মীর কাসিমের সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যুদ্ধ
ঔপনিবেশিক শাসন ও প্রতিরোধ
✦
১৭৬৩ সালে বাণিজ্য সুবিধা, রাজস্ব ও কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধের পর নবাব মীর কাসিম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘর্ষে জড়ান। এই যুদ্ধ বাংলার রাজনীতিকে ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধ ও কোম্পানির পরবর্তী রাজস্ব আধিপত্যের দিকে ঠেলে দেয়।
বক্সারের যুদ্ধ
ঔপনিবেশিক শাসন ও প্রতিরোধ
✦
১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে মীর কাসিম, শুজাউদ্দৌলা ও শাহ আলম দ্বিতীয়ের সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে নির্ণায়ক সামরিক সুবিধা দেয়। পলাশী বাংলায় প্রভাবের দরজা খুলেছিল, কিন্তু বক্সার সেই প্রভাবকে বৃহত্তর আঞ্চলিক বলপ্রয়োগী ক্ষমতায় রূপ দেয়। এর ফল ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি বন্দোবস্ত এবং গভীরতর ঔপনিবেশিক রাজস্ব-নিয়ন্ত্রণের পথ তৈরি করে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি অধিকার পায়
ঔপনিবেশিক শাসন ও প্রতিরোধ
✦
১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি, অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ের অধিকার, লাভ করে। এই বন্দোবস্ত পলাশী-পরবর্তী প্রভাবকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ক্ষমতায় রূপ দেয়। মুঘল ও নবাবি প্রতিষ্ঠান আংশিক বহাল থাকলেও রাজস্ব আহরণ, প্রশাসনিক প্রভাব ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ক্রমে কোম্পানির দিকে সরে যায়।
মহা বাংলা দুর্ভিক্ষ
ঔপনিবেশিক শাসন ও প্রতিরোধ
✦
১৭৭০ সালের দুর্ভিক্ষ বাংলাকে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে ফেলেছিল। ফসলহানি, খাদ্যবাজারের বিকৃতি এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কঠোর রাজস্ব আদায় একত্রে পরিবেশগত সংকটকে সামাজিক ধসের দিকে ঠেলে দেয়। এই অধ্যায় দেখায়, ঔপনিবেশিক রাজনৈতিক অর্থনীতি কীভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।