লাহোর প্রস্তাব
দেশভাগ ও অন্তিম ঔপনিবেশিক রাজনীতি
১৯৪০ সালের মার্চে অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং বাংলার এ. কে. ফজলুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবের ভাষায় বলা হয় যে ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকাগুলোকে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহে' বিন্যস্ত করতে হবে, যেখানে গঠনতান্ত্রিক এককগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। 'পাকিস্তান' শব্দটি না থাকলেও এটি সাংবিধানিক রাজনীতির এক বড় মোড় তৈরি করে।
বাংলার দুর্ভিক্ষ
দেশভাগ ও অন্তিম ঔপনিবেশিক রাজনীতি
১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষে ভয়াবহ অনাহার ও মৃত্যুর ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধকালীন অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি, খাদ্যবাজারের ভাঙন এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনের নীতিগত ব্যর্থতা সংকটকে আরও তীব্র করে, যার প্রধান আঘাত পড়ে গ্রামীণ পরিবার ও শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর।
ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে ও গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং
দেশভাগ ও অন্তিম ঔপনিবেশিক রাজনীতি
১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট সাংবিধানিক সমঝোতা ভেঙে পড়ার পর পাকিস্তানের দাবিকে জোরদার করতে অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে পালন করে। বাংলায়, যেখানে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার প্রধান ছিলেন, ক্যালকাটার হরতাল ও জনসমাবেশ দ্রুত ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় পরিণত হয়। ক্যালকাটার হত্যাযজ্ঞ, পরে নোয়াখালি ও বিহারসহ অন্যত্র প্রতিশোধমূলক সহিংসতা, অন্তিম ঔপনিবেশিক ভারতে সহাবস্থানের সংকটকে চূড়ান্তভাবে উন্মুক্ত করে এবং বঙ্গভাগের সম্ভাবনাকে অনেক বেশি বাস্তব করে তোলে।