রাষ্ট্রগঠন ও ১৯৭২-এর সংবিধান
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র
১৯৭২ সালে বাংলাদেশ যুদ্ধজয়ের পর রাষ্ট্রগঠনের কঠিন পর্যায়ে প্রবেশ করে। জানুয়ারিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে এসে নতুন সরকারকে নেতৃত্ব দেন, এপ্রিলে গণপরিষদ কাজ শুরু করে, এবং ৪ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়ে ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। এই বছর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সংসদীয় সরকার, মৌলিক অধিকার, এবং জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়।
দুর্ভিক্ষ, জরুরি নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় সংকট
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরের সবচেয়ে গুরুতর সংকটগুলোর একটির মুখোমুখি হয়। বন্যা, খাদ্যবাজারের ব্যর্থতা, যুদ্ধোত্তর অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং দুর্বল প্রশাসন মিলে 'চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ' তৈরি করে, যার সবচেয়ে ভয়াবহ অভিঘাত পড়ে গ্রামীণ বাংলায়। একই বছর স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আরও কঠোর প্রয়োগ দেখায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আশার জায়গা ধীরে ধীরে ভয়, অভাব এবং দমনমূলক শাসনে রূপ নিচ্ছে।
বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও পতন
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র
১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়ায়: বাকশাল কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়া, রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড, এবং ৩ নভেম্বর জেলহত্যা। এই ধারাবাহিক ঘটনা রাষ্ট্র, দলীয় রাজনীতি ও সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে বদলে দেয়।
এরশাদের অভ্যুত্থান ও সামরিক শাসনের প্রত্যাবর্তন
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন, প্রেসিডেন্ট আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে অপসারণ করেন, সংবিধানের অংশবিশেষ স্থগিত করেন এবং সামরিক আইন জারি করেন। এই অভ্যুত্থান দেরি-সত্তরের অস্থিরতার পর গড়ে ওঠা ভঙ্গুর বেসামরিক পরীক্ষার ইতি টানে এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে সামরিক বাহিনীকে আবার সরাসরি ফিরিয়ে আনে। এর পরের সময়টি শুধু শাসকবদল নয়; এটি ছিল নতুন এক কর্তৃত্ববাদী পর্বের সূচনা, যা প্রতিষ্ঠান, দলীয় রাজনীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের ভাষাকে নতুনভাবে গড়ে তোলে।
গণঅভ্যুত্থান
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশে সামরিক-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে বহু বছরের প্রতিরোধের চূড়ান্ত পর্ব। ছাত্রসমাজ, বিরোধী রাজনৈতিক জোট, পেশাজীবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে পদত্যাগে বাধ্য করে এবং তত্ত্বাবধায়ক-নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথ তৈরি করে।
তত্ত্বাবধায়ক সংকট ও জরুরি শাসন
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র
২০০৬ সালের শেষভাগ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বাংলাদেশ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে ঘিরে তীব্র সংকট অতিক্রম করে। বিতর্কিত নির্বাচন-প্রস্তুতি, রাজপথের সংঘাত, ১১ জানুয়ারির জরুরি অবস্থা এবং দীর্ঘ অনির্বাচিত প্রশাসনের পর দেশ আবার নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরে আসে।