নবাব আবদুল গণি
নেতৃত্বব্যক্তি
ঢাকার নবাব ও নগর-উন্নয়নের পৃষ্ঠপোষক
“ঊনবিংশ শতকের ঢাকায় পানীয় জল, জনসেবা ও নাগরিক উন্নয়নে পৃষ্ঠপোষকতা করা নবাব।”
ব্রিটিশ রাজের স্বীকৃত ঢাকার নবাব খাজা আবদুল গনি (১৮১৩–১৮৯৬) জমিদারি কর্তৃত্বের সঙ্গে নাগরিক পৃষ্ঠপোষকতাকে যুক্ত করেন; তিনি ঢাকার পানীয় জল, নগর-উন্নয়ন, জনসেবা ও মুসলিম অভিজাত প্রাতিষ্ঠানিক পরিসরে সহায়তা দেন।
ঊনবিংশ শতকের শেষভাগে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ঢাকার রূপান্তরের সময়ে তাঁর প্রভাব গড়ে ওঠে। তিনি পৌর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পারিবারিক সম্পদ থেকে জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ দেন; এর মধ্যে পানীয় জলের ব্যবস্থা ও বুড়িগঙ্গার তীরে বাকল্যান্ড বাঁধে উল্লেখযোগ্য অনুদান ছিল। একই সময়ে তিনি ঢাকা নবাব এস্টেটও পরিচালনা করেন।
আবদুল গনির উত্তরাধিকারকে অভিজাত-নির্ভর নগর-উন্নয়নের একটি রূপ হিসেবে বোঝা যায়: তাঁর অনুদান ও পৃষ্ঠপোষকতা জনসুবিধা ও দাতব্য সেবা বিস্তারে সহায়তা করলেও এসব প্রকল্প পৌর প্রশাসন, ঔপনিবেশিক কর্মকর্তা ও অন্যান্য দাতার ওপরও নির্ভরশীল ছিল। তাই তাঁর জীবন মুসলিম ভূস্বামী নেতৃত্বকে ঔপনিবেশিক ঢাকার নাগরিক ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করে, কিন্তু নগর নির্মাণকে একক দাতার কৃতিত্বে সীমাবদ্ধ করে না।
ঢাকানবাবনগর-ইতিহাসমুসলিম-ইতিহাস
বিস্তারিত→নবাব আলী চৌধুরী
নেতৃত্বব্যক্তি
মুসলিম শিক্ষা-পৃষ্ঠপোষক ও রাজনীতিক
“শিক্ষা-পৃষ্ঠপোষক ও মুসলিম লীগ সংগঠক, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন।”
সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরী (১৮৬৩–১৯২৯) ধনবাড়ীর জমিদার হিসেবে মুসলিম শিক্ষা-পৃষ্ঠপোষকতাকে সাংবিধানিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি ১৯০৬ সালের ঢাকার সেই সম্মেলন সংগঠনে ভূমিকা রাখেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠিত হয়, এবং ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিও এগিয়ে নেন।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর মুসলিম প্রতিনিধিত্ব, শিক্ষা এবং পূর্ববঙ্গের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁর জনজীবন গড়ে ওঠে। তিনি মুসলিম লীগ ও আইন পরিষদের বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন, ছাত্রাবাস ও বৃত্তিতে সহায়তা করেন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, যার পরিণতিতে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
আলী চৌধুরী অভিজাত দাতব্য পৃষ্ঠপোষকতাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে যুক্ত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে তাঁর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর প্রতিষ্ঠা সরকারি আইন, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি, অন্যান্য পৃষ্ঠপোষক ও বৃহত্তর জনআলোচনার ওপরও নির্ভর করেছিল; তাঁকে একক প্রতিষ্ঠাতা নয়, প্রধান সমর্থক ও অবদানকারী হিসেবে বর্ণনা করা উচিত।
মুসলিম-শিক্ষামুসলিম-লীগঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয়ঔপনিবেশিক-রাজনীতি
বিস্তারিত→মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
নেতৃত্বব্যক্তি
সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ নেতা
পাকিস্তান দাবির প্রধান নেতা হিসেবে তিনি সেই রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণে নেতৃত্ব দেন যার মাধ্যমে পূর্ববঙ্গ নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের অংশ হয়।
উপমহাদেশজুড়ে সাংবিধানিক হস্তান্তর ও দেশভাগ সংক্রান্ত আলোচনা।
পাকিস্তান সৃষ্টিতে তার ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়, আর পূর্ববঙ্গ সেই রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অংশে পরিণত হয়।
১৯৪৭দেশভাগপাকিস্তান আন্দোলন
বিস্তারিত→লিয়াকত আলী খান
নেতৃত্বব্যক্তি
মুসলিম লীগের রাষ্ট্রনেতা
চূড়ান্ত সাংবিধানিক সমঝোতায় তিনি মুসলিম লীগের অন্যতম প্রধান আলোচক ছিলেন এবং পরে পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।
ক্ষমতা হস্তান্তর ও পাকিস্তানের প্রারম্ভিক রাষ্ট্রগঠন।
তার রাজনৈতিক ভূমিকা সর্বভারতীয় পাকিস্তান দাবিকে পূর্ববঙ্গ-সমেত নতুন রাষ্ট্রের প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে।
১৯৪৭দেশভাগপাকিস্তান আন্দোলন
বিস্তারিত→সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ
সংগঠনদল
ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক দল
১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রধান প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয় এবং পরে পাকিস্তান দাবির নেতৃত্ব দেয়।
শেষ ঔপনিবেশিক সাংবিধানিক রাজনীতি, বঙ্গভঙ্গ-পরবর্তী সংগঠন, এবং পাকিস্তান আন্দোলন।
বাংলায় দলটির সাংগঠনিক বিস্তার নির্বাচন-রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক সমীকরণ এবং ১৯৪৭ সালের বিভাজনের গতিপথে গভীর প্রভাব ফেলে।
১৯৪৭দেশভাগপাকিস্তান আন্দোলন
বিস্তারিত→এ. কে. ফজলুল হক
নেতৃত্বব্যক্তি
রাজনৈতিক নেতা
১৯৪০ সালে তিনি লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং দেশভাগের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণনেতা হিসেবে প্রদেশের ভবিষ্যৎ প্রশ্নে প্রভাব রাখেন।
ঔপনিবেশিক আমলের শেষভাগ থেকে দেশভাগ-পর্বের বাংলা রাজনীতি।
তার নেতৃত্ব কৃষকভিত্তিক রাজনীতি, মুসলিম প্রতিনিধিত্ব এবং পাকিস্তান গঠনের প্রশ্নে বাংলার অবস্থানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকার
বিস্তারিত→জওহরলাল নেহরু
নেতৃত্বব্যক্তি
কংগ্রেস নেতা
চূড়ান্ত ক্ষমতা হস্তান্তর আলোচনায় তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রধান আলোচক ছিলেন।
১৯৪৭-এর পূর্ববর্তী সর্বভারতীয় সাংবিধানিক আলোচনা।
দেশভাগ এড়ানো সম্ভব কি না এবং নতুন ভারতীয় রাষ্ট্রে বাংলার অবস্থান কী হবে—এই প্রশ্নে তার সিদ্ধান্ত ছিল প্রভাবশালী।
১৯৪৭দেশভাগকংগ্রেস রাজনীতি
বিস্তারিত→মহাত্মা গান্ধী
নেতৃত্বব্যক্তি
সাম্প্রদায়িকতা-বিরোধী জাতীয় নেতা
বিশেষ করে নোয়াখালী ও বাংলার দাঙ্গার পর তিনি বারবার সাম্প্রদায়িক সহিংসতা থামাতে হস্তক্ষেপ করেন।
১৯৪৬-১৯৪৭ সালের বাংলা ও উপমহাদেশের সাম্প্রদায়িক সংকট।
চূড়ান্ত দেশভাগ থামাতে না পারলেও তিনি সহিংসতার বিরুদ্ধে এক নৈতিক প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকার
বিস্তারিত→শরৎচন্দ্র বসু
নেতৃত্বব্যক্তি
যুক্ত বাংলা প্রস্তাবের প্রবক্তা
দেশভাগ ঘনিয়ে এলে তিনি সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে মিলে স্বাধীন ও অবিভক্ত বাংলার পক্ষে কাজ করেন।
১৯৪৭ সালে বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা।
সাম্প্রদায়িক রেখায় বাংলা ভাগের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সবচেয়ে স্পষ্ট কণ্ঠগুলোর একজন।
১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকারযুক্ত বাংলা
বিস্তারিত→শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী
নেতৃত্বব্যক্তি
হিন্দু মহাসভা নেতা
পুরো বাংলা পাকিস্তানে চলে যাওয়া বা অনিশ্চিত স্বাধীন ব্যবস্থায় যাওয়ার বদলে তিনি বাংলাকে ভাগ করার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।
১৯৪৭ সালে বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক রেখায় বাংলা বিভক্ত করার প্রধান প্রবক্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকারপাকিস্তান আন্দোলন
বিস্তারিত→মোহাম্মদ আলী জওহর
নেতৃত্বব্যক্তি
খিলাফত নেতা, সাংবাদিক ও ঔপনিবেশিকবিরোধী রাজনীতিক
“খিলাফত নেতা ও সাংবাদিক, যিনি মুসলিম গণসংগঠনকে অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করেন।”
ভাই শওকত আলী ও অন্য নেতাদের সঙ্গে তিনি খিলাফত আন্দোলন সংগঠিত করেন এবং এর কর্মসূচিকে গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করেন।
মোহাম্মদ আলী জওহর ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সাংবাদিকও: ১৯১১ সালে তিনি ইংরেজি সাপ্তাহিক দ্য কমরেড এবং ১৯১৩ সালে উর্দু পত্রিকা হামদর্দ প্রকাশ করেন। তাঁর জনপরিসরের কাজ মুসলিম রাজনৈতিক সংগঠন, ঔপনিবেশিকবিরোধী প্রতিবাদ, শিক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সহযোগিতা নিয়ে বিতর্ককে একত্র করে।
তাঁর বক্তৃতা, সংবাদপত্র ও কারাবরণ তাঁকে বিশ শতকের গোড়ার মুসলিম ও ঔপনিবেশিকবিরোধী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠে পরিণত করে। ১৯২০ সালে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হিসেবেও তিনি যুক্ত ছিলেন এবং ১৯২৩ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হন; তবে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান পুরো কর্মজীবনে একরকম ছিল না।
খিলাফতঔপনিবেশিকবিরোধীগণরাজনীতিসাংবাদিকতা
বিস্তারিত→শওকত আলী
নেতৃত্বব্যক্তি
খিলাফত নেতা ও ঔপনিবেশিকবিরোধী সংগঠক
“খিলাফত গণসংগঠনকে অসহযোগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা আলী ভ্রাতৃদ্বয়ের অন্যতম নেতা।”
ভাই মোহাম্মদ আলী জওহর ও অন্য নেতাদের সঙ্গে তিনি খিলাফত আন্দোলন শুরু ও সংগঠিত করেন এবং এর সঙ্গে গান্ধীর অসহযোগ কর্মসূচির যোগসূত্র তৈরি করেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অটোমান খিলাফতের পক্ষে ভারতীয় মুসলমানদের জনমত সংগঠিত করতে আলী ভ্রাতৃদ্বয় কাজ করেন এবং কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৃহত্তর ঔপনিবেশিকবিরোধী জোট গড়ে তোলেন। শওকত আলীর সক্রিয়তার মধ্যে জনসভা, রাজনৈতিক সংগঠন ও ঔপনিবেশিক সরকারের কারাবরণ ছিল।
তিনি খিলাফত প্রশ্নকে গণরাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ দিতে এবং অসহযোগ পর্বে মুসলিম নেতৃত্বকে কেন্দ্রীয় করে তুলতে সাহায্য করেন। আন্দোলন স্থগিত হওয়া ও অটোমান খিলাফত বিলুপ্তির পর এই জোট দুর্বল হয়ে পড়ার ইতিহাসও তাঁর রাজনৈতিক পথচলায় প্রতিফলিত হয়।
খিলাফতগণআন্দোলনরাজনীতিঔপনিবেশিকবিরোধী
বিস্তারিত→ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
সম্মিলিত কণ্ঠসংস্থা
ছাত্রসমষ্টি
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষা আন্দোলনকে গণমানুষের সংগ্রামে রূপ দেওয়া ছাত্রসমষ্টি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সভা, মিছিল, ধর্মঘট ও বিতর্কের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনকে ক্যাম্পাসের রাজনীতি থেকে জনপরিসরের প্রতিবাদে নিয়ে যায়।
১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদস্থলে পরিণত হয়। শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারাসহ বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বৃহত্তর নাগরিক আন্দোলনে যুক্ত হয়।
তাদের সম্মিলিত পদক্ষেপ ভাষার অধিকারকে গণরাজনৈতিক দাবিতে রূপ দিতে সাহায্য করে এবং পূর্ববাংলার পরবর্তী গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ইতিহাসের একটি ভিত্তিগত অধ্যায় তৈরি করে।
বিস্তারিত→প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
শহীদব্যক্তি
চট্টগ্রামের সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের কর্মী
“বাংলার বিপ্লবী ইতিহাসে নারী নেতৃত্বের উজ্জ্বল নাম।”
চট্টগ্রামের বিপ্লবী অভিযানে অংশ নিয়ে তিনি পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ দলে নেতৃত্ব দেন।
যে সময়ে নারীর সশস্ত্র অংশগ্রহণ বিরল ছিল, সে সময়ে তিনি বিপ্লবী রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেন।
তাঁর আত্মত্যাগ বাংলার ঔপনিবেশিকবিরোধী সংগ্রামে নারীর সাহসের এক স্থায়ী প্রতীক।
চট্টগ্রামবিপ্লবনারীশহীদ
বিস্তারিত→বিনোদ বিহারী চৌধুরী
নেতৃত্বব্যক্তি
চট্টগ্রাম বিদ্রোহের অংশগ্রহণকারী
বিনোদ বিহারী চৌধুরী বাংলা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক ধারায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বাংলা অঞ্চলে দক্ষিণ এশীয় রাজনৈতিক ও বৌদ্ধিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট।
তাঁর উত্তরাধিকার বাংলা/বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সমাজ ও স্মৃতির ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।
১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকার
বিস্তারিত→সূর্য সেন
নেতৃত্বব্যক্তি
চট্টগ্রাম বিদ্রোহের বিপ্লবী সংগঠক
“মাস্টারদা বিপ্লবী শৃঙ্খলাকে জনআন্দোলনের শক্তিতে পরিণত করেন।”
চট্টগ্রাম বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলে তিনি ১৯৩০ সালের অস্ত্রাগার আক্রমণের নেতৃত্ব দেন।
বঙ্গভঙ্গ-পরবর্তী স্বদেশি ও যুগান্তর ধারার বিপ্লবী রাজনীতি থেকে তাঁর সংগঠক-নেতৃত্ব তৈরি হয়।
বাংলার জনস্মৃতিতে তিনি সশস্ত্র ঔপনিবেশিকবিরোধী প্রতিরোধের অন্যতম প্রতীক।
চট্টগ্রামবিপ্লবঔপনিবেশিকবিরোধী১৯৩০
বিস্তারিত→হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
নেতৃত্বব্যক্তি
অখণ্ড বাংলার মুখ্যমন্ত্রী
অখণ্ড বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশভাগ-পূর্ব সংকটময় রাজনীতির কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং যুক্ত বাংলা প্রস্তাবের প্রধান সমর্থকদের একজন ছিলেন।
কলকাতা ও বাংলা, ১৯৪৬-১৯৪৭।
বাংলা যুক্ত থাকবে, ভাগ হবে, নাকি স্বাধীন পথ নেবে—এই বিতর্কের গতিপথ নির্ধারণে তিনি বড় ভূমিকা রাখেন।
১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকারযুক্ত বাংলা
বিস্তারিত→কৃষক প্রজা পার্টি
সংগঠনদল
বাংলার কৃষকভিত্তিক রাজনৈতিক দল
“ফজলুল হকের নেতৃত্বে ১৯৩০-এর দশকে কৃষক-প্রজার দাবি প্রাদেশিক আইনসভায় নিয়ে আসা দল।”
এ. কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দলটি জমিদার ও মহাজনবিরোধী কর্মসূচির মাধ্যমে প্রজা ও কৃষকের দাবি নির্বাচনী রাজনীতিতে নিয়ে আসে।
অল বেঙ্গল টেন্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন থেকে কৃষক প্রজা পার্টির বিকাশ ঘটে এবং ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে বাংলার প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচনে দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ১৯৩৭ সালের সাফল্যের পর ফজলুল হক জোট সরকার গঠন করেন; তবে দলের কৃষকভিত্তিক কর্মসূচি ও পরে মুসলিম লীগের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
দলটি কৃষকের অসন্তোষ, গ্রামীণ প্রতিনিধিত্ব, কৃষিঋণ থেকে মুক্তি ও প্রজাস্বত্ব সংস্কারকে বাংলার প্রাদেশিক রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে আনে। একই সঙ্গে স্বল্পস্থায়ী সংগঠনটি দেশভাগের আগে কৃষকভিত্তিক প্রতিশ্রুতিকে স্থায়ী জোট সরকারে রূপ দেওয়ার সীমাবদ্ধতাও দেখায়।
কৃষি-রাজনীতিপ্রজা-অধিকারবাংলার-রাজনীতিঔপনিবেশিক-ইতিহাস
বিস্তারিত→সুভাষচন্দ্র বসু
নেতৃত্বব্যক্তি
বাংলা-নির্ভর রাজনৈতিক শিকড়সম্পন্ন জাতীয়তাবাদী নেতা
“সাম্রাজ্যের শেষ পর্বে বাংলা থেকে উঠে আসা এক শক্তিশালী জাতীয় কণ্ঠ।”
ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি সশস্ত্র ও দৃঢ় রাজনৈতিক কৌশলকে সামনে আনেন এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেন।
কলকাতাকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে সর্বভারতীয় পর্যায়ে তাঁর উত্থান উপনিবেশিক সময়ের আদর্শগত দ্বন্দ্বকে স্পষ্ট করে।
সার্বভৌমত্ব, প্রতিরোধ ও নেতৃত্ব নিয়ে বাংলা ও উপমহাদেশের রাজনৈতিক স্মৃতিতে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব।
ঔপনিবেশিকবিরোধীজাতীয়তাবাদনেতৃত্ববাংলা-রাজনীতি
বিস্তারিত→মাতঙ্গিনী হাজরা
নেতৃত্বব্যক্তি
গান্ধীবাদী ঔপনিবেশিকবিরোধী নেত্রী
“১৯৪২ সালে তমলুকে ভারত ছাড়ো মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে নিহত গান্ধীবাদী নেত্রী।”
গান্ধীবাদী সংগঠক হিসেবে তিনি আইন অমান্য আন্দোলন, লবণ সত্যাগ্রহ ও চৌকিদারি কর-বিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং পরে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে একটি বৃহৎ মিছিলের নেতৃত্ব দেন।
তমলুকের কাছে হোগলা গ্রামের দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া মাতঙ্গিনী হাজরা স্থানীয় গণরাজনীতির মধ্য দিয়ে ঔপনিবেশিকবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন। ১৯৩২ সালে লবণ আইন ভাঙার জন্য এবং পরে চৌকিদারি কর-বিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হন; মানুষ তাঁকে ‘গান্ধীবুড়ি’ নামে ডাকত।
২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪২ সালে ৭২ বছর বয়সে তিনি প্রধানত নারীদের নিয়ে হাজারো মানুষের মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে তমলুকে সরকারি দপ্তরের দিকে এগিয়ে যান। পুলিশের গুলিতে পতাকা হাতে তাঁর মৃত্যু ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নারীর অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের স্থায়ী প্রতীকে পরিণত হয়।
ঔপনিবেশিকবিরোধীনারী-ইতিহাসগণরাজনীতিবাংলা
বিস্তারিত→