Discover Bengal · Unfolded
❦রওনক জাহান, রেহমান সোবহান
স্রষ্টা/অবদানকারী
এই নামের সাথে যুক্ত সব রিসোর্স একসাথে দেখুন।
সম্পর্কিত ইভেন্ট
১০
১৯৭১
মুক্তিযুদ্ধ
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ জন্ম নেয় ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় অস্বীকার, মার্চের অসহযোগ আন্দোলন, এবং ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দমন অভিযানের প্রেক্ষাপটে। পরবর্তী অধ্যায়টি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রের সংঘর্ষ নয়; এখানে ছিল অস্থায়ী সরকার, সেক্টরভিত্তিক সশস্ত্র প্রতিরোধ, ভারতে গণশরণার্থী প্রবাহ, এবং ডিসেম্বরের সামরিক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম।
১৯৭২
রাষ্ট্রগঠন ও ১৯৭২-এর সংবিধান
১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধজয়ের পর রাষ্ট্রগঠনের কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করে। জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে এসে নতুন সরকারকে নেতৃত্ব দেন, এপ্রিলে গণপরিষদ কাজ শুরু করে, এবং ৪ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়ে ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। এই বছর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সংসদীয় সরকার, মৌলিক অধিকার, এবং জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
১৯৭৫
বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও পতন
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়ায়: বাকশাল কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়া, রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড, এবং ৩ নভেম্বর জেলহত্যা। এই ধারাবাহিক ঘটনা রাষ্ট্র, দলীয় রাজনীতি ও সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে বদলে দেয়।
১৯৮২
এরশাদের অভ্যুত্থান ও সামরিক শাসনের প্রত্যাবর্তন
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন, প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে অপসারণ করেন, সংবিধানের অংশবিশেষ স্থগিত করেন এবং সামরিক আইন জারি করেন। এই অভ্যুত্থান দেরি-সত্তরের অস্থিরতার পর গড়ে ওঠা ভঙ্গুর বেসামরিক পরীক্ষার ইতি টানে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে সামরিক বাহিনীকে আবার সরাসরি ফিরিয়ে আনে। এর পরের সময়টি শুধু শাসকবদল নয়; এটি ছিল নতুন এক কর্তৃত্ববাদী পর্বের সূচনা, যা প্রতিষ্ঠান, দলীয় রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের ভাষাকে নতুনভাবে গড়ে তোলে।
১৯৯০
গণঅভ্যুত্থান
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশে সামরিক-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে বহু বছরের প্রতিরোধের চূড়ান্ত পর্ব। ছাত্ররাজনীতি, ১৯৮৭-তে নূর হোসেনের শহীদ হওয়া, বিরোধী জোটগুলোর সমন্বয়, এবং পেশাজীবী-নাগরিক চাপ মিলিয়ে এমন এক শেষ ধাক্কা তৈরি হয়, যা এরশাদের পদত্যাগ ঘটায় এবং শাহাবুদ্দীন নেতৃত্বাধীন রূপান্তর ও ১৯৯১-এর সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেয়।
২০০৬-২০০৮
তত্ত্বাবধায়ক সংকট ও জরুরি শাসন
২০০৬ সালের শেষভাগ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বাংলাদেশ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে ঘিরে তীব্র সংকট অতিক্রম করে। বিতর্কিত নির্বাচন-প্রস্তুতি, রাজপথের সংঘাত, ১১ জানুয়ারির জরুরি অবস্থা এবং দীর্ঘ অনির্বাচিত প্রশাসনের পর দেশ আবার নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরে আসে।
২০০৭-২০০৮
জরুরি আমলের তত্ত্বাবধায়ক শাসন
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির জরুরি ঘোষণার পর বাংলাদেশ দীর্ঘ তত্ত্বাবধায়ক শাসনপর্বে প্রবেশ করে, যা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় সমর্থনে পরিচালিত হয়। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, রাজনৈতিক আটক এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস একটি অনির্বাচিত কাঠামোর মধ্যে চলতে থাকে; পরে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারে প্রত্যাবর্তন ঘটে। সমসাময়িক বাংলাদেশের সবচেয়ে বিতর্কিত রূপান্তরগুলোর একটি হিসেবে এই সময়কাল এখনও আলোচিত।
২০১৩
শাহবাগ আন্দোলন
২০১৩ সালের শুরুতে ঢাকার শাহবাগে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে কঠোর জবাবদিহির দাবিতে ব্যাপক গণসমাবেশ গড়ে ওঠে। শিক্ষার্থী, ব্লগার, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণে শাহবাগ একটি ধারাবাহিক প্রতিবাদমঞ্চে পরিণত হয় এবং স্মৃতি-রাজনীতি ও ন্যায়বিচার জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রে আসে।
২০১৮
প্রতিবাদ, নিয়ন্ত্রণ ও বিতর্কিত বৈধতার বছর
২০১৮ সালে বাংলাদেশে শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদ, আইনি নিয়ন্ত্রণের বিস্তার এবং নির্বাচনী সংঘাত দ্রুত ধারাবাহিকতায় দেখা যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন দেখায় যে শিক্ষার্থীরা ন্যায়, জবাবদিহি ও দৈনন্দিন শাসন-সংক্রান্ত প্রশ্নে দ্রুত সংগঠিত হতে পারে। পরে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট মতপ্রকাশ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়, আর বছরের শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণ, বৈধতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ককে আরও গভীর করে।
২০২৪
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন
২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন শুরু হয় সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থার পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনে নামে। এই আন্দোলন দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং এক পর্যায়ে তা বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিবাদে রূপ নেয়।