসে তিনি ২১ ফেব্রুয়ারির প্রতিবাদে যোগ দেন এবং পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান।
২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকা।
তার জীবনগাথা দেখায় সংকটের মুহূর্তে সাধারণ মানুষও কীভাবে ভাষা আন্দোলনের অংশ হয়ে উঠেছিল।
বিস্তারিতশফিউর রহমান
শহীদব্যক্তিভাষা শহীদ
২২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন শহরে ছড়িয়ে পড়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে মারা যান।
নবাবপুর রোড, ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২।
তার মৃত্যু দেখায় একুশের শোক ও প্রতিবাদ কেবল একদিনে সীমিত থাকেনি; তা পুরো শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।
বিস্তারিত