হর্ষবর্ধন
নেতৃত্বব্যক্তি
থানেশ্বর ও কনৌজের শাসক
ভ্রাতা রাজ্যবর্ধনের পর হর্ষবর্ধন সিংহাসনে বসেন এবং প্রথমে থানেশ্বর, পরে কনৌজকে কেন্দ্র করে উত্তর ভারতের প্রধান শাসকে পরিণত হন। গৌড়ের শশাঙ্ককে ঘিরে সংঘাতে তিনি কামরূপের ভাস্করবর্মণের সঙ্গে জোট গড়েন। এই জোট উত্তর ভারতের রাজনীতিকে বাংলা ও তার আশপাশের ক্ষমতার লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত করে।
গুপ্ত শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ার পর সপ্তম শতকের শুরুতে থানেশ্বর, কনৌজ, গৌড় ও কামরূপ গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বী কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসে।
হর্ষবর্ধনের শাসন সম্পর্কে বাণভট্টের হর্ষচরিত, শিলালিপি এবং চীনা পরিব্রাজক শুয়ানজাংয়ের ভ্রমণবৃত্তান্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। এসব সূত্র থেকে তৎকালীন রাজনৈতিক ভূগোল, দরবারি সংস্কৃতি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানা যায়; তবে প্রত্যেকটির দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা হওয়ায় এগুলো সতর্কতার সঙ্গে পড়তে হয়।
কনৌজথানেশ্বরগৌড়ভাস্করবর্মণ
বিস্তারিত→ভাস্করবর্মণ
নেতৃত্বব্যক্তি
কামরূপের রাজা ও আঞ্চলিক মিত্র
ভাস্করবর্মণ সপ্তম শতকের শুরুতে কামরূপ শাসন করেন এবং গৌড়ের শাসক শশাঙ্ককে ঘিরে চলা সংঘাতে উত্তর ভারতের হর্ষবর্ধনের মিত্র হন। এই জোট কামরূপকে বাংলা, বিহার ও উত্তর ভারতের বৃহত্তর আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বে যুক্ত করে।
গুপ্ত শক্তির পতনের পর পূর্ব ও উত্তর ভারতের রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সময়, যখন কামরূপ, গৌড় ও হর্ষবর্ধনের রাজ্য ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা অববাহিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কূটনীতি চালাত।
ভাস্করবর্মণের তাম্রশাসন এবং চীনা পরিব্রাজক শুয়ানজাংয়ের বিবরণ এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তাঁর আমলের একটি দানপত্র কর্ণসুবর্ণের বিজয়শিবির থেকে জারি হয়েছিল বলে জানা যায়; এতে বোঝা যায় কামরূপের ক্ষমতা অল্প সময়ের জন্য গৌড়ের রাজনৈতিক কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যদিও সেই নিয়ন্ত্রণের সময়কাল ও পরিসর নিয়ে ঐতিহাসিক ব্যাখ্যায় সতর্কতা প্রয়োজন।
কামরূপগৌড়শশাঙ্কসপ্তম-শতকের-বাংলা
বিস্তারিত→