Discover Bengal · Unfolded
❦শেখ মুজিবুর রহমান
স্রষ্টা/অবদানকারী
এই নামের সাথে যুক্ত সব রিসোর্স একসাথে দেখুন।
রিসোর্সসমূহ
৩
আমার দেখা নয়াচীন
cultural-and-literary-resources · Literature and Cultural Texts
শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৫২ সালের চীনভ্রমণ ও উত্তর-ঔপনিবেশিক এশীয় রাজনীতির ভ্রমণকথা।
কারাগারের রোজনামচা
reference-sources · General Reference
শেখ মুজিবুর রহমানের কারাজীবনের দিনলিপি ১৯৬৬-১৯৬৮-এর দমন-পীড়ন এবং ছয় দফা পর্বকে ধরে।
অসমাপ্ত আত্মজীবনী
memoirs-and-eyewitness-accounts · Memoirs and Testimonies
শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী ১৯৩০-৫০-এর দশকের বঙ্গ রাজনীতি, মুসলিম লীগ, এবং ভাষা আন্দোলন বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পর্কিত ইভেন্ট
৮
১৯৫২
ভাষা আন্দোলন
১৯৪৭-এর পর প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়, ভাষা আন্দোলন তারই ধারাবাহিকতা। গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবি, শিক্ষা ও প্রশাসনে বাংলার মর্যাদা, এবং পাকিস্তানি রাষ্ট্রের উর্দু-একক নীতির সংঘর্ষ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-তে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়; ছাত্র-জনতার ১৪৪ ধারা ভঙ্গ ও পুলিশি গুলিবর্ষণ ভাষাকে বাঙালির রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের নৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করে।
১৯৬৬
ছয়-দফা কর্মসূচি ঘোষণা
১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ছয়-দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন, যা পাকিস্তানের কাঠামোর ভেতরে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের সুস্পষ্ট সাংবিধানিক দাবি হিসেবে সামনে আসে। প্রতিনিধিত্ব, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে এই কর্মসূচি দ্রুত বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।
১৯৬৯
গণঅভ্যুত্থান
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ সামরিক-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্র, শ্রমিক, বিরোধী রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের যুগপৎ প্রতিবাদের শীর্ষ পর্ব। এই আন্দোলন আইয়ুব শাসনের ভিত্তি নড়বড়ে করে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নকে মূলধারায় আনে, এবং ১৯৭০-এর নির্বাচন ও পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের জন্য রাজনৈতিক জমিন তৈরি করে।
১৯৭০
ভোলা ঘূর্ণিঝড় ও ১৯৭০-এর নির্বাচন
১৯৭০ সালের শেষভাগে পূর্ব পাকিস্তান প্রথমে ১২ নভেম্বরের ভয়াবহ ভোলা ঘূর্ণিঝড়ে এবং তারপর ৭ ডিসেম্বরের সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারভিত্তিক পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে গভীরভাবে কেঁপে ওঠে। ঘূর্ণিঝড় প্রশাসনিক অবহেলা, ত্রাণ ব্যর্থতা ও আঞ্চলিক বৈষম্যের নির্মমতা উন্মোচন করে, আর নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ বিপুল গণরায় পায়। পরিবেশগত বিপর্যয় ও অস্বীকৃত গণরায় - এই দুই মিলেই স্বায়ত্তশাসনের রাজনীতিকে মুক্তিযুদ্ধের পূর্বমুহূর্তে এক তাৎক্ষণিক সাংবিধানিক সংকটে রূপ দেয়।
১৯৩৫
গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯৩৫
গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট ১৯৩৫ দেরি-ঔপনিবেশিক ভারতে সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক পুনর্গঠনের একটি, যেখানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন সম্প্রসারণ এবং নির্বাচনী কাঠামো বিস্তৃত করা হয়। বাংলায় এই নতুন বিধান জোট-রাজনীতি, আইনসভা প্রতিযোগিতা এবং প্রতিনিধিত্বের রূপ পাল্টে দেয়; ১৯৩৭-এর প্রাদেশিক নির্বাচন ও পরবর্তী বিভাজন-পর্বের সাংবিধানিক সংঘাতের ভিত এখানেই তৈরি হয়।
১৯৪৭
দেশভাগ ও পূর্ববঙ্গ
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভারত ও পাকিস্তানে বিভক্ত হয়, আর বাংলা ভাগ হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ববঙ্গে পরিণত হয়। কিন্তু এই অধ্যায় শুধু সাংবিধানিক বিভাজনের নয়; বিলম্বিত র্যাডক্লিফ সীমারেখা, সংখ্যালঘু অনিরাপত্তা, উদ্বাস্তু স্রোত, এবং প্রশাসনিক ভাঙন বাংলার দৈনন্দিন জীবনকে আমূল বদলে দেয় এবং পূর্ববঙ্গে ভাষা, স্বায়ত্তশাসন ও রাষ্ট্রীয় বৈধতার পরবর্তী সংকটের ভিত্তি তৈরি করে।
১৯৫৪
পূর্ববঙ্গের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পূর্ববঙ্গে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিপুল বিজয় অর্জন করে। প্রতিনিধিত্ব, ভাষার অধিকার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের জনঅসন্তোষ এই ফলাফলে প্রতিফলিত হয় এবং আঞ্চলিক গণতান্ত্রিক দাবির রাজনীতি নতুন গতি পায়।
১৯৫৮
পাকিস্তানে সামরিক আইন
১৯৫৮ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয়; সংসদীয় রাজনীতি স্থগিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা কেন্দ্রীভূত কর্তৃত্ববাদী কাঠামোয় চলে যায়। পূর্ব পাকিস্তানে এই সামরিক আইন প্রাদেশিক গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত করে, আমলাতান্ত্রিক-সামরিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে, এবং প্রতিনিধিত্ব ও স্বায়ত্তশাসন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষকে আরও গভীর করে।