চট্টগ্রাম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
সংগঠনসংস্থা
আঞ্চলিক সংগ্রাম কমিটি
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে ভাষা আন্দোলনের সংগঠন ও বিস্তারে এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৯৫২-র আগে ও পরে চট্টগ্রাম জেলার আন্দোলনপর্ব।
এটি দেখায় ভাষা আন্দোলন কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক ছিল না; তা পুরো প্রদেশে বিস্তৃত হচ্ছিল।
বিস্তারিত→ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা
সম্মিলিত কণ্ঠসংস্থা
ছাত্রসমষ্টি
তারা আন্দোলন সংগঠনে অংশ নেয়, আহতদের পাশে দাঁড়ায়, এবং হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল ও এর আশপাশের আন্দোলনকেন্দ্র।
তাদের উদ্যোগ রক্তপাতের স্থানকে শোক, স্মৃতি ও প্রতিরোধের স্থানে পরিণত করে।
বিস্তারিত→তামদ্দুন মজলিশ
সংগঠনসংস্থা
বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন
আবুল কাসেমের নেতৃত্বে এই সংগঠনটি বাংলা রাষ্ট্রভাষার দাবিতে প্রাথমিক সংগঠিত প্রচারণা শুরু করে।
দেশভাগ-পরবর্তী ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠিত পর্যায়।
ভাষার দাবিকে প্রাথমিক বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি দিয়ে এটি জনরাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
বিস্তারিত→নভেরা আহমেদ
নেতৃত্বব্যক্তি
ভাস্কর ও স্মারক-সহযোগী
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশা ও ভাস্কর্য ভাবনায় সহায়তা করে তিনি এর প্রতীকী রূপ নির্মাণে ভূমিকা রাখেন।
একুশের শিল্পভিত্তিক স্মারক নির্মাণ।
তার কাজ আধুনিক শিল্প, জনস্মৃতি এবং বাঙালি জাতীয়তাবোধকে একত্রে যুক্ত করে।
বিস্তারিত→পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ
সংগঠনসংস্থা
ছাত্রসংগঠন
এই সংগঠন থেকেই ভাষা আন্দোলনের বহু তরুণ সংগঠক উঠে আসে, যারা ভাষার প্রশ্নকে গণরাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
দেশভাগ-পরবর্তী পূর্ববঙ্গের ছাত্ররাজনীতি।
এটি ছিল সেই প্রধান রাজনৈতিক ধারাগুলোর একটি, যেখান থেকে তরুণ নেতৃত্ব ভাষা আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়।
বিস্তারিত→মাহবুব উল আলম চৌধুরী
নেতৃত্বব্যক্তি
কবি ও আঞ্চলিক সংগঠক
চট্টগ্রামের ভাষা আন্দোলন সংগঠনে তিনি নেতৃত্ব দেন এবং ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-এর হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় প্রথম জাতীয়ভাবে আলোচিত কবিতা রচনা করেন।
চট্টগ্রাম এবং ভাষা আন্দোলনের সাংস্কৃতিক বিস্তার।
তিনি শোককে সাহিত্যে রূপ দেন এবং আন্দোলনকে ঢাকার বাইরে বিস্তৃত জনপরিসরে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেন।
বিস্তারিত→মুনীর চৌধুরী
নেতৃত্বব্যক্তি
শিক্ষক, নাট্যকার ও ভাষা আন্দোলনের বুদ্ধিজীবী
১৯৫২ সালের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং কারাগারে বসে “কবর” নাটক লেখেন, যা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী সাহিত্যিক প্রতিক্রিয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কারাবাস, এবং ১৯৫০-এর দশকের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক পরিসর।
তিনি ভাষা আন্দোলনকে এমন এক নাট্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক রূপ দেন, যা তাৎক্ষণিক সংঘর্ষের বহু বাইরে স্থায়ী প্রভাব ফেলে।
১৯৭১মুক্তিযুদ্ধবুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসসংস্কৃতি
বিস্তারিত→রফিক উদ্দিন আহমেদ
শহীদব্যক্তি
ভাষা শহীদ
১৪৪ ধারা ভেঙে ২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণ, ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২।
একুশের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করার অন্যতম প্রধান নাম হয়ে ওঠেন তিনি।
বিস্তারিত→শফিউর রহমান
শহীদব্যক্তি
ভাষা শহীদ
২২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন শহরে ছড়িয়ে পড়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে মারা যান।
নবাবপুর রোড, ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২।
তার মৃত্যু দেখায় একুশের শোক ও প্রতিবাদ কেবল একদিনে সীমিত থাকেনি; তা পুরো শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।
বিস্তারিত→শহীদ সাবের
নেতৃত্বব্যক্তি
লেখক ও প্রগতিশীল কর্মী
ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সমান্তরাল প্রগতিশীল সাহিত্যিক ও বামপন্থী সাংস্কৃতিক ধারার অংশ ছিলেন তিনি।
১৯৫০-এর দশকের শুরুতে পূর্ববাংলার সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক বাম পরিসর।
তার মতো ব্যক্তিত্বরা আন্দোলনের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিকে আরও গভীর করে তোলেন।
বিস্তারিত→সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
সংগঠনজোট
সমন্বয়ক ফ্রন্ট
১৯৫২ সালের শুরুতে দল, ছাত্রসংগঠন ও কর্মীদের একত্র করে এই কমিটি সমন্বিত আন্দোলনের পরিকল্পনা করে।
ঢাকা, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ১৯৫২।
২১ ফেব্রুয়ারির গণঅমান্যকে বাস্তবে রূপ দিতে এই কমিটি সংগঠনিক কাঠামো প্রদান করে।
বিস্তারিত→হামিদুর রহমান
সমন্বয়কব্যক্তি
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশাকার
পরে নির্মিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নকশা করে তিনি ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে স্থায়ী স্থাপত্যরূপ দেন।
১৯৫০-এর শেষভাগ ও ১৯৬০-এর দশকে ভাষা আন্দোলনের স্মারক নির্মাণ।
তার কাজ শহীদের স্মৃতিকে শোক, প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের স্থায়ী জনপরিসরে পরিণত করে।
বিস্তারিত→কৃষক শ্রমিক পার্টি
সংগঠনদল
পূর্ব বাংলার কৃষক-শ্রমিক রাজনৈতিক দল
“১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টে এ. কে. ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক দল।”
কৃষক শ্রমিক পার্টি এ. কে. ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক রাজনীতির ধারাকে যুক্তফ্রন্টের প্রচার ও ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করে।
পূর্ব বাংলার কৃষিভিত্তিক রাজনীতি, যুক্তফ্রন্টের জোটগঠন এবং ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী মুসলিম লীগবিরোধী রাজনীতি।
এটি যুক্তফ্রন্টের স্বায়ত্তশাসন কর্মসূচিকে বাংলার গ্রামীণ, কৃষক ও শ্রমিক দাবির সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করে।
১৯৫৪যুক্তফ্রন্টফজলুল-হককৃষক-রাজনীতি
বিস্তারিত→গণতন্ত্রী দল
সংগঠনদল
পূর্ব বাংলার বামঘেঁষা রাজনৈতিক দল
“পূর্ব বাংলার গণতান্ত্রিক ও বামঘেঁষা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত যুক্তফ্রন্টের একটি অংশীদার।”
গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে অংশ নিয়ে গণতান্ত্রিক, বামধারার ও প্রতিনিধিত্ব-সংক্রান্ত দাবিকে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত করে।
ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী রাজনীতি, যুক্তফ্রন্টের জোটগঠন এবং ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক নির্বাচন।
এর উপস্থিতি স্বায়ত্তশাসন, প্রতিনিধিত্ব এবং মুসলিম লীগ আধিপত্যবিরোধী রাজনীতির ভাষাকে বিস্তৃত করে।
১৯৫৪যুক্তফ্রন্টবাম-রাজনীতিপূর্ব-বাংলা
বিস্তারিত→নেজামে ইসলাম পার্টি
সংগঠনদল
পূর্ব বাংলা ও পাকিস্তানের ইসলামী রাজনৈতিক দল
“১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের একটি ইসলামী দলীয় অংশীদার।”
নেজামে ইসলাম যুক্তফ্রন্টে অংশ নিয়ে ১৯৫৪ সালের মুসলিম লীগবিরোধী নির্বাচনী প্রচারকে ধর্মভিত্তিক, কৃষকভিত্তিক ও স্বায়ত্তশাসনমুখী শক্তির বিস্তৃত জোটে পরিণত করতে সহায়তা করে।
ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী প্রেক্ষাপট, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন রাজনীতি এবং ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা আইনসভা নির্বাচন।
এর অংশগ্রহণ দেখায় যে যুক্তফ্রন্ট কেবল একটি দলীয় জোট ছিল না; এটি কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ শাসনের বিরুদ্ধে ভিন্নধারার বিরোধী শক্তিকে একত্র করেছিল।
১৯৫৪যুক্তফ্রন্টপূর্ব-বাংলাইসলামী-রাজনীতি
বিস্তারিত→যুক্তফ্রন্ট
সংগঠনজোট
পূর্ব বাংলার বিরোধী নির্বাচনী জোট
“ভাষা-পরবর্তী অসন্তোষকে পূর্ব বাংলায় মুসলিম লীগের বড় নির্বাচনী পরাজয়ে রূপ দেওয়া জোট।”
যুক্তফ্রন্ট আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের শক্তিকে ২১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে এক করে ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করে।
ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী রাজনীতি, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি এবং ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা আইনসভা নির্বাচন।
এর বিপুল বিজয় পূর্ব বাংলার ভোটারদের কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ শাসনের বিরুদ্ধে বড় শক্তি হিসেবে দেখায় এবং পরবর্তী স্বায়ত্তশাসন রাজনীতিকে শক্তিশালী করে।
১৯৫৪যুক্তফ্রন্টপূর্ব বাংলাস্বায়ত্তশাসন রাজনীতি
বিস্তারিত→আইয়ুব খান
নেতৃত্বব্যক্তি
সামরিক শাসক ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট
আইয়ুব খান বাংলা ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক ধারায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বাংলা অঞ্চলে দক্ষিণ এশীয় রাজনৈতিক ও বৌদ্ধিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট।
তাঁর উত্তরাধিকার বাংলা/বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সমাজ ও স্মৃতির ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।
বিস্তারিত→তোফায়েল আহমেদ
নেতৃত্বব্যক্তি
আওয়ামী লীগ সংগঠক
এরশাদবিরোধী সময়ে তিনি দলীয় কাঠামোকে বৃহত্তর প্রতিবাদী পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত রাখতে সাহায্য করেন।
১৯৮০-এর শেষভাগ ও ১৯৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর।
তাদের ভূমিকা স্বৈরশাসনের অবসান ঘটানো গণঅভ্যুত্থানকে বিস্তৃত, বৈধ এবং কার্যকর করে তোলে।
১৯৯০গণতন্ত্রএরশাদবিরোধী আন্দোলনদলীয় রাজনীতি
বিস্তারিত→চারু মজুমদার
নেতৃত্বব্যক্তি
র্যাডিকাল বাম রাজনৈতিক সংগঠক
“পশ্চিমবঙ্গে নকশালপন্থী রাজনৈতিক লাইনের এক কেন্দ্রীয় ও বিতর্কিত স্থপতি।”
তিনি এমন এক মাওবাদী বামধারা নির্মাণ ও সংগঠিত করেন, যা ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগ ও ১৯৭০-এর শুরুর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে।
কৃষি বৈষম্য ও শীতল যুদ্ধ-পর্বের মতাদর্শিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে নকশালবাড়ি-সংযুক্ত বিপ্লবী লাইনের মধ্যে তাঁর রাজনীতি বিকশিত হয়।
বাংলার বিপ্লবী বাম রাজনীতির আলোচনায় তিনি একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত রেফারেন্স।
পশ্চিমবঙ্গবাম-রাজনীতিনকশালবিতর্কিত-ইতিহাস
বিস্তারিত→আ স ম আবদুর রব
নেতৃত্বব্যক্তি
ছাত্রনেতা ও ১৯৭১ সালের পতাকা উত্তোলন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব
ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি ১৯৭১ সালের মার্চে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবির গণমোবিলাইজেশন এবং বাংলাদেশের উদীয়মান জাতীয় পতাকার প্রকাশ্য প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
১৯৭১ সালের মার্চে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্ররাজনীতি, অসহযোগ আন্দোলন ও গণসংগঠনের প্রেক্ষাপট।
তার ১৯৭১-সম্পর্কিত ভূমিকা যুদ্ধের পূর্ণ সামরিক পর্যায়ের আগের ছাত্ররাজনীতি ও প্রতীকী স্বাধীনতার দাবিকে বৃহত্তর স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করে।
১৯৭১মুক্তিযুদ্ধরাজনৈতিক নেতৃত্ব
বিস্তারিত→