ঈশানচন্দ্র রায়
পাবনার কৃষক সংগঠক
“ঈশানচন্দ্র রায়ের সহায়তায় গড়ে ওঠা পাবনা আন্দোলন পরবর্তী বাংলার কৃষি-রাজনীতির একটি রেফারেন্স পয়েন্ট, যা প্রমাণ করেছিল সংগঠিত আইনি প্রতিরোধ জমিদারি ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে।”
ঈশানচন্দ্র রায় ১৮৭৩-১৮৭৬ সালের পাবনা কৃষক বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন। পাবনা জেলাজুড়ে প্রজা-রায়তরা জমিদারদের অবৈধ খাজনা-বৃদ্ধি ও নানা আদায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি একটি কৃষক সমিতি গঠনে ভূমিকা রাখেন, যা প্রজাদের মধ্যে সমন্বয় করত: অবৈধ বাড়তি খাজনা দিতে অস্বীকৃতি, দেওয়ানি আদালতে মামলা এবং গ্রামে গ্রামে সংহতি রক্ষা। এই আন্দোলন শারীরিক সংঘাতের চেয়ে আইনি লড়াইকে প্রাধান্য দিয়ে জমিদারি দাবির বিরুদ্ধে ঔপনিবেশিক আদালত ব্যবস্থাকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।
ঔপনিবেশিক বাংলার পাবনা জেলা (বর্তমান বাংলাদেশ), ১৮৭৩-১৮৭৬। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পর কৃষিজ কাঠামো জমিদারদের ভূমি-নিয়ন্ত্রণ ও খাজনা বৃদ্ধির ক্ষমতা দিয়েছিল। সংগঠিত প্রতিরোধ ও আদালতি লড়াই প্রমাণ করে যে জমিদারি দাবিকে আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব।
ঈশানচন্দ্র রায়ের সহায়তায় গড়ে ওঠা পাবনা আন্দোলন পরবর্তী বাংলার কৃষি-রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স পয়েন্টে পরিণত হয়। এটি প্রমাণ করে যে সংগঠিত আইনি আন্দোলন জমিদারি ক্ষমতাকে সীমিত করতে এবং শহুরে বাঙালি বুদ্ধিজীবী ও সংবাদপত্রের সহানুভূতি আকর্ষণ করতে পারে। আন্দোলনের পরিধি ও পদ্ধতি ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখে, যা প্রজা-রায়তদের অনিয়ন্ত্রিত খাজনা-বৃদ্ধির বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা দেয়।