পলাশীর যুদ্ধ
ঔপনিবেশিক শাসন ও প্রতিরোধ
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বদলে দেয়। সংক্ষিপ্ত একটি সামরিক সংঘর্ষ জোট-রাজনীতি, বিশ্বাসঘাতকতা ও অর্থনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা মজবুত করে। এর পরিণতিতে শাসন, রাজস্ব আহরণ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে গভীর পরিবর্তন আসে।
বক্সারের যুদ্ধ
ঔপনিবেশিক শাসন ও প্রতিরোধ
১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে মীর কাসিম, শুজাউদ্দৌলা ও শাহ আলম দ্বিতীয়ের সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে নির্ণায়ক সামরিক সুবিধা দেয়। পলাশী বাংলায় প্রভাবের দরজা খুলেছিল, কিন্তু বক্সার সেই প্রভাবকে বৃহত্তর আঞ্চলিক বলপ্রয়োগী ক্ষমতায় রূপ দেয়। এর ফল ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি বন্দোবস্ত এবং গভীরতর ঔপনিবেশিক রাজস্ব-নিয়ন্ত্রণের পথ তৈরি করে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি অধিকার পায়
ঔপনিবেশিক শাসন ও প্রতিরোধ
১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি, অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ের অধিকার, লাভ করে। এই বন্দোবস্ত পলাশী-পরবর্তী প্রভাবকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ক্ষমতায় রূপ দেয়। মুঘল ও নবাবি প্রতিষ্ঠান আংশিক বহাল থাকলেও রাজস্ব আহরণ, প্রশাসনিক প্রভাব ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ক্রমে কোম্পানির দিকে সরে যায়।
মহা বাংলা দুর্ভিক্ষ
ঔপনিবেশিক শাসন ও প্রতিরোধ
১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষ বাংলাকে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে ফেলেছিল। ফসলহানি, খাদ্যবাজারের বিকৃতি এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কঠোর রাজস্ব আদায় একত্রে পরিবেশগত সংকটকে সামাজিক ধসের দিকে ঠেলে দেয়। এই অধ্যায় দেখায়, ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক অর্থনীতি কীভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত
ঔপনিবেশিক শাসন ও প্রতিরোধ
১৭৯৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করে। ভূমি-রাজস্ব স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করা হয় এবং জমিদার ও তালুকদারদের ঔপনিবেশিক আইনে বংশানুক্রমিক ভূস্বামী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কোম্পানির লক্ষ্য ছিল রাজস্ব আয়কে নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় ভূমিমালিক শ্রেণিকে নিজের শাসনের সঙ্গে যুক্ত করা, কিন্তু এর ফলে কৃষিজ অসমতা বাড়ে এবং চাষিদের প্রথাগত অধিকার আরও দুর্বল হয়।
পূর্ব বাংলায় ফরায়েজি আন্দোলনের সূচনা
ঔপনিবেশিক শাসন ও প্রতিরোধ
১৮১৮ সাল থেকে হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন পূর্ব বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হতে শুরু করে। এটি একদিকে ছিল ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন, অন্যদিকে ঔপনিবেশিক ও জমিদারি কাঠামোর অধীনে কৃষক-সমাজের অসন্তোষের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। আন্দোলনটি ইসলামের ফরজ পালনের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠিত গ্রামীণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।