শ্রীচন্দ্র
নেতৃত্বব্যক্তি
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার চন্দ্র শাসক
“তাম্রশাসনে দশম শতকের দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার পরিচয় উন্মোচিত করা চন্দ্র শাসক।”
চন্দ্র রাজবংশের দ্বিতীয় এবং অন্যতম প্রভাবশালী শাসক শ্রীচন্দ্র দশম শতকে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক রাষ্ট্রকে সংহত করেন।
পশ্চিমভাগ তাম্রশাসন এবং ময়নামতি অঞ্চলের তাম্রশাসনসহ বিভিন্ন তাম্রলিপি তাঁর শাসন সম্পর্কে প্রধান তথ্য দেয়। এসব উৎস তাঁকে বঙ্গ, সমতট ও হরিকেলের সঙ্গে যুক্ত করে এবং পাল-কেন্দ্রভূমির বাইরে বৌদ্ধ পৃষ্ঠপোষকতা, ভূমিদান ও রাজনৈতিক জগতের পরিচয় তুলে ধরে।
শ্রীচন্দ্রের নথি দেখায় যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় নিজস্ব স্থায়ী রাজকীয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছিল। তিনি বৌদ্ধ শাসক হলেও ব্রাহ্মণ্য প্রতিষ্ঠানকে ভূমিদান করেছেন—যা তাঁর সময়ের রাষ্ট্রগঠন ও ধর্মীয় পৃষ্ঠপোষকতার জটিলতা বোঝাতে সাহায্য করে।
বাংলাআঞ্চলিক-ইতিহাসচন্দ্র-রাজবংশশিলালিপি
বিস্তারিত→ভবদেব
নেতৃত্বব্যক্তি
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সঙ্গে যুক্ত দেব শাসক
“ময়নামতির লিপি ও বৌদ্ধ প্রত্ননিদর্শনের মাধ্যমে স্মরণীয় প্রারম্ভিক দেব রাজবংশের শেষ পরিচিত শাসক।”
ভবদেব ছিলেন সমতটের প্রারম্ভিক দেব রাজবংশের শেষ পরিচিত শাসক; এই আঞ্চলিক রাজনৈতিক কেন্দ্রটি ময়নামতি-লালমাই অঞ্চলের দেবপর্বতের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর তাম্রশাসন এবং তাঁর নামে যুক্ত বিহার-সংক্রান্ত লিপি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় রাজকীয় কর্তৃত্ব ও বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানের বিরল প্রমাণ দেয়।
প্রারম্ভিক দেব শাসকদের ইতিহাস মূলত লিপি, মুদ্রা, সিলমোহর এবং ময়নামতির প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে জানা যায়। পুনর্গঠিত বংশতালিকায় শান্তিদেব, বিরদেব ও আনন্দদেবের পর ভবদেবের অবস্থান; তাঁকে সাধারণত খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকের শেষ বা নবম শতকের শুরুর সময়ের শাসক ধরা হয়, যদিও টিকে থাকা প্রমাণে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবরণ নেই।
ভবদেবের নথি সমতটের রাজনৈতিক ইতিহাসকে ময়নামতির বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র ও স্থাপত্যভূদৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত করে। এই প্রমাণ দেখায় যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার ইতিহাস শুধু বৃহৎ সাম্রাজ্যিক কেন্দ্র দিয়ে নয়, আঞ্চলিক রাজদরবার, নদীপথের যোগাযোগ এবং বিহার-পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমেও গঠিত হয়েছিল।
বাংলাআঞ্চলিক-ইতিহাসপ্রত্নতত্ত্ব
বিস্তারিত→