Battle of Plassey, 1757
1757 · Plassey
Language Movement, 1952
1952 · Language
Liberation War, 1971
1971 · Liberation
Partition of Bengal and Swadeshi movement, 1905
1905 · Partition
❦

Discover Bengal · Unfolded

❦

সকল মূল ব্যক্তিত্ব

✦

অবদান, প্রেক্ষাপট ও প্রভাবভিত্তিক ডিরেক্টরি

প্রতিটি প্রোফাইলে কী করেছেন, কোথায় করেছেন, কেন গুরুত্বপূর্ণ—এই তিন স্তরে উপস্থাপন করা হয়েছে।

Est. 1947 · Bengal✺A Bilingual Archive

ফিল্টার ও সার্চ

✦

কিওয়ার্ড, সত্তার ধরন ও ভূমিকা দিয়ে তালিকা বাছাই করুন

ব্যক্তিত্ব ডিরেক্টরি

✦

552 প্রোফাইল

উইলিয়াম ওয়াটস

সমন্বয়কব্যক্তি

মুর্শিদাবাদে কোম্পানির রাজনৈতিক প্রতিনিধি

“উইলিয়াম ওয়াটস পলাশীর আগে মুর্শিদাবাদে কোম্পানির রাজনৈতিক মধ্যস্থতাকারী ছিলেন।”

মুর্শিদাবাদে কোম্পানির প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিনি সিরাজবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় সক্রিয় ছিলেন।

পলাশীপূর্ব কোম্পানির কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা।

তার ভূমিকা গোপন দরকষাকষিকে কৌশলগত সুবিধায় রূপান্তর করতে সহায়তা করে।

পলাশীমুর্শিদাবাদকোম্পানি কূটনীতি
বিস্তারিত→

উমিচাঁদ

সমন্বয়কব্যক্তি

বণিক-মধ্যস্থতাকারী

“উমিচাঁদ পলাশীর আগে ক্যালকাটার বণিক-মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কোম্পানি কর্মকর্তা ও বাংলার অভিজাতদের আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।”

ক্যালকাটাকেন্দ্রিক বণিক হিসেবে তিনি পলাশীপূর্ব কোম্পানি কর্মকর্তা ও বাংলার অভিজাত রাজনীতির আলোচনায় জড়িত ছিলেন।

১৭৫৭ সালের বাণিজ্যিক মধ্যস্থতা ও গোপন দরকষাকষি।

তার ঘটনাপ্রবাহ দেখায়, পলাশীর পথে বাণিজ্য, কূটনীতি ও ছলনার সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ ছিল।

পলাশীবণিক রাজনীতিকলকাতা
বিস্তারিত→

খাজা আবদুল হাদি খান

সমন্বয়কব্যক্তি

রাজমহলের ফৌজদার

“খাজা আবদুল হাদি খানের পরিচয় পলাশী-যুগে রাজমহলের জেলা-পর্যায়ের সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার গুরুত্ব দেখায়।”

বাংলা ঐতিহাসিক বয়ানে তিনি পলাশী-যুগের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে যুক্ত অন্যতম ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত।

নবাবি বাংলার আঞ্চলিক সামরিক-প্রশাসনিক কাঠামো।

তার উপস্থিতি দেখায়, ১৭৫৭-এর সংকট শুধু দরবারে সীমাবদ্ধ ছিল না; জেলা-পর্যায়ের ক্ষমতাকাঠামোকেও ছুঁয়েছিল।

পলাশীরাজমহলনবাবি প্রশাসন
বিস্তারিত→

খাজা ওয়াজিদ

সমন্বয়কব্যক্তি

প্রভাবশালী আর্মেনিয়ান বণিক

“খাজা ওয়াজিদের বাণিজ্যিক প্রভাব পলাশী-যুগে অর্থনীতি, ঋণ ও দরবারি রাজনীতির আন্তঃসম্পর্ক তুলে ধরে।”

বাংলার বাণিজ্য নেটওয়ার্কে তিনি শক্তিশালী বণিক ছিলেন এবং পলাশী-যুগের উচ্চস্তরের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দরকষাকষির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি বাংলার বাণিজ্য-দরবারি রাজনীতি।

তার ভূমিকা দেখায়, সার্বভৌম ক্ষমতা বদলের সঙ্গে বণিক-অভিজাত শক্তি কতটা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল।

পলাশী যুগবাণিজ্যআর্মেনীয় নেটওয়ার্ক
বিস্তারিত→

খাজা পেত্রুস

সমন্বয়কব্যক্তি

আর্মেনিয়ান দরবারি-বাণিজ্যিক মধ্যস্থতাকারী

“খাজা পেত্রুস পলাশী-পর্বের দরবারি ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কে আর্মেনিয়ান মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতির উদাহরণ।”

বাংলা ঐতিহাসিক রেফারেন্সে তিনি পলাশী-পর্বের দরবারি-বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে উল্লেখিত।

নবাবি বাংলায় আর্মেনিয়ান মধ্যস্থতাকারী গোষ্ঠী।

তার উপস্থিতি দেখায়, ১৭৫৭-এর রূপান্তরে বাণিজ্য, কূটনীতি ও দরবারি সমীকরণকে যুক্ত করা মধ্যস্থতাকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

পলাশী যুগমধ্যস্থআর্মেনীয় নেটওয়ার্ক
বিস্তারিত→

ঘসেটি বেগম

সমন্বয়কব্যক্তি

নবাবি দরবারের প্রভাবশালী শক্তি

“পলাশীর আগে সিরাজবিরোধী সমীকরণের সঙ্গে যুক্ত মুর্শিদাবাদ দরবারের প্রভাবশালী ব্যক্তি।”

ঘসেটি বেগম মুর্শিদাবাদের দরবারে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন এবং পলাশীর আগে সিরাজউদ্দৌলাবিরোধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

১৭৫৭ সালের আগে নবাবি দরবারের উত্তরাধিকার ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মধ্যে তাঁর প্রভাব গড়ে ওঠে। দরবারি রাজনীতি সামরিক কমান্ডার, ব্যাংকার ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলে যায়।

ঘসেটি বেগমের অবস্থান দেখায়, পলাশীর রাজনৈতিক পূর্বশর্ত শুধু ব্রিটিশ সামরিক হস্তক্ষেপে নয়, দরবারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতেও গঠিত হয়েছিল।

পলাশীদরবার রাজনীতিমুর্শিদাবাদ
বিস্তারিত→

চার্লস ওয়াটসন

নেতৃত্বব্যক্তি

রয়্যাল নেভির অ্যাডমিরাল

“পলাশীর আগে কলকাতা পুনর্দখলে সহায়তাকারী রয়্যাল নেভি কমান্ডার।”

অ্যাডমিরাল চার্লস ওয়াটসন ১৭৫৬–১৭৫৭ সালে বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অভিযানে সহায়তাকারী রয়্যাল নেভি বাহিনীর নেতৃত্ব দেন।

সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে সম্মিলিত সামরিক অভিযানে তাঁর নৌ-হস্তক্ষেপ ঘটে, যখন ব্রিটিশরা কলকাতা পুনর্দখল ও পলাশীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

ওয়াটসনের ভূমিকা দেখায়, পলাশীর আগে বাংলায় রয়্যাল নেভির সম্পদ ও কোম্পানির রাজনৈতিক স্বার্থ কীভাবে একত্র হয়েছিল।

পলাশী যুগনৌ ক্ষমতাব্রিটিশ হস্তক্ষেপ
বিস্তারিত→

নবা সিং হাজারী

সমন্বয়কব্যক্তি

নবাবপন্থী সামরিক কর্মকর্তা

“নবা সিং হাজারী পলাশী-সংক্রান্ত বর্ণনায় উল্লেখিত অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত নবাবি কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিত্ব করেন।”

বাংলা তথ্যভিত্তিক ঐতিহাসিক রেফারেন্সে তাকে পলাশী-সংশ্লিষ্ট সামরিক ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখ করা হয়।

১৭৫৭ সালের নবাবি সামরিক সমীকরণ।

তিনি দেখান যে যুদ্ধটি শুধু কয়েকজন বিখ্যাত সেনানায়কের মধ্যে সীমিত ছিল না; বৃহত্তর কর্মকর্তা-জাল জড়িত ছিল।

পলাশীসামরিক নেটওয়ার্কনবাবি বাংলা
বিস্তারিত→

মীর মদন

শহীদব্যক্তি

পলাশীতে নবাব বাহিনীর গোলন্দাজ কমান্ডার

পলাশীর যুদ্ধে তিনি সিরাজপন্থী সক্রিয় লড়াই করেন এবং যুদ্ধে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে নিহত হন।

২৩ জুন ১৭৫৭, পলাশীর সম্মুখসমর।

তার মৃত্যু নবাব শিবিরের লড়াইয়ের মনোবলকে দুর্বল করে এবং যুদ্ধের ভারসাম্য বদলে দেয়।

পলাশীআর্টিলারিশহীদত্ব
বিস্তারিত→

মীরন

সমন্বয়কব্যক্তি

মীর জাফর শিবিরের সামরিক-রাজনৈতিক ব্যক্তি

“মীর জাফরের পুত্র মীরন পলাশীর পর বাংলার উত্তরাধিকার-সংকটে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক-রাজনৈতিক ভূমিকা নেন।”

মীর জাফরের পুত্র হিসেবে তিনি পলাশী-পরবর্তী ক্ষমতা সংহতকরণে সক্রিয় ভূমিকা নেন।

পলাশী-পরবর্তী উত্তরাধিকার ও দমনভিত্তিক রাজনীতি।

তার কার্যকলাপ কোম্পানিসমর্থিত নতুন ক্ষমতা কাঠামোকে স্থিত করতে সহায়তা করে।

পলাশীউত্তরাধিকারবাংলা রাজনীতি
বিস্তারিত→

মোহনলাল

নেতৃত্বব্যক্তি

সিরাজপন্থী প্রধান কর্মকর্তা

“মোহনলাল পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার শিবিরের অন্যতম প্রধান অনুগত সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন।”

সিরাজের শিবিরে তিনি সক্রিয় বিশ্বস্ত নেতৃত্বের অন্যতম ছিলেন এবং অন্যদের দ্বিধার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যান।

পলাশীর ময়দানে আনুগত্য বনাম ষড়যন্ত্রের দ্বন্দ্ব।

তিনি নবাব শিবিরের সেই প্রতিরোধী অংশের প্রতীক, যারা শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ মানেনি।

পলাশীঅনুগতসামরিক প্রতিরোধ
বিস্তারিত→

রবার্ট ক্লাইভ

নেতৃত্বব্যক্তি

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামরিক কমান্ডার

“পলাশীর জয়ের মাধ্যমে বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা সামরিক কমান্ডার।”

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সামরিক কমান্ডার হিসেবে তিনি পলাশীর যুদ্ধে কোম্পানি বাহিনীকে নেতৃত্ব দেন এবং বাংলার দরবারি গোষ্ঠীগুলোর জোট কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশ প্রভাব বিস্তার করেন।

বাংলায় তাঁর কর্মজীবনের কেন্দ্র ছিল ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ, ১৭৬৫ সালের পর কোম্পানির রাজস্ব-অধিকার এবং পরবর্তী সামরিক-রাজনৈতিক সম্প্রসারণ।

পলাশীতে ক্লাইভের জয় ও পরবর্তী রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাংলা রাজদরবার ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কোম্পানি-প্রধান শাসনের দিকে ঠেলে দেয়।

পলাশীপূর্ব ভারত কোম্পানিঔপনিবেশিক বিস্তার
বিস্তারিত→

রায় দুর্লভ রাম

সমন্বয়কব্যক্তি

পলাশীতে নবাব বাহিনীর সেনাপতি

“পলাশীতে রায় দুর্লভ রামের নিষ্ক্রিয়তা সিরাজউদ্দৌলার অবস্থান দুর্বল করা অভিজাত সামরিক সমীকরণগুলোর একটি ছিল।”

পলাশীতে তার নিষ্ক্রিয়তা সিরাজের সামরিক অবস্থানকে দুর্বল করে এবং যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলকে প্রভাবিত করে।

পলাশীর যুদ্ধে সামরিক আনুগত্যের সংকট।

তার ভূমিকা দেখায়, অভিজাত অবস্থান-পরিবর্তন কীভাবে যুদ্ধের রাজনৈতিক ফল নির্ধারণ করে।

পলাশীসামরিকঅভিজাত পুনর্বিন্যাস
বিস্তারিত→

লুক স্ক্রাফটন

সমন্বয়কব্যক্তি

কোম্পানি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক সহযোগী

“লুক স্ক্রাফটন পলাশীর সময়পর্বে কোম্পানির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেটওয়ার্কের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।”

পলাশীর সময়পর্বে বাংলায় কোম্পানির রাজনৈতিক তৎপরতায় তিনি যুক্ত ছিলেন।

অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি বাংলায় কোম্পানির প্রশাসনিক-রাজনৈতিক কাঠামো।

তিনি দেখান, শুধু সেনাপতি নয়; কোম্পানির বৃহত্তর আমলাতান্ত্রিক নেটওয়ার্কও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখে।

পলাশীকোম্পানি কর্মকর্তাবাংলা রাজনীতি
বিস্তারিত→

মীর কাসিম

নেতৃত্বব্যক্তি

বাংলার নবাব ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতার চ্যালেঞ্জকারী

১৭৬০ সালে কোম্পানি মীর জাফরকে সরিয়ে মীর কাসিমকে নবাব করার পর তিনি বাংলার সরকারের আর্থিক ও সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করেন। তিনি রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে সরান, সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন, জমি জরিপ করেন, লাখেরাজ জমি পুনরায় রাজস্বের আওতায় আনেন এবং রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ান।

পলাশীর পরের সময়, যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীদের ব্যক্তিগত বাণিজ্য ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নবাবের কর্তৃত্ব সীমিত করছিল। কোম্পানির কর্মচারীরা ১৭১৭ সালের দস্তক ব্যবস্থার অপব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ শুল্ক এড়াতেন; এতে ভারতীয় বণিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং নবাবের রাজস্ব কমে যায়।

কোম্পানির কর্মচারীরা যে সুবিধা নিজেদের জন্য দাবি করেছিল, ভারতীয় বণিকদেরও সেই সমতা দিতে মীর কাসিম অভ্যন্তরীণ শুল্ক তুলে দেন। এর পরিণতিতে ১৭৬৩ সালে যুদ্ধ শুরু হয়। পরাজয়ের পর তিনি শুজাউদ্দৌলা ও শাহ আলম দ্বিতীয়ের সঙ্গে জোট বাঁধেন, কিন্তু ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে জোট পরাজিত হয়। এই পরাজয় কোম্পানির রাজনৈতিক আধিপত্য শক্তিশালী করে এবং ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি লাভের পথ তৈরি করে।

বাংলার-নবাবকোম্পানি-শাসনদস্তকমুঙ্গের
বিস্তারিত→

ওয়ারেন হেস্টিংস

নেতৃত্বব্যক্তি

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর ও বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল

“ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রভাবকে রাজস্ব, আদালত ও রাজনৈতিক ক্ষমতাকেন্দ্রিক ঔপনিবেশিক প্রশাসনে রূপ দিতে সাহায্য করেন।”

১৭৭২ সালে বাংলার গভর্নর এবং ১৭৭৪ থেকে ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত ফোর্ট উইলিয়ামের গভর্নর-জেনারেল হিসেবে ওয়ারেন হেস্টিংস কোম্পানির দেওয়ানি প্রশাসনকে আরও সরাসরি কোম্পানি কর্মকর্তাদের অধীনে আনেন। তিনি রাজস্বের সদর দপ্তর মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় সরান, নতুন রাজস্ব কাঠামো গড়েন এবং কোম্পানির তত্ত্বাবধানে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পুনর্গঠন করেন।

১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভ এবং ১৭৭০ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের পর হেস্টিংস এমন সময় শাসন করেন, যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাণিজ্যিক শক্তি থেকে আঞ্চলিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হচ্ছিল। ১৭৭৩ সালের নিয়ন্ত্রণ আইন তাঁকে প্রথম গভর্নর-জেনারেল করে এবং কলকাতায় সুপ্রিম কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা করে। পাঁচসালা ইজারা বন্দোবস্তসহ তাঁর রাজস্ব-পরীক্ষাগুলোর লক্ষ্য ছিল বেশি ও নিয়মিত আদায়; কিন্তু এতে জমিদার ও কৃষকদের ওপর চাপও বেড়েছিল।

হেস্টিংসের প্রশাসন বাংলায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি—জেলা রাজস্ব প্রশাসন ও কোম্পানি-নিয়ন্ত্রিত আদালত—গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তাঁর উত্তরাধিকার বিতর্কিত: রাষ্ট্রগঠনের এই পদক্ষেপগুলো রাজস্ব-নিষ্কাশন, সামরিক সম্প্রসারণ এবং দুর্নীতি ও নিপীড়নের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল; পরে তাঁকে পার্লামেন্টে ইমপিচ করা হলেও তিনি খালাস পান।

ইস্ট-ইন্ডিয়া-কোম্পানিঔপনিবেশিক-বাংলাদেওয়ানিরাজস্ব-প্রশাসন
বিস্তারিত→

শাহ আলম দ্বিতীয়

নেতৃত্বব্যক্তি

মুঘল সম্রাট ও বাংলার দেওয়ানি প্রদানকারী সম্রাট

“শাহ আলম দ্বিতীয়ের ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি প্রদান বাংলায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আনুষ্ঠানিক রাজস্ব-ক্ষমতা ও ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনে।”

মূল নাম আলী গওহর শাহ আলম দ্বিতীয় ১৭৫৯ সালে মুঘল সম্রাট হন এবং পূর্ব ভারতে সাম্রাজ্যিক কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন। ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে মুঘল-আউধ-কোম্পানি জোটের পরাজয়ের পর ১২ আগস্ট ১৭৬৫ সালের এলাহাবাদ চুক্তিতে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি—রাজস্ব আদায়ের অধিকার—প্রদান করেন।

চুক্তির সময় সম্রাট আঞ্চলিক মিত্র ও কোম্পানির সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। দেওয়ানির বিনিময়ে কোম্পানি তাঁকে বছরে ২৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং কোড়া ও এলাহাবাদ জেলা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করে। এর ফলে বাংলার সম্পদের ওপর কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, যদিও শাসনের জন্য মুঘল বৈধতার আনুষ্ঠানিক কাঠামো বজায় রাখা হয়।

শাহ আলমের ফরমান বক্সারে কোম্পানির সামরিক জয়কে স্বীকৃত রাজস্ব-ক্ষমতায় রূপান্তরিত করে এবং বাংলায় ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি তৈরি করে। পরে মারাঠা সহায়তায় দিল্লিতে ফেরার চেষ্টা এবং ওয়ারেন হেস্টিংসের সময় কোম্পানির খাজনা বন্ধ করে কোড়া ও এলাহাবাদ আউধকে দিয়ে দেওয়া দেখায়, কীভাবে এই সাম্রাজ্যিক সম্পর্ক দ্রুত অসম হয়ে পড়েছিল।

শাহ-আলম-দ্বিতীয়মুঘল-সাম্রাজ্যবক্সারের-যুদ্ধদেওয়ানি
বিস্তারিত→

হাজী শরীয়তুল্লাহ

নেতৃত্বব্যক্তি

ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবর্তক

“ধর্মীয় সংস্কারকে তিনি গ্রামীণ সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেন।”

বাংলায় ফরায়েজি আন্দোলনের সূচনা করে তিনি গ্রামীণ মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় সংস্কার ও সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলেন।

ঊনবিংশ শতকের শুরুর ঔপনিবেশিক বাংলায় কৃষি-অর্থনীতি ও সামাজিক বৈষম্যের প্রেক্ষাপটে তাঁর আন্দোলন বিকশিত হয়।

বাংলার মুসলিম সমাজসংস্কার ও তৃণমূল সংগঠনে তিনি এক ভিত্তিমূলক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব।

ফরায়েজিসংস্কারগ্রামীণ-বাংলামুসলিম-ইতিহাস
বিস্তারিত→

চার্লস কর্নওয়ালিস

নেতৃত্বব্যক্তি

বাংলার গভর্নর-জেনারেল

“বাংলায় ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত গভর্নর-জেনারেল।”

বাংলার গভর্নর-জেনারেল হিসেবে চার্লস কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রশাসন তদারকি করেন। এতে কোম্পানির ভূমি-রাজস্ব দাবি স্থির করা হয় এবং জমিদারদের স্বত্বাধিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এই বন্দোবস্ত অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে কোম্পানি রাষ্ট্রগঠনের অংশ ছিল এবং রাজস্ব আদায় স্থিতিশীল করতে জমিদার শ্রেণিকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। এর প্রয়োগ বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ছিল।

কর্নওয়ালিসের ভূমিনীতি বাংলার কৃষি-ক্ষমতা, জমিদার-চাষি সম্পর্ক ও ঔপনিবেশিক রাজস্ব প্রশাসনকে দীর্ঘমেয়াদে বদলে দেয়।

১৭৯৩স্থায়ী বন্দোবস্তঔপনিবেশিক শাসন
বিস্তারিত→

রাজা রামমোহন রায়

নেতৃত্বব্যক্তি

বাংলা নবজাগরণের প্রারম্ভিক চিন্তক ও সমাজসংস্কারক

“ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে সংস্কার-সেতু নির্মাণে অগ্রগণ্য।”

সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কার বিষয়ে তিনি নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক ধারা প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলার আধুনিক জনআলোচনার ভিত্তি গড়ে।

ঔপনিবেশিক বাংলার প্রাথমিক পর্যায়ে ভাষা, আইন ও সমাজচিন্তার সংযোগস্থলে তিনি কাজ করেন।

বাংলার আধুনিক সংস্কারধারার অন্যতম প্রাথমিক নির্মাতা হিসেবে তাঁর ঐতিহাসিক গুরুত্ব স্থায়ী।

সংস্কারবাংলা-নবজাগরণচিন্তাআধুনিকতা
বিস্তারিত→