আবুল কাসেম
নেতৃত্বব্যক্তিভাষা আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক পথিকৃৎ
তামদ্দুন মজলিশের মাধ্যমে তিনি বাংলা রাষ্ট্রভাষার দাবিতে প্রাথমিক সংগঠিত প্রচারণা গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন।
দেশভাগ-পরবর্তী ঢাকা, বিশেষ করে ছাত্র ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর।
তিনি ভাষার প্রশ্নকে প্রথম দিকেই সুসংগঠিত বুদ্ধিবৃত্তিক ও জনরাজনৈতিক রূপ দিতে সাহায্য করেন।
বিস্তারিতআবদুল মতিন
সমন্বয়কব্যক্তিভাষা আন্দোলনের সংগঠক
ভাষা মতিন নামে পরিচিত তিনি ১৯৫২ সালে সরাসরি আন্দোলনের পক্ষে সবচেয়ে দৃশ্যমান ছাত্রনেতাদের একজন ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১৯৪৮-১৯৫২ পর্যায়ের আন্দোলনের সমন্বয়।
তিনি বাংলা ভাষার দাবিকে সংগঠিত পথের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ দিতে সাহায্য করেন।
বিস্তারিতকাজী গোলাম মাহবুব
সমন্বয়কব্যক্তিছাত্রনেতা ও আহ্বায়ক
৩১ জানুয়ারি ১৯৫২ গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে তিনি আন্দোলনের প্রধান সংগঠকদের একজন ছিলেন।
ঢাকার ছাত্ররাজনীতি এবং ১৯৫২ সালের আন্দোলনের সমন্বয়।
তার সংগঠকসুলভ ভূমিকা বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদকে একটি সুস্পষ্ট ও দৃশ্যমান গণআন্দোলনে রূপ দিতে সাহায্য করে।
বিস্তারিতএএনএম গাজীউল হক
নেতৃত্বব্যক্তিভাষা আন্দোলনের নেতা
২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-এর ঐতিহাসিক আমতলা সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন, যেখানে ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২-এর সিদ্ধান্তময় মুহূর্ত।
তার নেতৃত্ব আন্দোলনের ইতিহাসে সেই মুহূর্তকে চিহ্নিত করে, যখন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিস্তারিতঅলি আহাদ
নেতৃত্বব্যক্তিছাত্র ও রাজনৈতিক কর্মী
তিনি ভাষা আন্দোলনের লড়াকু তরুণ সংগঠকদের একজন ছিলেন এবং প্রাথমিক পর্যায় থেকেই আন্দোলনের ঢেউয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
পূর্ববঙ্গের ছাত্ররাজনীতি ও রাস্তাভিত্তিক প্রতিবাদ।
তার ভূমিকা ভাষার প্রশ্নকে কেবল প্রতীকি নয়, সক্রিয় রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রশ্নে পরিণত করে।
বিস্তারিতশামসুল হক
সমন্বয়কব্যক্তিভাষা-দাবির প্রাথমিক কমিটির আহ্বায়ক
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে গঠিত প্রাথমিক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি ১৯৪৮-পরবর্তী পর্যায়ে আন্দোলনকে সংগঠিত রাখেন।
পূর্ববঙ্গে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠনিক পর্যায়।
তার ভূমিকা প্রথম দিকের প্রতিবাদ থেকে ১৯৫২-এর চূড়ান্ত পর্যায়ের মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
বিস্তারিতশেখ মুজিবুর রহমান
নেতৃত্বব্যক্তিছাত্রসংগঠক ও জাতীয় নেতা
দেশভাগের প্রথম ক্ষত থেকে স্বাধীনতার শেষ লড়াই পর্যন্ত তার জনজীবন একটি দীর্ঘ সেতু।
দেশভাগের অব্যবহিত পর থেকেই পূর্ববঙ্গে তিনি ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠক হিসেবে উঠে আসেন; ভাষার অধিকার, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন এবং পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিকে যাওয়া গণআন্দোলনে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা নেন।
পূর্ববঙ্গ ও পূর্ব পাকিস্তান, ১৯৪৮-১৯৭১; ভাষা-রাজনীতির শুরু থেকে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার সংগ্রাম।
তার রাজনৈতিক পথ ১৯৪৭-পরবর্তী প্রতিনিধিত্ব ও ভাষা সংকটকে পরবর্তী আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রগঠনের দাবির সঙ্গে যুক্ত করে।
language-rightsautonomynationalism
বিস্তারিতমোহাম্মদ তোয়াহা
নেতৃত্বব্যক্তিবামপন্থী ছাত্রকর্মী
তিনি ভাষার প্রশ্নকে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ও বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেন এবং ১৯৪৮ সালের আন্দোলনে আহত হন।
১৯৪৭-পরবর্তী পূর্ববঙ্গের বামপন্থী ছাত্ররাজনীতি।
তার মতো কর্মীরা ভাষা আন্দোলনকে কেবল ভাষাগত নয়, গণতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববিরোধী সংগ্রামের অংশ করে তোলেন।
বিস্তারিতআবদুল মালেক উকিল
নেতৃত্বব্যক্তিছাত্রকর্মী
ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ের মিছিল, পিকেটিং এবং ছাত্রসমাবেশে তিনি অংশ নেন।
১৯৪০-এর শেষভাগ ও ১৯৫০-এর শুরুর ছাত্রসমাজের প্রতিবাদ।
তার মতো কর্মীরাই প্রথম দাবির পর্যায় থেকে আত্মত্যাগের পর্যায় পর্যন্ত আন্দোলনকে ধরে রেখেছিলেন।
বিস্তারিতধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
নেতৃত্বব্যক্তিভাষা-অধিকার আন্দোলনের প্রবক্তা
১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি তুলে তিনি ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেন।
দেশভাগের পর পাকিস্তানের প্রাথমিক সাংবিধানিক বিতর্ক।
তিনি ভাষাকে সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে পরিণত করেন এবং বাংলা ভাষা আন্দোলনের ভিত্তি নির্মাণে সাহায্য করেন।
বিস্তারিতমুহম্মদ শহীদুল্লাহ
নেতৃত্বব্যক্তিভাষাবিদ ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্তৃত্ব
রাষ্ট্রীয় নীতিতে বাংলা ভাষাকে খাটো করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তিনি বাংলার ঐতিহাসিক মর্যাদা ও বৈধতার পক্ষে দাঁড়ান।
পাকিস্তানের শুরুর ভাষা ও পরিচয় বিতর্ক।
তার জ্ঞানচর্চা আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসকে দৃঢ় করে।
বিস্তারিতসুফিয়া কামাল
নেতৃত্বব্যক্তিসাংস্কৃতিক ও নাগরিক কণ্ঠ
বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও মর্যাদাভিত্তিক জনজীবনের পক্ষে তিনি শক্তিশালী নৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান নেন।
ভাষা আন্দোলনের সময় ও পরে পূর্ববঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিসর।
তিনি ছাত্রপ্রতিবাদের সীমা ছাড়িয়ে আন্দোলনের চেতনাকে বৃহত্তর নাগরিক সংস্কৃতিতে পৌঁছে দেন।
বিস্তারিতমুনীর চৌধুরী
নেতৃত্বব্যক্তিশিক্ষক, নাট্যকার ও ভাষা আন্দোলনের বুদ্ধিজীবী
১৯৫২ সালের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং কারাগারে বসে “কবর” নাটক লেখেন, যা ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী সাহিত্যিক প্রতিক্রিয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কারাবাস, এবং ১৯৫০-এর দশকের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক পরিসর।
তিনি ভাষা আন্দোলনকে এমন এক নাট্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক রূপ দেন, যা তাৎক্ষণিক সংঘর্ষের বহু বাইরে স্থায়ী প্রভাব ফেলে।
বিস্তারিতআবদুল হামিদ খান ভাসানী
নেতৃত্বব্যক্তিগণরাজনৈতিক সংগঠক
দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গে তিনি জনঅসন্তোষকে বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা অন্যতম বড় গণসংগঠকে পরিণত হন।
১৯৪০-এর শেষভাগ ও ১৯৫০-এর শুরুর দিকের পূর্ববঙ্গ।
তার নেতৃত্ব আঞ্চলিক বঞ্চনাকে সংগঠিত গণআন্দোলনের ভাষা দেয় এবং কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে।
বিস্তারিতআবুল হাশিম
নেতৃত্বব্যক্তিবাংলা মুসলিম লীগের সংগঠক
বাংলা মুসলিম লীগের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও মতাদর্শিক নেতা হিসেবে তিনি পরে যুক্ত বাংলা ধারণাকেও সমর্থন করেন।
১৯৪০-এর দশকের বাংলা মুসলিম রাজনীতি।
দেশভাগের সংকটে তিনি বাঙালি মুসলিম রাজনীতির একটি স্বতন্ত্র ভাষা নির্মাণে ভূমিকা রাখেন।
বিস্তারিততমিজউদ্দীন খান
নেতৃত্বব্যক্তিপূর্ববঙ্গের সাংবিধানিক নেতা
ভাষা ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন যখন তীব্র হয়ে উঠছে, ঠিক সেই সময় পাকিস্তানের সাংবিধানিক কাঠামোয় তিনি পূর্ববঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ ছিলেন।
পাকিস্তানের প্রাথমিক প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানগুলো।
তার উপস্থিতি দেখায় ভাষার প্রশ্নটি আসলে ফেডারেল গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রে পূর্ববঙ্গের মর্যাদার বৃহত্তর সংকটের সঙ্গেও যুক্ত ছিল।
বিস্তারিতনুরুল আমিন
নেতৃত্বব্যক্তিপূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী
দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গের শাসনকাঠামোতে তিনি কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।
পাকিস্তানের অধীনে পূর্ববঙ্গের সূচনাপর্ব।
তার শাসনকাল পাকিস্তানের ভেতরে পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধিত্ব, ভাষা ও শাসন সংকটকে স্পষ্ট করে তোলে।
বিস্তারিতখাজা নাজিমুদ্দীন
নেতৃত্বব্যক্তিমুসলিম লীগ নেতা
বাংলায় মুসলিম লীগের অভিজাত ধারার প্রতিনিধিত্ব করে তিনি দেশভাগের আগে ও পরে পূর্ববঙ্গকে পাকিস্তানের নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে নেতৃত্ব দেন।
ঔপনিবেশিক আমলের শেষভাগের বাংলা এবং পাকিস্তানের সূচনাপর্ব।
তার রাজনৈতিক ভূমিকা বাংলার দেশভাগ ও পূর্ববঙ্গের প্রারম্ভিক রাষ্ট্রীয় অবস্থানকে একসূত্রে যুক্ত করে।
বিস্তারিতলিয়াকত আলী খান
নেতৃত্বব্যক্তিমুসলিম লীগের রাষ্ট্রনেতা
চূড়ান্ত সাংবিধানিক সমঝোতায় তিনি মুসলিম লীগের অন্যতম প্রধান আলোচক ছিলেন এবং পরে পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।
ক্ষমতা হস্তান্তর ও পাকিস্তানের প্রারম্ভিক রাষ্ট্রগঠন।
তার রাজনৈতিক ভূমিকা সর্বভারতীয় পাকিস্তান দাবিকে পূর্ববঙ্গ-সমেত নতুন রাষ্ট্রের প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে।
বিস্তারিতমুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
নেতৃত্বব্যক্তিসর্বভারতীয় মুসলিম লীগ নেতা
পাকিস্তান দাবির প্রধান নেতা হিসেবে তিনি সেই রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণে নেতৃত্ব দেন যার মাধ্যমে পূর্ববঙ্গ নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের অংশ হয়।
উপমহাদেশজুড়ে সাংবিধানিক হস্তান্তর ও দেশভাগ সংক্রান্ত আলোচনা।
পাকিস্তান সৃষ্টিতে তার ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়, আর পূর্ববঙ্গ সেই রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান অংশে পরিণত হয়।
বিস্তারিত