Discover Bengal · Unfolded
❦উইলিয়াম ফস্টার / চার্লস ফসেট
স্রষ্টা/অবদানকারী
এই নামের সাথে যুক্ত সব রিসোর্স একসাথে দেখুন।
সম্পর্কিত ইভেন্ট
৬
১৬১২
বাংলায় মুঘল বিজয় পর্বের মূল সমাপ্তি
১৬১২ সালের মধ্যে বাংলায় মুঘল বিজয় প্রক্রিয়ার প্রধান পর্ব কার্যত সম্পন্ন হয়; রাজমহল-পরবর্তী যুগে বারো-ভূঁইয়া-সহ আঞ্চলিক প্রতিরোধ শক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের ফলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়ভাবে কিছু ভিন্নতা থাকলেও সামগ্রিক ক্ষমতার ভারসাম্য তখন স্পষ্টভাবে মুঘল প্রাদেশিক শাসনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
১৭০৪-১৭১৭
মুর্শিদ কুলি খানের রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর
অষ্টাদশ শতকের শুরুতে মুর্শিদ কুলি খান বাংলার কার্যকর প্রশাসনিক কেন্দ্র ঢাকার বদলে মকসুদাবাদে স্থানান্তর করেন, যা পরে মুর্শিদাবাদ নামে পরিচিত হয়। এই পদক্ষেপ রাজস্ব প্রশাসনকে আরও কেন্দ্রীভূত করে, দরবার ও ব্যাংকার নেটওয়ার্ককে নতুন কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করে, এবং পলাশীর আগে বাংলার শাসনভৌগোলিক কাঠামো পুনর্গঠন করে।
১৭৫৭
পলাশীর যুদ্ধ
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলে দেয়। স্বল্পস্থায়ী সামরিক সংঘর্ষটি দরবারি ষড়যন্ত্র, সামরিক পক্ষত্যাগ, এবং আর্থিক জোটের মধ্য দিয়ে সিরাজউদ্দৌলার অবস্থান ভেঙে দেয় এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা মজবুত করে। এর পরিণতিতে শাসন, রাজস্ব আহরণ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে গভীর পরিবর্তন আসে।
১৭৬৪
বক্সারের যুদ্ধ
১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে মীর কাসিম, শুজাউদ্দৌলা ও শাহ আলম দ্বিতীয়ের সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে নির্ণায়ক সামরিক সুবিধা দেয়। পলাশী বাংলায় প্রভাবের দরজা খুলেছিল, কিন্তু বক্সার সেই প্রভাবকে বৃহত্তর আঞ্চলিক বলপ্রয়োগী ক্ষমতায় রূপ দেয়। এর ফল ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি বন্দোবস্ত এবং গভীরতর ঔপনিবেশিক রাজস্ব-নিয়ন্ত্রণের পথ তৈরি করে।
১৭৬৫
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি অধিকার পায়
১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি, অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ের অধিকার, লাভ করে। এই বন্দোবস্ত পলাশী-পরবর্তী প্রভাবকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ক্ষমতায় রূপ দেয়। মুঘল ও নবাবি প্রতিষ্ঠান আংশিক বহাল থাকলেও রাজস্ব আহরণ, প্রশাসনিক প্রভাব ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ক্রমে কোম্পানির দিকে সরে যায়।
১৭৭০
মহা বাংলা দুর্ভিক্ষ
১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষ বাংলাকে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে ফেলেছিল। ফসলহানি, খাদ্যবাজারের বিকৃতি এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কঠোর রাজস্ব আদায় একত্রে পরিবেশগত সংকটকে সামাজিক ধসের দিকে ঠেলে দেয়। এই অধ্যায় দেখায়, ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক অর্থনীতি কীভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।