Battle of Plassey, 1757
1757 · Plassey
Language Movement, 1952
1952 · Language
Liberation War, 1971
1971 · Liberation
Partition of Bengal and Swadeshi movement, 1905
1905 · Partition
❦

Discover Bengal · Unfolded

❦

সকল মূল ব্যক্তিত্ব

✦

অবদান, প্রেক্ষাপট ও প্রভাবভিত্তিক ডিরেক্টরি

প্রতিটি প্রোফাইলে কী করেছেন, কোথায় করেছেন, কেন গুরুত্বপূর্ণ—এই তিন স্তরে উপস্থাপন করা হয়েছে।

Est. 1947 · Bengal✺A Bilingual Archive

ফিল্টার ও সার্চ

✦

কিওয়ার্ড, সত্তার ধরন ও ভূমিকা দিয়ে তালিকা বাছাই করুন

ব্যক্তিত্ব ডিরেক্টরি

✦

552 প্রোফাইল

সিরিল র্যাডক্লিফ

সমন্বয়কব্যক্তি

বাউন্ডারি কমিশনের চেয়ারম্যান

তিনি বাংলা ও পাঞ্জাবের চূড়ান্ত বিভাজনরেখা নির্ধারণকারী বাউন্ডারি কমিশনের প্রধান ছিলেন।

জুলাই-আগস্ট ১৯৪৭-এর সীমারেখা নির্ধারণ প্রক্রিয়া।

র্যাডক্লিফ পুরস্কার বাংলার মানচিত্র স্থায়ীভাবে বদলে দেয় এবং বসতি, বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়।

১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকারসীমান্ত নির্ধারণ
বিস্তারিত→

সুফিয়া কামাল

নেতৃত্বব্যক্তি

সাংস্কৃতিক ও নাগরিক কণ্ঠ

বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও মর্যাদাভিত্তিক জনজীবনের পক্ষে তিনি শক্তিশালী নৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান নেন।

ভাষা আন্দোলনের সময় ও পরে পূর্ববঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিসর।

তিনি ছাত্রপ্রতিবাদের সীমা ছাড়িয়ে আন্দোলনের চেতনাকে বৃহত্তর নাগরিক সংস্কৃতিতে পৌঁছে দেন।

১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকারবুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস
বিস্তারিত→

হিন্দু মহাসভা

সংগঠনদল

ব্রিটিশ ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সংগঠন

“দেশভাগ-পর্বের বাংলায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির প্রাদেশিক কৌশলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হিন্দু রাজনৈতিক সংগঠন।”

হিন্দু মহাসভা শেষ ঔপনিবেশিক বাংলার দেশভাগ, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বাংলা ভাগের প্রচারণা-সংক্রান্ত বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু রাজনৈতিক সংগঠন ছিল।

শেষ ঔপনিবেশিক বাংলা, সাম্প্রদায়িক প্রতিনিধিত্বের রাজনীতি, যুক্তবাংলা বিতর্ক এবং ১৯৪৭ সালের দেশভাগ আলোচনা।

বাংলায় এর অবস্থান যুক্তবাংলা বা অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম লীগ শাসনের বিকল্প হিসেবে প্রদেশ ভাগের ধারণাকে কেন্দ্রীয় করে তোলে।

হিন্দু মহাসভাদেশভাগ১৯৪৭শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি
বিস্তারিত→

হুমায়ুন কবির

নেতৃত্বব্যক্তি

বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক

সাংবিধানিক ও শিক্ষাবিষয়ক বিতর্কে তিনি বাঙালি উদারবুদ্ধিজীবী ধারার প্রতিনিধিত্ব করেন।

ঔপনিবেশিক শাসনের শেষভাগ ও স্বাধীনতাত্তোর জনজীবন।

তার চিন্তাধারা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বাইরে বহুত্ববাদী, নাগরিক ও শিক্ষাভিত্তিক ভবিষ্যতের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি ধারা তুলে ধরে।

১৯৪৭দেশভাগভাষা অধিকারবুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস
বিস্তারিত→

আবুল খায়ের

নেতৃত্বব্যক্তি

ভাষা আন্দোলনের কর্মী

“আবুল খায়ের ১৯৫২-এর আগে ও সময়ে বাংলা ভাষার দাবি ধরে রাখা কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব করেন।”

আবুল খায়ের বাংলা ভাষার দাবির সংগঠন ও জনরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন ভাষা আন্দোলনকর্মী ছিলেন।

১৯৪০-এর দশকের শেষ থেকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন পর্যন্ত পূর্ববাংলার ভাষা-রাজনীতি।

তাঁর প্রোফাইল স্থানীয় সংগঠনকে বৃহত্তর ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত কর্মীদের ভূমিকা সংরক্ষণ করে।

বিস্তারিত→

রফিকউদ্দিন আহমেদ

নেতৃত্বব্যক্তি

ভাষা আন্দোলনের শহীদ

“বাংলাদেশের একুশে ও শহীদ মিনার ঐতিহ্যে স্মরণীয় ভাষা আন্দোলনের শহীদ।”

রফিকউদ্দিন আহমেদ (১৯২৬–১৯৫২) পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষা আন্দোলনের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-এর মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত প্রতিবাদকারীদের একজন। তাঁর মৃত্যু আন্দোলনের শহীদ-কেন্দ্রিক জনস্মৃতির অংশ হয়ে ওঠে।

১৯৪৭-এর পর শিক্ষা, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাংলার স্বীকৃতির দাবিকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে ওঠে। শিক্ষার্থী ও কর্মীরা সমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ অমান্য করে বাংলার মর্যাদা দাবি করার সময় ফেব্রুয়ারির নির্ণায়ক পর্যায়ে আহমেদ নিহত হন; একই সময়ে আবুল বরকত, আবদুল জব্বারসহ আরও অনেকে প্রাণ হারান।

শহীদ মিনারের স্মরণ, একুশে পালন এবং ভাষা-অধিকারের বৃহত্তর রাজনৈতিক স্মৃতিতে আহমেদের নাম সংরক্ষিত। তাঁর গুরুত্ব শুধু জীবনীতে নয়: নিহতদের স্মৃতি ভাষার দাবিকে বাঙালির সাংস্কৃতিক মর্যাদা, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত আত্মত্যাগের ধারণার সঙ্গে যুক্ত করে।

ভাষা-আন্দোলনভাষা-শহীদএকুশেশহীদ-মিনার
বিস্তারিত→

শফিউর রহমান

নেতৃত্বব্যক্তি

ভাষা আন্দোলনের শহীদ

“১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারির শোকমিছিলে নবাবপুর রোডে নিহত ভাষা আন্দোলনের শহীদ।”

শফিউর রহমান (১৯১৮–১৯৫২) ছিলেন একজন সরকারি কর্মচারী ও ভাষার অধিকারের সমর্থক, যিনি ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের ২১ ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডের পরের শোকমিছিলে ঢাকার নবাবপুর রোডে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

জনজীবন ও রাষ্ট্রীয় পরিসরে বাংলার স্বীকৃতির দাবিকে কেন্দ্র করে ভাষা আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। রহমানের মৃত্যু দেখায় যে আন্দোলনের দমন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; প্রকাশ্য বিক্ষোভে যোগ দেওয়া বা তার মধ্যে থাকা সাধারণ কর্মী ও বাসিন্দারাও শহীদ-ইতিহাসের অংশ হন।

রহমানের স্মৃতি একুশের সামাজিক অর্থকে এক দিনের ছাত্রবিক্ষোভের বাইরে বিস্তৃত করে। বার্ষিক স্মরণ, শহীদ মিনার এবং ২১ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক ভাষা-অধিকারের উত্তরাধিকারের মধ্য দিয়ে তাঁর নাম বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার জনইতিহাসে রয়ে গেছে।

ভাষা-আন্দোলনভাষা-শহীদএকুশেশহীদ-মিনার
বিস্তারিত→

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়

নেতৃত্বব্যক্তি

ভাষাবিদ

“সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষাবিজ্ঞান ও ভাষার ইতিহাসের অন্যতম প্রধান গবেষক ছিলেন।”

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রধান ভাষাবিদ, যিনি বাংলা ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য ভাষার ইতিহাস, গঠন ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণা করেন।

বিংশ শতকের ভাষাবিজ্ঞান, বাংলা সাহিত্য-গবেষণা এবং ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক।

তাঁর গবেষণা তুলনামূলক দক্ষিণ এশীয় ভাষাচর্চায় বাংলার স্থান নির্ধারণে সহায়তা করে এবং আধুনিক বাংলা ভাষা-গবেষণাকে প্রভাবিত করে।

বিস্তারিত→

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

সংগঠনদল

রাজনৈতিক সংগঠন

এই সমষ্টি বা সংগঠন এরশাদবিরোধী আন্দোলনকে কেবল দলীয় লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং গণতান্ত্রিক প্রতিরোধকে সামাজিকভাবে আরও বিস্তৃত ও টেকসই করেছে।

১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানকে গড়ে তোলা বৃহত্তর প্রতিবাদী সংস্কৃতি।

তাদের উপস্থিতি দেখায় যে গণঅভ্যুত্থান সাংগঠনিক গভীরতা, সামাজিক জোট এবং সমন্বিত জনঅংশগ্রহণের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল।

১৯৯০গণতন্ত্রএরশাদবিরোধী আন্দোলনদলীয় রাজনীতি
বিস্তারিত→

আবদুল ওয়াহেদ

নেতৃত্বব্যক্তি

ভাষা আন্দোলনের সংগঠক ও কর্মী

“বাংলার স্বীকৃতির দাবিতে ১৯৪৮ সালের মিছিলে গ্রেপ্তার হওয়া প্রাথমিক ভাষা আন্দোলনের একজন কর্মী।”

আবদুল ওয়াহেদ ভাষা আন্দোলনের ১৯৪৮ সালের পর্যায়ে গ্রেপ্তার হওয়া রাজনৈতিক ও ছাত্রকর্মীদের মধ্যে ছিলেন। সে সময় আন্দোলনকারীরা পাকিস্তানের সরকারি ও সাংবিধানিক পরিসরে বাংলার স্বীকৃতির দাবি তুলেছিলেন।

তাঁর কর্মকাণ্ড ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক সংগঠনিক পর্যায়ের সঙ্গে যুক্ত, যা ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-এর পুলিশি গুলিবর্ষণের আগের সময়। ১৯৪৮ সালের মিছিল, ধর্মঘট ও গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতা পরবর্তী গণসংগঠনের ভিত্তি তৈরি করে।

ওয়াহেদ ১৯৪৮ সালের প্রথম প্রতিবাদ থেকে ১৯৫২ সালের শহীদদের সময় পর্যন্ত ভাষার দাবিকে টিকিয়ে রাখা বৃহত্তর কর্মীবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন। এই প্রাথমিক সংগঠনের ইতিহাস স্মরণ করলে একুশে ফেব্রুয়ারিকে এক দিনের ঘটনা হিসেবে না দেখে দীর্ঘ রাজনৈতিক ধারার অংশ হিসেবে বোঝা যায়।

ভাষা-আন্দোলন১৯৪৮-এর-ভাষা-প্রতিবাদভাষার-অধিকারসংগঠন
বিস্তারিত→

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

নেতৃত্বব্যক্তি

গীতিকার, লেখক ও সাংবাদিক

““আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” গানের গীতিকার, যা ভাষা আন্দোলনের স্মরণের একটি সংজ্ঞায়ক গান।”

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” গানের কথা লেখেন, যা বাংলা ভাষা আন্দোলনের স্মরণে সবচেয়ে বেশি পরিবেশিত গানগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

ঢাকায় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির পুলিশি গুলিবর্ষণের পর তিনি এই গানটির কথা লেখেন। পরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে তিনি বাংলা লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবন গড়ে তোলেন।

গানটি ১৯৫২ সালের মৃত্যু ও দাবিকে একুশে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের নিয়মিত জনস্মরণ ও সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করে। তাঁর সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক ভাষ্যও বাংলাদেশের রাজনীতি, স্মৃতি ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্কে তাঁকে দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণকারী করে রাখে।

বিস্তারিত→

আবদুল জব্বার

শহীদব্যক্তি

ভাষা আন্দোলনের শহীদ ও বেসামরিক অংশগ্রহণকারী

“১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের প্রতিবাদে স্মরণীয় একজন বেসামরিক অংশগ্রহণকারী ও শহীদ।”

আবদুল জব্বার শাশুড়ির চিকিৎসার জন্য পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় আসেন এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে জনতার প্রতিবাদে যোগ দেন। পুলিশের গুলিবর্ষণে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং পরে মারা যান।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা ছিলেন না; পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ যখন সমবেত হয়, তখন তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রধান সংঘাতে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে যুক্ত হন।

জব্বারের মৃত্যু ভাষা আন্দোলনের শহীদ-স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠে এবং আন্দোলনকে দীর্ঘস্থায়ী নৈতিক ও নাগরিক অর্থ দেয়। তাঁর জীবনকথা আন্দোলনের সামাজিক ইতিহাসকে শুধু ক্যাম্পাসের কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিবাদে যোগ দেওয়া সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার দিকেও প্রসারিত করে।

ভাষা-আন্দোলনভাষা-শহীদ১৯৫২শহীদ-স্মৃতি
বিস্তারিত→

আবদুস সালাম

শহীদব্যক্তি

ভাষা আন্দোলনের শহীদ ও সরকারি কর্মচারী

“২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-এর গুলিবর্ষণে আহত হয়ে পরে মৃত্যুবরণ করা সরকারি কর্মচারী।”

আবদুস সালাম ঢাকায় কর্মরত একজন সরকারি কর্মচারী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের প্রতিবাদে যোগ দেন। পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেই আঘাতে মারা যান।

পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতির দাবিতে তাঁর অংশগ্রহণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে একজন কর্মজীবী নাগরিকের উপস্থিতি তুলে ধরে। গুলির দিনেই তিনি মারা যাননি; কয়েক সপ্তাহ পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

সালামের মৃত্যু ভাষা আন্দোলনের শহীদ-স্মৃতির অংশ হয়ে ওঠে। তাঁর জীবনকথা আন্দোলনে সাধারণ মানুষের বিস্তৃত অংশগ্রহণ এবং ২১ ফেব্রুয়ারির পুলিশি গুলির তাৎক্ষণিক দৃশ্যের বাইরেও চলতে থাকা পরিণতি বোঝায়।

ভাষা-আন্দোলনভাষা-শহীদ১৯৫২বেসামরিক-অংশগ্রহণকারী
বিস্তারিত→

আবু জাফর শামসুদ্দীন

নেতৃত্বব্যক্তি

সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও জনবুদ্ধিজীবী

“আবু জাফর শামসুদ্দীন কথাসাহিত্য, সাংবাদিকতা ও প্রবন্ধে বাঙালি মুসলিম সমাজ, ভাষার রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনকে বিশ্লেষণ করেছেন।”

আবু জাফর শামসুদ্দীন সাংবাদিকতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ, অনুবাদ এবং রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ভাষ্যকে একত্র করে বাঙালি মুসলিম সমাজ ও বাংলার পরিবর্তনশীল জনজীবনকে বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস পদ্মা মেঘনা যমুনায় বিংশ শতকের প্রথমার্ধে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক অভিজ্ঞতার দীর্ঘ পরিসর উঠে এসেছে; প্রবন্ধ ও কলামে ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনীতিও গুরুত্ব পেয়েছে।

১৯১১ সালে গাজীপুরের দক্ষিণবাগে জন্ম নেওয়া শামসুদ্দীন ঔপনিবেশিক বাংলার শেষপর্ব, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—এই পরিবর্তনশীল সময়ের সংবাদপত্র ও সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। আজাদ, ইত্তেফাক, পূর্বদেশ ও সংবাদসহ বিভিন্ন পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন; ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে সাংস্কৃতিক সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। বাংলা পরিচয়, মুসলিম সমাজের অভিজ্ঞতা, ভাষার অধিকার ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্ক তাঁর লেখার বৌদ্ধিক পটভূমি তৈরি করে।

সাহিত্যিক বাস্তবতা ও জনপরিসরের যুক্তির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করাই শামসুদ্দীনের গুরুত্ব। উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, আত্মস্মৃতি ও কলামে তিনি সামাজিক পরিবর্তন নথিবদ্ধ করেছেন এবং বাঙালি পরিচয়কে সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক বা কর্তৃত্ববাদী ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ করার বিরোধিতা করেছেন। ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানি সাহিত্য—এসব রচনা বাংলা থেকে বাংলাদেশের রূপান্তর বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

লেখকসাংবাদিকতাসংস্কৃতিমুসলিম-ইতিহাস
বিস্তারিত→

আবুল কালাম শামসুদ্দীন

নেতৃত্বব্যক্তি

ভাষা আন্দোলনের সম্পাদক, সাংবাদিক ও জনসমর্থক

“দৈনিক আজাদের সম্পাদক, যিনি ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের প্রথম অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেন।”

দৈনিক আজাদের সম্পাদক হিসেবে আবুল কালাম শামসুদ্দীন ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-এর গুলিচালনার পর জনস্মরণে সমর্থন দেন এবং ভাষা শহীদদের প্রথম অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

ভাষা আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ, সংবাদপত্র ও জনশোকের সংযোগস্থলে তাঁর ভূমিকা গড়ে ওঠে। পরবর্তী স্মৃতিচর্চা বিকশিত হওয়ার আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে এই অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়।

শামসুদ্দীন সংবাদপত্র ও স্মরণানুষ্ঠানের মাধ্যমে নিহতদের স্মৃতিকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদস্থল থেকে বৃহত্তর জনপরিসরে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন।

ভাষা-আন্দোলনদৈনিক-আজাদসংবাদপত্রের-ইতিহাসশহীদ-স্মৃতি
বিস্তারিত→

আবুল বরকত

শহীদব্যক্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ভাষা আন্দোলনের শহীদ

“১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের প্রতিবাদে পুলিশের গুলিতে নিহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।”

আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এমএ শিক্ষার্থী ছিলেন। পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতির দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে সেদিন সন্ধ্যায় মারা যান।

ভাষা আন্দোলনের নির্ণায়ক সংঘাতের সময় তাঁর মৃত্যু ঘটে, যখন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ১৪৪ ধারা অমান্য করে মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের কাছে সমবেত হয়েছিল। এই আন্দোলনে ভাষার অধিকার পূর্ব বাংলার প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক মর্যাদার দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়।

বরকত বাংলাদেশের ২১ ফেব্রুয়ারির স্মৃতির অন্যতম কেন্দ্রীয় শহীদ হয়ে ওঠেন। ১৯৬৩ সালে তাঁর মা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন—ফলে ব্যক্তিগত শোক আন্দোলনের স্থায়ী জনস্মৃতি ও স্মৃতিসৌধের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়।

ভাষা-আন্দোলনভাষা-শহীদ১৯৫২ঢাকা-বিশ্ববিদ্যালয়
বিস্তারিত→

আমানুল হক

নেতৃত্বব্যক্তি

ভাষা আন্দোলনের আলোকচিত্রী ও দৃশ্যমান ইতিহাসের নথিকার

“১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও শহীদদের দৃশ্যমান স্মৃতি সংরক্ষণ করা আলোকচিত্রী।”

আমানুল হক ভাষা আন্দোলন ও তার পরবর্তী সময়ের প্রতিবাদ, শোক এবং ১৯৫২ সালের শহীদদের দৃশ্যমান স্মৃতি আলোকচিত্রে সংরক্ষণ করেন।

তাঁর কাজ ১৯৫২ সালের আন্দোলন ও পরবর্তী স্মৃতিসংস্কৃতির দৃশ্যমান নথির অংশ। আলোকচিত্র প্রত্যক্ষদর্শীদের বাইরের মানুষের কাছেও ঘটনাগুলো পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।

হকের আলোকচিত্র একুশকে শুধু রাজনৈতিক আখ্যান নয়, দৃশ্যমান জনস্মৃতিতেও পরিণত করতে সাহায্য করে। লিখিত সাক্ষ্যের পাশাপাশি আলোকচিত্রী ও আর্কাইভের ভূমিকার গুরুত্বও তাঁর কাজ মনে করিয়ে দেয়।

বিস্তারিত→

আলতাফ মাহমুদ

নেতৃত্বব্যক্তি

সাংস্কৃতিক কর্মী ও একুশের স্মৃতির সুরকার

“তিনি একুশের স্মৃতিকে এমন এক সুর দেন, যা জাতি আজও বহন করে।”

ভাষা আন্দোলনের সাংস্কৃতিক পরিসরে সক্রিয় থেকে তিনি পরে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” গানের সুরারোপ করেন, যা একুশের স্মৃতির সবচেয়ে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত হয়।

ভাষা আন্দোলন এবং তার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার।

তার সুর ১৯৫২-এর স্মৃতিকে কেবল রাজনৈতিক নয়, আবেগ, শোক এবং প্রতিরোধের এক জীবন্ত জনস্মৃতিতে রূপ দেয়।

বিস্তারিত→

আলাউদ্দিন আল আজাদ

নেতৃত্বব্যক্তি

লেখক, কবি ও সাংস্কৃতিক কর্মী

“ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত লেখক ও কবি।”

আলাউদ্দিন আল আজাদ ছিলেন বাংলাদেশের একজন লেখক ও কবি, যাঁর কাজ পূর্ব বাংলায় বাংলা ভাষা ও রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের পক্ষে প্রগতিশীল সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক ধারার অংশ।

ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে সাহিত্য, নাটক, সাংবাদিকতা ও জনস্মৃতির যে সাংস্কৃতিক রাজনীতি গড়ে ওঠে, তাঁর কাজ সেই বৃহত্তর পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত।

আল আজাদের অবস্থান দেখায়, বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সক্রিয়তা কীভাবে রাজনৈতিক প্রতিবাদের যুক্তিকে শক্তিশালী করেছিল। তাঁর লেখা আন্দোলনের অর্থ পরবর্তী প্রজন্মে বহন করা সাংস্কৃতিক আর্কাইভের অংশ।

বিস্তারিত→

আহমদ রফিক

নেতৃত্বব্যক্তি

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসবিদ, লেখক ও ব্যাখ্যাকার

“ভাষা আন্দোলনের রাজনৈতিক তাৎপর্য নথিবদ্ধ করা ইতিহাসবিদ ও লেখক।”

আহমদ রফিক ইতিহাসরচনা, প্রবন্ধ ও জনবুদ্ধিজীবী কাজের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন এবং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নথিবদ্ধ ও ব্যাখ্যা করেন।

তাঁর কাজ ১৯৫২-পরবর্তী সাক্ষ্য সংরক্ষণ, ঘটনাক্রম পুনর্গঠন এবং পূর্ব বাংলায় ভাষা, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক দাবির সম্পর্ক ব্যাখ্যার ধারার অংশ।

রফিক বাংলাদেশের ইতিহাস ও সাহিত্যিক আলোচনায় ভাষা আন্দোলনকে জীবন্ত রাখতে সাহায্য করেন। তাঁর কর্মজীবন দেখায়, আন্দোলনের উত্তরাধিকার পরবর্তী গবেষক ও ব্যাখ্যাকারদের কাজেও নির্মিত হয়েছে।

বিস্তারিত→